Friday, October 23, 2026
  • সম্পর্কিত
  • যোগাযোগ
  • শর্তাবলী
  • গোপনীয়তা নীতি
  • বিজ্ঞাপন দিন
  • Login
দৈনিক দেশের সংবাদ
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • বিশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশ
  • করোনাভাইরাস
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • বিভাগ সমূহ
    • ঢাকা বিভাগ
    • চট্টগ্রাম বিভাগ
    • সিলেট বিভাগ
    • খুলনা বিভাগ
    • রাজশাহী বিভাগ
    • বরিশাল বিভাগ
    • রংপুর বিভাগ
    • ময়মনসিংহ বিভাগ
  • চাকরি
  • খেলা ধুলা
  • বিনোদন
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
দৈনিক দেশের সংবাদ
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • বিশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশ
  • করোনাভাইরাস
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • বিভাগ সমূহ
    • ঢাকা বিভাগ
    • চট্টগ্রাম বিভাগ
    • সিলেট বিভাগ
    • খুলনা বিভাগ
    • রাজশাহী বিভাগ
    • বরিশাল বিভাগ
    • রংপুর বিভাগ
    • ময়মনসিংহ বিভাগ
  • চাকরি
  • খেলা ধুলা
  • বিনোদন
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
দৈনিক দেশের সংবাদ
No Result
View All Result
Home আলোচিত নিউজ/ছবি

আমার জানামতে সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ বেনিফিসিয়ারি জেনারেল আতাউল গণী ওসমানী।

