ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর I সব পাথর তুলে নিয়ে গেছে। হাজার হাজার কোটি টাকার পাথর। নিয়ে কোথায় গেছে? পাথর নিয়ে দেশের মার্কেটে বিক্রি হয়েছে। এই যে নদীতে পাথর এগুলো কোথা থেকে আসে? ভারতের পাহাড় থেকে ঝরনার সাথে এই পাথর বাংলাদেশের অংশে এসে পড়ে। ভারত অনেক চেষ্টা করেও এই পাথরের আগমন ঠেকাতে পারেনি।
লীগের আমলে শেষের দিকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ হয়। তখন দেশে পাথরের সংকট নিরসনে ভোলাগঞ্জের ওপারে ভারতের অংশ থেকে পাথর আমদানি করা হত I
গত দুইমাস আগে ভোলাগঞ্জ পাথর এলাকায় প্রায় দশ হাজার শ্রমিক ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সাদা পাথর লুটপাট করার জন্য। সবাই জানার কথা এই ঘটনা। জানে এলাকাবাসী, জানে সাংবাদিক, জানে সকল রাজনৈতিক পার্টি, জানে প্রশাসন, জানে সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
একটা সমন্বিত লুটপাট।
উপদেষ্টা জনাবা রিজওয়ানা হাসান কয়েক দিন আগে সিলেট থেকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিলেন I স্থানীয় রাজনীতিবিদ,মানবতাবাদী,ইউটিউবার ও বিশেষ শ্রেনীর যোদ্ধা শ্রমিক ও ব্যাবসায়ীদের পেটে লাথি পড়বে বলে আহাজারি শুরু করেন।এমনকি তারা উপদেষ্টাদ্বয়ের গাড়ি পর্যন্ত আটকে দেয়। শ্রমিকরা আন্দোলন করলে উপদেষ্টা পরিষদ তাদের সিদ্ধান্ত বদলে নেন।এখানে সর্বদলীয় ঐক্য হয়! এই সর্বদলে কারা কারা আছে, সিলেটবাসী জানে I
আমরা যতই সংস্কারের গল্প শুনি না কেন,এটা আমাদের মানতে হবে আমরা জাতি হিসেবেই চরম বেয়াদব, চোর, আর দূর্নীতিবাজ।
আমাদের জাতীয় চরিত্রের প্রথম অংশ যেখানে আমরা সুযোগ পেলে লুটপাট করবই। জাতীয় চরিত্রের দ্বিতীয় অংশ হল দোষারোপের রাজনীতি। খুব জঘন্য কাজ, অমুক দলের বলে একাজ করেছে, আমরা গেলে এটা বন্ধ করব ইত্যাদি। তমুক দল আসলে আবারো সাইকেল শুরু। তৃতীয় অংশ, আমরা আত্মসমালোচনা আর আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করব না।







