দাবি করা হচ্ছে, ইমরান খান প্রায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন এবং সেখানে তাঁকে উপহাসের পাত্রে পরিণত করা হয়েছে। এমনও বলা হচ্ছে যে, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা তাঁকে দেখে হাসাহাসি করছেন, সামান্যতম সহানুভূতিও দেখাচ্ছেন না।
কয়েক দিন আগে আমি দ্য কপিল শর্মা শো-তে পাকিস্তানের কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ওয়াসিম আকরামকে দেখছিলাম। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি ইমরান খানকে “গব্বর” বলে উল্লেখ করেন এবং তাঁর শক্তিশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নানা গল্প শোনান।
বহু প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারও বছরের পর বছর ধরে ইমরান খানের ব্যক্তিত্ব ও প্রভাব সম্পর্কে একই ধরনের কথা বলেছেন।
এত মানুষ যখন একই কথা বলেন, তখন বিশ্বাস করতেই হয় যে তিনি সত্যিই এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। কিন্তু ক্রিকেট মাঠে আধিপত্য বিস্তার করা থেকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনেও প্রভাবশালী হয়ে ওঠার পর, শেষ পর্যন্ত কীভাবে তাঁর এমন পরিণতি হলো? সময় সত্যিই বড় রহস্যময়।
খেলাধুলার জগত থেকে উঠে এসে একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার উদাহরণ খুবই বিরল। এই মুহূর্তে আমার আর কোনো নাম মনে পড়ছে না।
সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, খেলাধুলার জগতের অন্যতম সফল ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা যায়। কিন্তু এরপর কী ঘটল? কোথায় ভুল করলেন ইমরান খান?
কয়েক মাস আগে ইমরান খানকে নিয়ে আরেকটি অশালীন ও আপত্তিকর খবরও প্রকাশ্যে এসেছিল। পাকিস্তানের নানা কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের অনেকেই তখন তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি ও বিদ্রূপ করেছিলাম।
কিন্তু এক মুহূর্তের জন্য যদি ভুলে যাই যে তিনি পাকিস্তানি, তাহলে কি বিষয়টি গভীরভাবে লজ্জাজনক নয়? যে দেশ নিজেকে একটি জাতি বলে দাবি করে, সেই দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এমন খবরের চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে?
তবুও পাকিস্তানে এমন ঘটনাই ঘটছে।
হয়তো অতীতেও ঘটেছে, ভবিষ্যতেও ঘটবে। ক্ষমতার পালাবদলের পর পূর্বসূরিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি পাকিস্তানে গড়ে উঠেছে, তাতে ক্ষমতা ছাড়ার পর সাবেক নেতাদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক মতভেদ ও সংঘাত থাকলেও, অন্তত এ কথা ভেবে স্বস্তি পাওয়া যায় যে আমাদের গণতন্ত্র তেমন নয়। এখানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
কয়েক মাস আগে যখন ইমরান খান ক্ষমতায় ছিলেন, তখন কি তিনি কখনও কল্পনা করেছিলেন যে তাঁর এমন পরিণতি হতে পারে?
আর আজ যারা সেখানে ক্ষমতায় আছেন, তাঁরা কি কখনও ভাবেন যে একদিন তাঁদের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটতে পারে?
সম্ভবত না…
অথচ ক্ষমতায় বসার মুহূর্তেই তাঁদের বুঝে নেওয়া উচিত ছিল যে, পূর্বসূরিদের সঙ্গে তাঁরা যা করেছেন, ভবিষ্যতে একই পরিণতি তাঁদের জন্যও অপেক্ষা করতে পারে।
ঘৃণার ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠা রাষ্ট্রগুলোর পরিণতি প্রায়ই এমন হয়, এবং ভবিষ্যতেও হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
পাকিস্তান পুরো বিশ্বের জন্য একটি শিক্ষা: সহিংসতা ও ভয়াবহ রক্তপাতের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া রাষ্ট্র কখনও তার জনগণের জন্য প্রকৃত শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না।
লেখাটি সংগৃহীত ইংরেজি কোরার নলেজ মঞ্চ থেকে। নীচে লিঙ্ক