admin by admin
February 28, 2026
in আলোচিত নিউজ/ছবি, ইতিহাসের পাতায়, জাতীয়, মতামত
Reading Time: 3 mins read
1 0
A A
0
0
SHARES
7
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter
জেনারেল আতাউল গণী ওসমানীঃ
আমার জানামতে সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ বেনিফিসিয়ারি জেনারেল আতাউল গণী ওসমানী। মহান মুক্তিযুদ্ধ এমএজি ওসমানী সাহেবের ভাগ্য সুপ্রসন্ন করে দেয়। আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েট জনাব ওসমানী ১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়া আর্মিতে যোগ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তাঁকে ইমার্জেন্সি কমিশন দেওয়া হয়। জুনিয়র অফিসার হিসেবে তিনি বার্মাফ্রন্টে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৪৭সালের পর তিনি পাকিস্তান আর্মিতে যোগ দেন এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তিনি পাকিস্তানের কোয়েটাতে স্টাফ কলেজ কোর্স করেন। এই সময়ে জেনারেল ইয়াহিয়া, জেনারেল টিক্কা খান ও জেনারেল এ. কে নিয়াজী একই সাথে তাঁর কোর্সমেট ছিলেন। ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট অপরিসীম ভূমিকা রাখে। কাসুর সেক্টরে তাঁরা বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে লাহোরকে রক্ষা করেন। যদিও এই যুদ্ধে কর্নেল ওসমানীকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তবে বেঙ্গল রেজিমেন্ট বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯টি পদক পায়, যার ভিতর দুটি পদক ছিল পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সিতারা-ই-জুরিক। রেজিমেন্ট হিসাবে এটাই ছিল পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পদকধারী। যুদ্ধে তাঁর রেজিমেন্ট সর্বোচ্চ সংখ্যক পদক পেলেও তিনি ছিলেন সাইড লাইনে দায়িত্বহীন। যুদ্ধের পর ওসমানী সাহেবের একগুঁয়েমি মনোভাবের ও টিমওয়ার্কের সমন্বয়ের অভাবের কারণে তাঁর প্রাপ্ত প্রমোশন আটকে যায়। ফলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে তাঁর সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। ১৯৬৭ সালের প্রথম দিকে তাঁর চাকুরির মেয়াদ শেষ হলো। দীর্ঘ ২৮ বৎসর চাকুরী শেষে কর্নেল হিসেবে অবসরে যান। এল.পি.আর.এ থাকাকালীন সময়ে তিনি রাও ফরমান আলীর হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
‘৭০-এর নির্বাচনের আগে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করে কালীগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ আসনের MNA নির্বাচিত হন। কমান্ডার মোয়াজ্জেম, মেজর জেনারেল ইসফাকুল মজিদ ও কর্নেল ওসমানী অবসরপ্রাপ্ত বাঙালি সামরিক কর্মকর্তাদের সংগঠিত করে একটি Millitary Advisory Committe গঠন করেন। তাঁরা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তনে সামগ্রিক সামরিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখার দায়িত্ব নেন। পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত সকল বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইউনিট গুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা, তাদেরকে প্রয়োজন মতো প্রস্তুত রাখা, যাতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায়। জেনারেল মজিদ ও কর্নেল ওসমানীর বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাথে নিবিড় সম্পর্ক ছিল। কারণ এই রেজিমেন্ট তাদেরই নিজ হাতে গড়া।
এদিকে মজিদ-ওসমানীর নেতৃত্বে ‘এক্স সার্ভিসম্যান’ নামে সেনা সংগঠন গঠিত হয়। তারা প্রয়োজনে ছাত্র-জনতার পাশে থাকার অঙ্গীকার করে। পরিস্থিতি ক্রমাগত উত্তপ্ত হতে থাকে বিশেষ করে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর। এক্স সার্ভিসম্যানদের সংগঠন বায়তুল মোকাররমে সমাবেশ করে স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায়। মিছিল সহকারে ৩২ নম্বরে এসে একটি ‘সোর্ড অব অনার’ বঙ্গবন্ধুর হাতে তুলে দেন। মজিদ-ওসমানী একটি সম্মিলিত অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেন যথা: ঢাকার তেজগাঁ বিমান বন্দর ও চট্টগ্রাম ঘাঁটি ও পোর্ট দখলে নেওয়া। পুলিশ, EPR ও আওয়ামী লীগ, ছাত্র-জনতাদের দ্বারা ঢাকা শহর দখল, বেঙ্গল রেজিমেন্টকে ব্যবহার করে সেনানিবাসগুলো দখলে নেওয়া হবে পাকিস্তানিদের বন্দি করা। চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের একমাত্র রিফাইনারি ও নারায়ণগঞ্জ ওয়েল ডিপো বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হবে। পাকিস্তানিদের আকাশ শক্তি ও ভুল চলাচল বন্ধ করার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ধারণা দেওয়া হয় যেহেতু ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট তাদের নিজ হাতে গড়া এবং তাদের গ্রহণযোগ্যতা ছিল বিধায় তাদের পরিকল্পনা যথেষ্ট বাস্তবধর্মী ছিল।
সিনিয়ার অফিসারদের মধ্যে একমাত্র চট্টগ্রামের GOC ছিলেন বাঙালি ব্রিগেডিয়ার এম আর মজুমদার ও যশোর ক্যান্টনমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন বাঙালি লে. কর্নেল রেজাউল জলিল।
মিলিটারি অ্যাডভাইজার গ্রুপের পরিকল্পনা এসেছিল ওসমানী সাহেব এবং জেনারেল মজিদের মাধ্যমে কিন্তু তারা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগই নেন নাই।
পঁচিশে মার্চ কালরাতে এসজি ওসমানী ও জেনারেল মজিদ পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। কমান্ডার মোয়াজ্জেম নিজ বাসভবনে আক্রান্ত হয়ে নিহত হন। ওসমানী সাহেব ২৯ মার্চ জিনজিরা হয়ে দাউদকান্দি চলে যান। চিহ্নিত হওয়ার ভয়ে তিনি তার ট্রেড মার্ক গোঁফ কেটে ফেলেন। কিন্তু চলনে-বলনে সন্দেহ হওয়াতে দাউদকান্দিতে স্থানীয় লোক তাঁকে আটক করে। পরে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাহায্যে তিনি মুক্তি পান। পরে ২ এপ্রিল তিনি আগরতলায় পৌঁছেন।
মার্চের প্রথম থেকেই সারা বাংলা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ছাত্রলীগ প্রতিটি ইউনিট এলাকা ভিত্তিক আনসার পুলিশের সহযোগিতায় ট্রেনিং সেন্টার খোলে।
