ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আইনপ্রণেতারা অভিবাসন নীতি কঠোর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দুটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে সমর্থন দিয়েছে ডানপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি আইনপ্রণেতাদের জোট।
গত বুধবার অনুমোদিত দুটি প্রস্তাবের একটির প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের অভিবাসন বা আশ্রয়প্রত্যাশীদের ওপর। ইইউ ‘নিরাপদ’ হিসেবে বিবেচনা করে– এমন সাতটি দেশের তালিকা তৈরি করেছে। যেখানে বাংলাদেশসহ আছে ভারত, কসোভো, কলম্বিয়া, মিসর, মরক্কো ও তিউনিশিয়া।
এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশগুলো যেহেতু নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, তাই এসব দেশ থেকে ইউরোপে আশ্রয়ের আবেদন করলে তা গ্রহণ হওয়ার প্রক্রিয়া বেশ কঠিন হতে পারে। ইইউ পার্লামেন্টের চরম ডানপন্থি আইনপ্রণেতা ফ্যাব্রিস লেগেরি এমন পদক্ষেপকে জরুরি আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর ওপর ভিত্তিহীন আশ্রয় দাবির চাপ কমানোর জন্য এটি প্রয়োজন।’
অনুমোদিত আরেক প্রস্তাব অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের তৃতীয় কোনো দেশে (ইইউর বাইরে) পাঠানো হতে পারে। বামপন্থি আইনপ্রণেতা ড্যামিয়েন কারেমে এমন পদক্ষেপকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জন্য বড়দিনের উপহার বলে মন্তব্য করেছেন। মেলোনির পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁর দেশে আশ্রয়ের আবেদনকারীদের আলবেনিয়ায় পাঠানো হবে। এতদিন এই পরিকল্পনা আইনি জটিলতার মুখে ছিল। কিন্তু ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রস্তাব অনুমোদন হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পথ খুলে যেতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইইউর এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, তৃতীয় দেশে পাঠানো হলে আশ্রয়প্রার্থীরা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। ইউরোপীয় কমিশন জোর দিয়ে বলেছে, যে দেশেই অভিবাসী স্থানান্তর করা হোক না কেন, সেই দেশকে মৌলিক অধিকারগুলো রক্ষা করতে হবে।







