আর্মেনিয়ার বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সাথে ঢাকা চেম্বারের দ্বি-পাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সফররত রিপাবলিক অব আর্মেনিয়ার অর্থমন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী নারেক তেরিয়ান-এর নেতৃত্বাধীন ‘এন্টারপ্রাইজ আর্মেনিয়া’র ৪ সদস্যে বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)’র পরিচালনা পর্ষদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক আলোচনা সভায় যোগদান করেন।
আর্মেনিয়ার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, বিশেষকরে মধ্যপ্রাচ্যে ও দক্ষিণ-এশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহে বাংলাদেশী প্রকৌশলী ও নির্মাণকর্মীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে এবং এখাতে আমাদের প্রচুর দক্ষ জনবল রয়েছে, যারা আর্মোনিয়ার অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে সক্ষম।
তিনি আরো বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ তরুণ জনশক্তি তৈরি করছে এবং আর্মেনিয়ার উদ্যোক্তাদের এখাতে বাংলাদেশী দক্ষ জনবল নিয়োগের আহ্বান জানান।
আশরাফ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী থাকায় একটি বৃহৎ ভোক্তাশ্রেণী রয়েছে, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আর্মেনিয়ার উদ্যোক্তাবৃন্দ এদেশে সম্ভাবানময় খাতসমূহে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে। এছাড়াও দুইদেশের মধ্যকার মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বাংলাদেশের এলডিসি পরবর্তী সময়ে আর্মেনিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে পণ্য রপ্তানিকরণে আরো মনোযোগী হওয়ার জোরারোপ করেন ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ। এছাড়াও দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য উন্নয়নে দুদেশের মধ্যকার ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুকরণের উপর তিনি জোরারোপ করেন।
বৈঠককালে আর্মেনিয়ার অর্থমন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী নারেক তেরিয়ান বলেন, আর্মেনিয়ার সরকার তাদের অবকাঠমো খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষকরে প্রকৌশলী, স্থপতি ও দক্ষ নির্মাণ কর্মী প্রয়োজন। এছাড়াও তথ্য-প্রযুক্তি খাতেও তাঁর দেশের দক্ষ জনবল প্রয়োজন এবং এখাতে বাংলাদেশের মেধাবী তরুণদের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে, তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও বেসরকারিখাতের মধ্যকার সম্পর্ক সুদৃঢ়করনে দুদেশের বাণিজ্য সংগঠনসমূহের যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘জয়েন্ট চেম্বার’ গঠনের তিনি প্রস্তাব করেন।
আর্মেনিয়ার উপমন্ত্রী আরো জানান, সিআইএস (কমনওয়েলথ ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেটস), ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও সার্বিয়া-এর সাথে তাঁর দেশের এফটিএ রয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সেপা চুক্তি রয়েছে, যে সুযোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা হই-টেক ও তথ্য-প্রযুক্তি, স্মার্ট এগ্রিলকালচার, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন, টেক্সটাইল, পাদুকা এবং ঔষধ প্রভৃতি খাতে আর্মেনিয়ায় বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে।
ডিসিসিআই গুলশান সেন্টারে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি মালিক তালহা ইসমাইল বারী, সহ-সভাপতি মোঃ জুনায়েদ ইবনে আলীসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।