এদিকে আওয়ামী লীগ লিডারশিপ রক্তপাত এড়ানোর জন্য একটি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য ইয়াহিয়া খানের সাথে আলোচনা অব্যাহত রাখেন। পাকিস্তানিরা তাদের সৈন্যসংখ্যা বাড়াতে থাকে এবং পরে বাঙালিদের উপর আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে থাকে। বাঙালি সাধারণ সৈন্য ও জুনিয়র অফিসারগণ যথেষ্ট উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন এবং তাঁরা প্রস্তুতি নিতে থাকেন। সাধারণ সৈন্যদের প্রায় সকলেই স্বাধীনতার প্রশ্নে বিদ্রোহ করে যুদ্ধে যেতে রাজি ছিলেন। পক্ষান্তরে বেশিরভাগ সিনিয়র বাঙালি অফিসার কোনো প্রকার কনফ্রনটেশনে যেতে আগ্রহী ছিলেন না। মজিদ-ওসমানীর অ্যাকশন প্ল্যান কাগজে-কলমে হলেও বাস্তবে তারা কোনো পদক্ষেপ নেন নাই। ফলে পঁচিশে মার্চের কালরাত্রে পাকিস্তানিরা তাদের পরিকল্পনা মাফিক অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনা করে। ইয়াহিয়া খানের সংগোপনে ঢাকা ত্যাগ, সেই রাতেই পাকিস্তানিদের বর্বর আক্রমণ- আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং বেঙ্গল রেজিমেন্টকে অফগার্ডে ফেলে দেয়।
ওসমানী সাহেব জেনারেল মজিদের সাথে কোনো যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন কি না জানা যায় না। তবে ধারণা করা যেতে পারে জেনারেল মজিদ যদি ভারতে পৌঁছাতে পারতেন তাহলে তিনিই হতেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান। দুঃখজনকভাবে এমএজির মিলিটারি অ্যাডভাইজরি গ্রুপ সেইরকম কোনো উদ্যোগ নেননি। অবসরে গেলেও বেঙ্গল রেজিমেন্টের কাছে ওসমানী সাহেবের গ্রহণযোগ্যতা ছিল। সে কথা বিবেচনা করে এমএজিকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানিদের পক্ষ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে সম্ভবত সেই দুশ্চিন্তায় তিনি এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে গিয়েও পিছিয়ে গেছেন। আমি এটাকে তাঁর দায়িত্ব অবহেলার প্রথম এবং সর্ববৃহৎ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করি।
অপারেশন সার্চলাইট এর কালরাতে ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু যখন প্রচণ্ড ব্যস্ত আওয়ামী লীগ সিনিয়র নেতাদেরকে তিনি শেষমুহূর্তে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন, তখনও ওসমানী সাহেবকে ৩২ নম্বরে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। ইয়াহিয়া খানের সংগোপনে ঢাকা ত্যাগের খবর প্রকাশ হয়ে গেছে। অথচ অপারেশন সার্চলাইট এর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টার, পিলখানায় EPR এর উপর আক্রমণ হওয়ার পর তারা প্রতিরোধ করার অনুরূপভাবে বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে অপ্রস্তুত বাঙালি সেনাদের উপর আক্রমণ করা হয়। ওসমানী সাহেব আগরতলায় পৌঁছান এপ্রিলের ২ তারিখে। সেখানে আগে থেকেই পৌঁছেছিলেন বেঙ্গল রেজিমেন্টের বেশকিছু সেনাকর্মকর্তা। এপ্রিল ৪ তারিখে আগরতলার তেলিয়াপাড়া নামক স্থানে বাঙালি সেনাকর্মকর্তারা এক বৈঠকে মিলিত হন। উপস্থিত ছিলেন জনাব ওসমানী, এম এ রব, কে এম শফিউল্লাহ, চতুর্থ বেঙ্গলের সিও খালেদ মোশাররফ। ৮ম বেঙ্গলের সিও মেজর জিয়াউর রহমান, সালাউদ্দিন রেজা, কাজী নুরুজ্জামান, সাফায়াত জামিল, প্রমুখ। রণকৌশল নির্ধারণী সভায় ওসমানী সাহেব প্রস্তাব করেন সম্মিলিত আক্রমণ করে কুমিল্লা দখল করতে হবে। বেশিরভাগ সেনা কর্মকর্তা এই পরিকল্পনার সাথে একমত হতে পারলেন না। মেজর জিয়া প্রস্তাব করেন দ্বিতীয়, চতুর্থ ও ৮ম বেঙ্গল একযোগে চট্টগ্রাম আক্রমণ করে দখল নিতে। এই প্রস্তাব সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও ওসমানী সাহেবের দোদুল্যমান সিদ্ধান্তে তা ভণ্ডুল হয়ে যায়। আপাতত পাঁচজন সেক্টর কমান্ডার নির্বাচনের পর সভা শেষ হয়।
এদিকে তাজউদ্দিন আহমেদ পদ্মা পার হয়ে মাগুরা পৌঁছান। সেখানে থেকে জনাব ওলিউর রহমান এসডিও মাগুরা, মাহবুব রহমান এসপি ঝিনাইদহ, তৌফিক এলাহী চৌধুরী এসডিও মেহেরপুর, যারা পঁচিশে মার্চ রাতেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন, তাদের সহযোগিতায় মেহেরপুর সীমান্তে পৌঁছান। তাজউদ্দিন সাহেব বেআইনীভাবে ভারতে প্রবেশ করতে চাননি। তিনি সীমান্তে বসে ভারতের BSF-কে খবর পাঠান। BSF-এর তরফ থেকে সাথে সাথে তাদের আঞ্চলিক হেড অফিসের গোলক মজুমদারকে জনাব তাজউদ্দিনের উপস্থিতির কথা জানানো হলে মি মজুমদার দিল্লিতে BSF প্রধান মি. রুস্তমজিকে খবর পাঠান। মি. রুস্তমজি অবিলম্বে জনাব তাজউদ্দিন আহমেদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানিয়ে কলকাতায় নিয়ে যেতে গোলক মজুমদারকে নির্দেশ দেন। পরদিন বিশেষ ব্যবস্থায় তিনি দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দেরা গান্ধীর সাথে সাক্ষাৎ করে আমাদের ন্যায্য সংগ্রামে সহযোগিতার আহ্বান জানান। অতঃপর নানা মতো ও পদ আলোচনা-সমালোচনার পর ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথপুরের আম্রকাননে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর প্রবাসী সরকার গঠন করা হলে ওসমানীকে সেনাপ্রধান হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এস. এ রবকে চিফ অব স্টাফ এবং ১১টি সেক্টরে ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৭০০০ সক্রিয় সেনা ও EPR সৈন্য নিয়ে নিয়মিত বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। সেক্টর কমান্ড পুনঃ প্রতিষ্ঠা, কমান্ডারদের সমন্বয় সাধন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ইত্যাদির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মুক্তিবাহিনীকে দুইভাগে ভাগ করা হয়। