প্রথমত, তারা ঘোষণা দিয়ে আক্রমণ চালাইছে। ফলে এটা প্রতিহত করতে পারার কথা। কিন্তু না, পারে নাই।
ইরান তার অসম্ভব অফেন্স ক্যাপাসিটি দেখায়ে দিছে এই শো-এর মাধ্যমে।
এটা ইরানের এই সক্ষমতার ইন্ডিকেটর যে ভবিষ্যতেও তারা চাইলে বলে-কয়ে, ঘোষণা দিয়ে আক্রমণ করতে পারবে। গালফ কান্ট্রিগুলোর তা ঠেকানোর ক্ষমতা নাই।
দ্বিতীয়ত, এরচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল সৌদিতে আক্রমণের লোকেশন। আক্রমণ হইছে সামারেফ তেল শোধনাগারে। এটা আরামকো আর এক্সনমবিল দুইটার যৌথ মালিকানাধীন অন্যতম প্রধান তেল শোধনাগার।
এটা অবস্থিত ইয়ানবু ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ায়। ম্যাপে দেখতে পাচ্ছেন।
এবারের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সৌদি আরব তাদের ইস্ট ওয়েস্ট অয়েল পাইপলাইন পুরোদমে সচল করেছে।
আশির দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় এই পাইপলাইন নির্মাণ করেছিল, যেন হরমুজ বন্ধ হয়ে গেলেও তেল সরবরাহ চালু রাখা যায়। কিন্তু বিগত ৪০ বছরে এই পাইপলাইন খুবই কম ব্যবহার হইছে।
এর পূর্ণ সক্ষমতা প্রতিদিন ৭ মিলিয়ন ব্যারেল। এবারেই প্রথম এই পাইপলাইনের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা হল। সৌদিতে একে ঐতিহাসিক মূহুর্ত হিসেবে দেখা হইছে।
এই পাইপলাইনের মাধ্যমে সৌদির পূর্বাঞ্চলের আবকাইক থেকে তেল নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিমাঞ্চলের ইয়ানবুতে। সেখান থেকে বাব আল মানদেব হয়ে এগুলো বিশ্ববাজারে যায়। হরমুজ এড়ায়ে।
একে দেখা হচ্ছিল ইরানের কৌশলগত পরাজয় হিসেবে।
কিন্তু ইরান গতকাল ইয়ানবুতে আক্রমণ চালাইছে। অর্থাৎ সৌদির যে বিকল্প, সেটাতেও বাগড়া দিচ্ছে ইরান।
আর হুথি তো এখনো এক্টিভ হয় নাই। তারা এক্টিভ হলে বাব আল মানদেবও অচল হয়ে যাবে। যেটা আসলে এড়ানোর কোনো উপায় এখনো নাই।
ভবিষ্যতে হতে পারে যদি তুরস্কের ভেতর দিয়ে ভূমধ্যসাগরের পাইপলাইন বাস্তবায়িত হয়। তখন তিন দিক থেকে তিনটা চ্যানেল খোলা থাকবে।
সৌদি প্রতিদিন সাড়ে ছয় মিলিয়ন তেল রপ্তানি করে। কিন্তু ইয়ানবু বন্দরের সক্ষমতা প্রতিদিন সাড়ে চার মিলিয়ন। ফলে বাই ডিফল্ট দুই মিলিয়ন ঘাটতি থাকে।
আবার এখানে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বাদ পড়ে যায়, যেটা সচরাচর আলাপে আসে না। সেটা হল-এই পাইপলাইন দিয়ে সরবরাহকৃত তেল পুরাটাই অপরিশোধিত।
কিন্তু বিশ্ববাজারে ঘাটতি থাকে বেশি পরিশোধিত তেলের। কারণ বেশিরভাগ দেশেরই তেল পরিশোধন ক্ষমতা নাই। ফলে তারা পরিশোধিত তেল কিনে।
যেমন বাংলাদেশ। খুবই লাইটওয়েট তেল পরিশোধন করা যায় বাংলাদেশের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে। তাও দেশের মোট চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ। আর বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হয়।
যাইহোক, বটম লাইন ইজ-গতকালের হামলার মাধ্যমে ইরান শুধু শক্তিমত্তার প্রদর্শনই করেনি, বরং কৌশলগতভাবে সবদিক থেকে পঙ্গু করে দেওয়ার সক্ষমতাও প্রদশর্ন করেছে।
সৌদি, আমিরাত, ওমান-প্রত্যেকেরই বিকল্প রুটগুলোতে আক্রমণ করে সেগুলো শাটডাউন করে দিচ্ছে।
…..
Rakibul Hasan
রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ কোনো ইনডোর গেম নয়, এই দল বৈশাখী ঝড়ে ভেসে আসা দল নয় – আবদুস সবুর
রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ কোনো ইনডোর গেম নয়, এই দল বৈশাখী ঝড়ে ভেসে আসা দল নয় – আবদুস সবুর শফিক বাবু,হাকিকুল...