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্য ও EPR মিলিয়ে ১৭,০০০-১৮,০০০ সৈন্য নিয়ে গঠিত হয় নিয়মিত বাহিনী। ১১টি সেক্টরের কমান্ডের এই বাহিনীর কার্যক্রম শুধুমাত্র সীমান্ত অঞ্চলেই সীমাবন্ধ ছিল। ১১টি সেক্টর কমান্ডের HQ এর প্রতিটিই ভারতের অভ্যন্তরে যথেষ্ট নিরাপত্তায় বেষ্টিত ছিল। যেমন z Force এর অধিনায়ক জিয়া সাহেবের HQ ছিল সীমান্ত থেকে ১৮ মাইল দূরে মেঘালয়ের তুরা নামক একটি ছোট শহরে। এরা তুরা ব্রিগেড নামেই বেশি পরিচিত ছিল। দ্বিতীয় ভাগে ছিল F.F, যারা বেসামরিক লোকদের সমন্বয়ে গঠিত। এই বাহিনীতে ছিল ছাত্র, যুবক, কৃষক, শ্রমিক, গ্রামের আমজনতা। এরাই ছিল মুক্তিবাহিনীর মূল মেরুদণ্ড। স্বল্পতম ট্রেনিং ও স্বল্পতম অস্ত্র, খালি গায়ে, খালি পায়ে এরাই জীবন বাজি রেখে দেশের অভ্যন্তরে পাকিস্তানি ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে লড়েছে, জীবন দিয়েছে। সেনাবাহিনীর অফিসারগণ ছিলেন তাদের কমান্ডার কিন্তু তারা খুবই কম দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেন। ফলে নেতৃত্বহীন অবস্থায় এই F.F-রা জীবন দিয়ে হৃদয় দিয়ে লড়েছেন। বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। দেশের অভ্যন্তরে পাকিস্তানিদের যোগাযোগ, চলাফেরা ও পুনর্বিন্যাস ব্যবস্থা লন্ডভণ্ড-ছিন্নভিন্ন করেছেন। যুদ্ধশেষে এরা কোনো স্বীকৃতি পায়নি। পায়নি কোনো পদক। তাদের দায়িত্ব কেউ নেয়নি। তাদেরকে সম্পূর্ণ ভুলে যাওয়া হয়েছে।
যদিও নিয়মিত বাহিনীর একজন অফিসারকে মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া ছিল। তাদের কমান্ডার ছিলেন নিয়মিত বাহিনীর একজন অফিসার কিন্তু তিনি কদাচিৎ দেশের অভ্যন্তরে ঢুকতেন। F.F কমান্ডারগণ দেশের অভ্যন্তরে নিজ দায়িত্বে, নিজস্ব বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী, রাজাকারদের মোকাবেলা করে মুক্ত অঞ্চল গড়ে তুলেছিলেন। একই দেশের অভ্যন্তরে পাকিস্তানিদের কোমর ভেঙে দিয়েছিল। গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষ, শ্রমিক, কৃষক দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি পরিপূর্ণ ভাবে জনগণের জনযুদ্ধ।
জুলাই মাসের ১০-১৫ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ সেক্টর কমান্ডারদের প্রথম সম্মেলন ডাকেন। একমাত্র ওসমানী ছাড়া সকল সেক্টর কমান্ডারগণ ঐ সম্মেলনে যোগ দেন। কারণ জেনারেল ওসমানী এর একদিন আগে পদত্যাগ করেছেন। তাকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে পরেরদিন কনফারেন্সে আনা হয়। বেশ কয়েকজন সেক্টর কমান্ডার যুদ্ধের গতি বৃদ্ধির জন্য জিয়াউর রহমানকে চিফ কো অর্ডিনেটর করে একটি ওয়ার কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব দেন। কাজী নুরুজ্জামান এই প্রস্তাব পেশ করেন। ওসমানী সাহেবকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী করে মুজিব নগরে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়। তিনি এটি তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখেন। জিয়াউর রহমানের সাথে প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডার পর তিনি আবারও পদত্যাগ করেন।
তাজউদ্দিন সাহেব এমনিতেই নানামুখী চাপের ভিতর ছিলেন, বিশেষ করে দলের ভিতরেই তিনি ওসমানী সাহেবকে নিয়ে বাড়তি চাপ নিতে আগ্রহী ছিলেন না। ফলে ওসমানী সাহেব তাঁর স্বপদে বহাল থাকেন। তবে ধারাবাহিকভাবে সেক্টরে কমান্ডারদের সাথে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে।
কোনো সেক্টর কমান্ডারদের সাথে স্ট্রাটিজিক প্ল্যান, ডাইরেক্ট অ্যাকশন প্ল্যান করেছেন এই রকম কোনো নজির নেই। তিনি কোনোদিন কারও সাথে কোনো বিষয়ে একমত হতে পারতেন না। তিনি উগ্রমেজাজ ও পদমর্যাদার ব্যাপারে (Status) সচেতন থাকতেন। তুচ্ছ কারণে তিনি প্রায় ৪/৫ বার পদত্যাগ করে তাজউদ্দিন সাহেবের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। একবার তিনি ভারতীয় সেনাপ্রধান শ্যাম ম্যানেকশর সমান পদমর্যাদা দাবি করে বসেন, যা ছিল তাজউদ্দিন আহমেদের ক্ষমতার আওতার বাইরে। তবুও তিনি পদত্যাগের হুমকি দেন।
তিনি সর্বশেষ পদত্যাগ করেন ইস্টার্ন কমান্ডের যৌথবাহিনীর কমান্ডার জগজিৎ সিং অরোরার নিয়োগ নিয়ে। তিনি জেনারেল অরোরাকে মেনে নিতে অপারগতা জানিয়ে পদত্যাগ করেন। তাজউদ্দিন সাহেবের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যায়। তিনি এবার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। পরের দিন বিনা বাক্য ব্যয়ে ওসমানী সাহেব তাঁর অফিসে নিয়মিতভাবে কাজে যোগ দেন। আর সেটাই ছিল তাঁর ষোলই ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যোগদান না করার প্রথম কারণ। তবে তিনি এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার কোনোটিই সত্য ছিল না। যুদ্ধের ভিতরে তাঁর বিভিন্ন সেক্টর কমান্ডারদের সাথে মতবিরোধ সর্বজনবিদিত। অক্টোবরের দিকে সেক্টর কমান্ডারগণ সিদ্ধান্ত নেন যে তাঁরা বাংলাদেশের ভিতর একটি অঞ্চল দখল করে সেখানে মুক্ত অঞ্চল গড়ে তুলবেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁরা ময়মনসিংহকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।
শেষ মুহূর্তে এসে ওসমানী সিদ্ধান্ত বদলে সিলেটকে মুক্ত করার নির্দেশ দেন। ফলে পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এই ঘটনার পর জিয়াউর রহমানের সাথে তাঁর প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডা হয়। যার একটি সুদূরপ্রসারী মূল্য সবাইকে দিতে হয়। ১৯৭২ সালের এপ্রিলে কমান্ডার ইন চিফ পদ বিলুপ্ত করা হয়। ওসমানী সাহেব প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর সাথে দেন দরবার করতে থাকেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাঁকে বিমান মন্ত্রী করে সিনিয়র অফিসার হিসেবে এম এ রবকে প্রথম চিফ অফ আর্মি করেন। তাঁকে মেজর জেনারেল পদমর্যাদা দিয়ে ৭ এপ্রিল অবসরে পাঠানো হয়। চাকরিরত চারজন সিনিয়র অফিসার চিফ হওয়ার দাবিদার ছিলেন। শর্ট লিস্টে আসে জিয়াউর রহমান ও শফিউল্লার নাম। জিয়া মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন ২৭মার্চ। শফিউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন তারও তিন-চার দিন আগে। যদিও তাঁরা দু’ জনেই একই দিনে কমিশনপ্রাপ্ত হয়েছিলেন PMA 12th long Course. ওসমানী সাহেবের সাথে যুদ্ধকালীন সময়ে জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো ছিল না, ফলে তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রতিফলনে সফিউল্লাহর নাম প্রস্তাব করেন। জিয়াউর রহমানকে বঞ্চিত করে চিফ হওয়ার ব্যাপারে সফিউল্লাহর তেমন তাগিদ ছিল না। এ ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। তবে জিয়াউর রহমান ঘটনার পূর্বাপর সবই অবগত ছিলেন। জেনারেল ওসমানী নিজে নৈরাজ্য ও সংশয়বাদী ছিলেন। সন্দেহপ্রবণ ছিলেন এবং জীবনের ভয়ে ভীত ছিলেন। ‘৭২-এর ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় EPR ও মুক্তিবাহিনীর মধ্যে এক মারাত্মক যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কমান্ডার ইন চিফ ওসমানীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বঙ্গবন্ধু। ওসমানী বিডিআর গেট এর সামনে অবস্থান করে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে দেন। ওদিকে পিলখানার অভ্যন্তরে পরিস্থিতি বিস্ফোরণোন্মুখ হয়ে ওঠে। উপায়ান্তর না দেখে বঙ্গবন্ধু নিজে খোলা জিপের উপর দাঁড়িয়ে বিবদমান দু’পক্ষের মাঝে অবস্থান নেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন।
‘৭৫ পরবর্তী ৭৮ দিন তিনি খুনী মেজরদের সাথে বঙ্গভবনে অবস্থান করে খুনী মোশতাককে শলাপরামর্শ দিতে থাকেন। ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের হাতে মুশতাকের পতন হয়। ইতিহাসের নৃশংসতম জেলহত্যার জন্য ব্রিগেডিয়ার শাফায়েত জামিল মুশতাককে বঙ্গভবনে গ্রেফতার করতে গেলে মুশতাক ফ্লোরে শুয়ে কান্নাকাটি করতে থাকেন। তখন এই ওসমানীই সিনিয়রিটির দোহাই দিয়ে অনুনয়-বিনয় করে শাফায়েত জামিলের হাত থেকে মুশতাককে রক্ষা করেন।
বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য চার ধরনের পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যথাক্রমে বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম ও বীরপ্রতীক।
জেনারেল ওসমানী এই পদক নিয়েও ব্যাপক অনিয়ম, ছলচাতুরী ও পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা একটি দীর্ঘ প্রয়াস। বঙ্গবন্ধু ও একদল নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর চিন্তা-চেতনা ও কঠোর ত্যাগ ও পরিশ্রমের ফসল এই স্বাধীনতা। এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগই ছিল ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, সাধারণ সৈনিক ও জনতা।
তাদের কাউকে কোনো পদক দেওয়া হয়নি। পদক কেলেঙ্কারীর নায়ক এই ওসমানী। নব্বই ভাগ পদকই দেওয়া হয়েছে ওসমানী সাহেবের খামখেয়ালি পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর। সুযোগ সন্ধানী ওসমানী আওয়ামী লীগের ঘাড়ে ভর করে এমএনএ, এমপি, ক্যাবিনেট মিনিস্টার হওয়ার পর (যার একটির যোগ্যতাও তাঁর ছিল না)। ‘৭৫-এর বাকশাল প্রশ্নে তিনি স্বভাবসিদ্ধভাবে পদত্যাগ করেন ইত্তেফাকের মঈনুল হোসেনের প্ররোচনায়। তাঁর আশা ছিল তোষামোদ করে তাঁকে আবার মন্ত্রীসভায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সে আশা পূর্ণ না হলে তিনি বঙ্গবন্ধু সরকারের উপর ক্ষুব্ধ হন। ১৯৭৫ এর পনেরই আগস্ট সেনাবাহিনীর একদল দুর্বৃত্ত সেনাবাহিনীর সকল বিধি-বিধান-আইন অমান্য করে বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের সদস্যসহ অন্যান্যদের হত্যা করে। সর্বদা সেনাবাহিনীর রুলস অব কনডাক্ট অনুসরণকারী ওসমানী এই দুর্বৃত্তদের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। তিনি খুনী মোশতাকের প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাডভাইজার পদে আসীন হন। লক্ষণীয় যে জিয়াউর রহমানকে তিনি কিছুদিন আগে অবমূল্যায়ন করে সেনা প্রধান হতে বাধা দিয়েছিলেন। এইবার খুনী ফারুক-রশিদের নির্দেশে এবং ভয়ে তিনিই সেই জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান হিসেবে মেনে নিতে তাঁর কোনো লজ্জা-শরমের বালাই দেখা দেয়নি। তিনি ১ম বেঙ্গল রেজিমেন্টের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। বেঙ্গল রেজিমেন্ট সর্বোচ্চ সংখ্যক মেডেল পেলেও পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের বাঙালি বিদেশি হস্তক্ষেপের শিকার হন তিনি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কোয়েটাতে স্টাফ কলেজ করেন জে. ওসমানী। জেনারেল ইয়াহিয়া, জেনারেল টিক্কা, জেনারেল নিয়াজীর সমসাময়িক ওসমানী সাহেব ১৯৬৭ সালে ২৮ বছর চাকরি করার পরে কর্নেল হিসেবে অবসরে যান। বঙ্গবন্ধু যে বাঙালিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বৈষম্যের কথা বলতেন- ওসমানী সাহেব নিজেই তার জ্বলন্ত উদাহরণ। জে. ওসমানী অত্যন্ত রগচটা এবং অনড় মনোভাব সম্পন্ন ছিলেন। ফলে বাংলাদেশ সরকার ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে তাঁর মতবিরোধ লেগেই থাকত। এক পর্যায়ে ভারতীয়রা জে. ওসমানীকে এড়িয়ে চলতেন এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড এ. কে খন্দকারের সাথে আলাপ আলোচনায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। এক পর্যায়ে সেক্টর কমান্ডারগণ তাদের সমন্বয়ে একটি কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব দেন এবং জে. ওসমানীকে ডিফেন্স মিনিস্টার করে মুজিবনগর পাঠানোর প্রস্তাব দেন।
মেজর জিয়া তার অধীনস্থ সৈন্যদের নিয়ে একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করেন। তিনি এই বাহিনীর নামকরণ করেন Z ফোর্স অর্থাৎ তাঁর নিজের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে। এতে জেনারেল ওসমানীর পূর্ব অনুমোদন বা অনুমতি ছিল না ফলে জেনারেল ওসমানী জিয়ার উপর ভীষণভাবে ক্ষিপ্ত হন। কিন্তু বাস্তবে জিয়ার প্রতি তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এ ব্যাপারে কোনো কোনো সেক্টর কমান্ডার জেনারেল ওসমানীর কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চাইলে তিনি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মেজর শফিউল্লাহকে ১ ফোর্স ও মেজর খালেদ মোশরফকে K ফোর্স গঠনের অনুমতি দেন। যুদ্ধকৌশল, মুক্তিবাহিনী নিয়োগ এবং সর্বশেষে BLF গঠন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে তাঁর তীব্র মতবিরোধ হয়। ইতোমধ্যে তিনি ৪/৫ বার পদত্যাগ করার মধ্যে থাকেন।
BLF প্রশ্নে Raw ডাইরেক্টর মি. রমানাথ কান্ত ও মি. দুর্গাপ্রসাদ ধরের (ডিপি ধর) সাথে তার তীব্র মতবিরোধ হয় যা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী পর্যন্ত গড়ায়। ওসমানী সাহেবের যথেষ্ট দূরদৃষ্টি এবং স্থিরতার অভাব ছিল। তাঁর কোনো রাজনৈতিক আদর্শ বা লক্ষ্য ছিল না। ঘটনা প্রবাহে তিনি যে পদ লাভ করেন, তার সদ্ব্যবহার করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি সময় সময় গুজবে বিশ্বাস করতেন এবং নিজেও যথেষ্ট বিতর্কিত গুজব রটনায় পছন্দ করতেন। ষোলই ডিসেম্বর বাঙালির জাতীয় জীবনে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ দিন। যৌথবাহিনীর আক্রমণে দিশেহারা জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পণের আর্জি জানায়। প্রবাসী সরকার জেনারেল ওসমানীকে ঢাকায় আত্মসমর্পণের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা রওয়ানা হতে নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি ঢাকা যেতে গড়িমসি করতে থাকেন। ঐ দিন তিনি আগরতলা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসে অবস্থান করেন। জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরাকে তিনি যৌথবাহিনীর কমান্ডার হিসাবে মেনে নেননি। ফলে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রটোকল নিয়ে কিছুটা জটিলতার সৃষ্টি হয়। সেই জটিলতার অবসান না ঘটিয়ে তিনি হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেন তিনি সিলেটে তার পিতার কবর জিয়ারত করতে যাবেন। তিনি ডা. জাফরুল্লাহসহ পিএম এডিসিসহ হেলিকপ্টারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সিলেট রওনা হন। এই রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর পিতার কবর জিয়ারত তাঁর কাছে বেশি প্রাধান্য পায়। প্রসঙ্গত ঐ সময়ে বাংলাদেশের আকাশ ভারতীয় বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওসমানীর হেলিকপ্টারে আইসি সিস্টেম (শত্রু-মিত্র চেনার রাডার কোড) ছিল ত্রুটিপূর্ণ। ফলে সিলেটের আকাশে জেনারেলের হেলিকপ্টার আক্রমণের শিকার হয়।
তিনি তাঁর আগেকার মতো স্বভাবসিদ্ধ ভাষায় একথা প্রচার করতে থাকেন-তাকে হত্যার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে ভারতীয় বিমান বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে। পরে তদন্তে দেখা যায় যে যদিও হেলিকপ্টারটি ছিল ভারতের কিন্তু সেটা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সিলেট যাবার কোনো রুটপাস নোটিফিকেশন ছিল না। ফলে বিমান বাহিনীর পাইলট শত্রু হেলিকপ্টার ভেবে গুলিবর্ষণ করে। হেলিকপ্টারের ফুয়েলট্যাংক ফুটো হয়ে গেলে হেলিকপ্টার হার্ডল্যান্ড করতে বাধ্য হয়। স্থানীয় গ্রামবাসীরা এটাকে পাকিস্তানি হেলিকপ্টার ভেবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘিরে ফেলে। জেনারেল ওসমানী সিলেটি ভাষায় বলে মাত মাতিয়া ‘কথাবার্তা’ তাদেরকে নিবৃত্ত করেন।
জেনারেল ওসমানির অনুপস্থিতিতে ১৬ ডিসেম্বর সকালে সরকার তড়িঘড়ি করে এ.কে খন্দকারকে ঢাকায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে পাঠানোর নির্দেশ দেন কিন্তু এ.কে খন্দকারকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর দুপুরের পর তাকে পাওয়া যায়। জরুরি ভিত্তিতে তাকে প্রস্তুত করে ঢাকা রওয়ানা হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তার জন্য ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিমান সকাল থেকে দমদম বিমান বন্দরে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল। তাড়াহুড়ার মধ্যে তিনি তাঁর আলমারির চাবি হারিয়ে ফেলেন। ফলে তিনি সিভিল ড্রেসেই ঢাকা রওয়ানা হতে বাধ্য হন। সামরিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় না থাকার কারণে তিনি আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ করতে পারেননি। প্রসঙ্গত ঐ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে তিনটি চেয়ার রাখা ছিল। ভারতের জেনারেল আরোরা, পাকিস্তানের জেনারেল নিয়াজী ও বাংলাদেশের প্রতিনিধির জন্য। ঐ ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে এ.কে খন্দকারকে একটি কালো জামা পরিহিত অবস্থায় পিছনের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে তিনি চরম দায়িত্বহীনতা ও দায়িত্ব অবহেলার পরিচয় দেন। তিনি নিজেকে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশকে একটি ঐতিহাসিক সুখস্মৃতি থেকে বঞ্চিত করেন। বিমান বাহিনীর এই অফিসার মুক্তিযুদ্ধের সময় জুলাই/আগস্ট মাসে ভারতে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। পদমর্যাদার খাতিরে তিনি ডেপুটি সেনাপ্রধান হিসাবে নিযুক্তি পান। প্রবাসী সরকারের পাশের রুমেই তিনি অফিস করতেন। যুদ্ধশেষে তিনিও বীরবিক্রম খেতাবে ভূষিত হন।
খেতাব সাধারণত বিশেষ সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্য দেওয়া হয়। এ.কে খন্দকার কোথায় কবে কোন বীরত্বের জন্য এই খেতাব পেলেন, সে ব্যাপারে কোনো তথ্য কারও জানা নেই।
ওসমানী সাহেবের খামখেয়ালিপনা, তীব্র অব্যবস্থা ও যথেচ্ছাচারিতার কারণে মহান মুক্তিযুদ্ধের খেতাব নিয়ে পর্বতপ্রমাণ দুর্নীতি হয়েছে এ সকল ঘটনাই তার প্রমাণ।
জুলাই ‘৭১-এর মাঝামাঝি জেনারেল মজিদ পাকিস্তানিদের হাতে গ্রেফতার হন। বঙ্গবন্ধুর সাথে তার যোগাযোগ অসংঘাতমূলক কার্যকলাপ স্বীকার করে বিবৃতি দিতে তাঁর উপর চাপ দেওয়া হয়। শোনা যায় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হবার জন্য তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।
স্বাধীনতার পর জেনারেল মজিদকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশ সরকার তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে চাইলেও তিনি শারীরিক অবস্থার কারণে তা গ্রহণ করতে পারেননি। নির্যাতনের ধকল থেকে তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। ১৯৭৩ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন।
❤❤❤ বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ নাজমুল হোসেন চাচার বীরত্বগাথা ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইল দেখুন কমেন্টে দেয়া লিংকে।
Syed K Hossain
Syed K Hossain
Views: 202

Share this:

  • Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
  • Share on X (Opens in new window) X
  • Email a link to a friend (Opens in new window) Email
  • Print (Opens in new window) Print

Like this:

Like Loading…

Related

admin

admin

সম্পর্কিত পোস্ট

এনজিওতে নতুনদের চাকরি সুযোগ

এনজিওতে নতুনদের চাকরি সুযোগ

by admin
October 22, 2026
0
8

পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র তাদের বিজনেস স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ম্যানেজার/সিনিয়র ম্যানেজার (মনিটরিং)...

ভারতীয় ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর

ভারতীয় ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর

by admin
October 22, 2026
0
30

বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ভারতে...

বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করবে জাপান: নিক্কেই এশিয়া

বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করবে জাপান: নিক্কেই এশিয়া

by admin
October 22, 2026
0
14

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান। খবর দেশটির আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম...

সব অফিসের জন্য জরুরি নির্দেশ সরকারের

সব অফিসের জন্য জরুরি নির্দেশ সরকারের

by admin
October 22, 2026
0
38

সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সম্প্রতি এ...

সাংবাদিক আলিফ হত্যা: অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কি তবে মৃত্যুফাঁদ?

সাংবাদিক আলিফ হত্যা: অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কি তবে মৃত্যুফাঁদ?

by admin
October 22, 2026
0
13

কাজী মামুনুর রহমান মাহিম সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ প্রকাশের কাজ নয়; অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য তুলে ধরার...

অনলাইন ক্যাসিনোর মায়াজালে শিশুরা: বিপন্ন শৈশব, উদ্বিগ্ন অভিভাবক

অনলাইন ক্যাসিনোর মায়াজালে শিশুরা: বিপন্ন শৈশব, উদ্বিগ্ন অভিভাবক

by admin
October 22, 2026
0
7

  আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার সুযোগে নতুন এক সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়া। আর...

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমাদের বিভাগ সমূহ

সাম্প্রতিক পোস্ট

  • এনজিওতে নতুনদের চাকরি সুযোগ October 22, 2026
  • ভারতীয় ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর October 22, 2026
  • সৌদির বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, হতাহত ৯ October 22, 2026
  • বাংলাদেশিদের জন্য বিনা খরচে ফ্রান্সে মাস্টার্স ও পিএইচডি, যেভাবে আবেদন করবেন October 22, 2026
  • বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করবে জাপান: নিক্কেই এশিয়া October 22, 2026
  • চাঁদাবাজি মামলায় ছাত্রদল আহ্বায়ক নয়ন গ্রেপ্তার October 22, 2026
  • সাজেক থেকে ৩ হাজার পর্যটক উদ্ধার সেনাবাহিনী ও পুলিশের October 22, 2026
  • সব অফিসের জন্য জরুরি নির্দেশ সরকারের October 22, 2026
  • রিয়াদ ও দাম্মামগামী বিমানের ফ্লাইট স্থগিত October 22, 2026
  • সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ীতে জামায়াতের মতবিনিময় সভা October 22, 2026
  • রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ ঘন্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ October 22, 2026
  • সুন্দরগঞ্জে সাবেক স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা মামলার অভিযুক্ত গ্রেফতার October 22, 2026
  • উত্তরাঞ্চলে আগাম জাতের আমন ধানে কৃষকের মুখে হাসি October 22, 2026
  • সুন্দরগঞ্জের বেলকা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিজে অসুস্থ, চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত October 22, 2026
  • যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ  October 22, 2026
  • পাকড়ি কলেজে স্মরণকালের স্মরনীয় দুর্নীতি, ২২ বছর আগের নিয়োগ দেখিয়ে ৪ জনের এমপিও October 22, 2026
  • সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত October 22, 2026
  • জামালপুর ইসলামপুরে সেচ পাম্প সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু October 22, 2026
  • বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন–দাকোপ–মোংলা: উন্নয়নের তিন সমীকরণ October 22, 2026
  • পার্বতীপুরে ১০ শয্যার আজেদা মা ও শিশু হাসপাতালের উদ্বোধ October 22, 2026
  • বিসর্জনের জন্য প্রতিমা বের করতে গিয়ে বিদ্যুৎ এর তারে জড়িয়ে একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু  October 22, 2026
  • ডোমারের গোমনাতীতে মসজিদ নিয়ে দ্বন্দ্বে এলাকায় উত্তেজনা  October 22, 2026
  • সাংবাদিক আলিফ হত্যা: অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কি তবে মৃত্যুফাঁদ? October 22, 2026
  • মধুপুরে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার October 22, 2026
  • বুড়িচং রামচন্দ্রপুরের গর্ব ডা. সিমা আক্তার October 22, 2026
  • চৌদ্দগ্রাম পৈতৃক জমিতে বাড়ি নির্মাণে বাধা , চাঁদা দাবি, সংবাদ সন্মেলনে অভিযোগ । October 22, 2026
  • রাজশাহীতে গাঁজা সহ গ্রেপ্তার ১ জন October 22, 2026
  • অনলাইন ক্যাসিনোর মায়াজালে শিশুরা: বিপন্ন শৈশব, উদ্বিগ্ন অভিভাবক October 22, 2026
  • সমাজ ও সংসার পরিবর্তনে অবিনাশী কলম এবং লেখকের দায়বদ্ধতা October 22, 2026
  • গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা দেখতে ডিমলায় জনতার ঢল October 22, 2026

Recent Comments

    দৈনিক দেশের সংবাদ

    02 ফেব্রুয়ারি 2012, আমি নির্ভীক, আমি ভয় পাই না, আমি দেশের কথা বলব, স্বাধীনতার কথা বলব, জনগণের কথা বলব। এর সাহসী সাংবাদিকতা, সমৃদ্ধ বিষয়বস্তু এবং অনন্য বিন্যাস এবং নকশা সহ উপস্থাপনার কারণে, দেশের সংবাদ দ্রুত মানুষের হৃদয় জয় করে, এমনকি সবচেয়ে পরিশীলিত এবং দূরদর্শী পাঠকদের আনুগত্য বাড়িয়ে তোলে।

    আমাদের অনুসরণ করো

    প্রশাসক

      [wps_visitor_counter]

      [wps_visitor_counter]

      বিষয়শ্রেণী দ্বারা ব্রাউজ করুন

      • /প্রবাসী খবর
      • অপরাধ
      • আইন/আদালত
      • আলোচিত নিউজ/ছবি
      • ইতিহাসের পাতায়
      • ইসলাম ধর্ম
      • কবিতা/ছড়া/সাহিত্য
      • করোনাভাইরাস
      • খুলনা বিভাগ
      • খেলা ধুলা
      • চট্টগ্রাম বিভাগ
      • চাকরি
      • জাতীয়
      • জেনেনিন আপনার রাশিফল
      • ঢাকা বিভাগ
      • তথ্যপ্রযুএি
      • নামাজের সূচি
      • নারী কর্মীরা প্রযুক্তিতে ন্যায্যতা
      • ন্তর্জাতিক
      • প্রশাসন
      • বরিশাল বিভাগ
      • বাণিজ্য
      • বাংলাদেশ
      • বাংলাদেশের সকল ক্যাম্পাস
      • বিনোদন
      • বিভাগ সমূহ
      • বিশেষ সংবাদ
      • বিশ্ব
      • ভারত/কলিকাতা
      • মতামত
      • ময়মনসিংহ বিভাগ
      • রংপুর বিভাগ
      • রাজধানী ঢাকা
      • রাজনীতি
      • রাজশাহী বিভাগ
      • রুপচচাৃ/বিউটি পার্লার
      • লাইফস্টাইল
      • শিক্ষা
      • স।রাদেশ
      • সর্বশেষ
      • সাংবাদিক/মিডিয়া
      • সিলেট বিভাগ
      • স্বাস্থ্য
      • হিন্দু সহ অন্যান্য
      • হোম
      এনজিওতে নতুনদের চাকরি সুযোগ

      এনজিওতে নতুনদের চাকরি সুযোগ

      October 22, 2026
      ভারতীয় ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর

      ভারতীয় ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর

      October 22, 2026
      সৌদির বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, হতাহত ৯

      সৌদির বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, হতাহত ৯

      October 22, 2026
      • সম্পর্কিত
      • যোগাযোগ
      • শর্তাবলী
      • গোপনীয়তা নীতি
      • বিজ্ঞাপন দিন

      © ২০১২ জহির হাওলাদার পরিচালিত দেশের সংবাদ >> কপিরাইট : বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে দেশের সংবাদ নিউজের সামগ্রীগুলির কোনও অননুমোদিত ব্যবহার বা পুনরুত্পাদন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং আইনী পদক্ষেপের জন্য দায়বদ্ধ কপিরাইট লঙ্ঘনকে গঠন করে। - Website Designer & SEO Specialist By Mr. Nirob

      Welcome Back!

      Login to your account below

      Forgotten Password?

      Retrieve your password

      Please enter your username or email address to reset your password.

      Log In
      No Result
      View All Result
      • হোম
      • সর্বশেষ
      • বিশেষ সংবাদ
      • বাংলাদেশ
      • করোনাভাইরাস
      • রাজনীতি
      • বিশ্ব
      • বাণিজ্য
      • বিভাগ সমূহ
        • ঢাকা বিভাগ
        • চট্টগ্রাম বিভাগ
        • সিলেট বিভাগ
        • খুলনা বিভাগ
        • রাজশাহী বিভাগ
        • বরিশাল বিভাগ
        • রংপুর বিভাগ
        • ময়মনসিংহ বিভাগ
      • চাকরি
      • খেলা ধুলা
      • বিনোদন
      • মতামত
      • লাইফস্টাইল

      © ২০১২ জহির হাওলাদার পরিচালিত দেশের সংবাদ >> কপিরাইট : বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে দেশের সংবাদ নিউজের সামগ্রীগুলির কোনও অননুমোদিত ব্যবহার বা পুনরুত্পাদন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং আইনী পদক্ষেপের জন্য দায়বদ্ধ কপিরাইট লঙ্ঘনকে গঠন করে। - Website Designer & SEO Specialist By Mr. Nirob

      %d