দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ তীব্রতর হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বহু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রতিবাদে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৮ অক্টোবর থেকেই যুদ্ধ করে আসছে লেবাননের হিজবুল্লাহ।
আজ ইসরায়েলের উপশহর ‘কারিয়াত শামুনা’-তে কাতিউশা রকেটের সাহায্যে হামলা চালানো হয়েছে। হিজবুল্লাহর রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে পৌঁছার পর ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ সচল হয়ে ওঠে।
এরপরও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ওই উপশহরে আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি সূত্র বলছে, ইসরায়েলের আল-জালিল ও কারিয়াত শামুনা এলাকা লক্ষ্য করে লেবানন থেকে অন্তত ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
এদিকে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী আজ দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি উপশহরের আশেপাশের এলাকায় বিমান ও কামানের সাহায্যে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া কয়েকটি বনে আগুন-বোমা ফেলেছে। আজকের হামলায় দক্ষিণ লেবাননের মারুন আল রাস উপশহরে এক নারী নিহত ও তার স্বামী আহত হয়েছেন। গত কয়েক দিন ধরেই হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
এ অবস্থায় দখলদার বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের জনবসতিতে হামলা শুরু করেছে। অবশ্য হিজবুল্লাহ আজ আবারও স্পষ্টভাবে বলেছে, তারা বেসামরিক মানুষের ওপর আঘাত কোনোভাবেই সহ্য করবে না।
উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকার নিরপরাধ ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের ওপর প্রায় দুই মাস ধরে ইসরায়েল পাশবিকতা চালিয়ে গেলেও কোনো পশ্চিমা দেশ বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন পর্যন্ত তেল আবিবকে আগ্রাসন বন্ধ করার আহ্বান পর্যন্ত জানায়নি।
গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অফিস তার সর্বশেষ প্রতিবেদনে ঘোষণা করেছে যে গত ৭ অক্টোবর যুদ্ধের শুরু থেকে গাজায় শহীদের সংখ্যা ২০ হাজার ছুঁয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৪ হাজার শিশু এবং ৬,২০০ জন নারী রয়েছেন। এছাড়া এই কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৫৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাস ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে নজিরবিহীন সামরিক অভিযান চালায়। ওই অভিযানে ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়। ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা দুই শতাধিক ইসরায়েলিকে বন্দী করে নিয়ে গাজা উপত্যকায় ফিরে যায়। সেদিন থেকেই ইসরায়েলের সেনাবাহিনী গাজায় ভয়াবহ রক্তাক্ত অভিযান শুরু করে যা এখন পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলছে।
ইসরায়েলে সামরিক অভিযানের বিষয়ে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের মুখপাত্র খালেদ কাদোমি বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো নৃশংসতার জবাবে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। আমরা চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর এবং আমাদের পবিত্র স্থাপনা আল-আকসায় ইসরায়েলি নৃশংসতা বন্ধে উদ্যোগ নেবে। এগুলোই হামাসের এই অভিযানের কারণ।’
সূত্র : আল-জাজিরা, প্রেস টিভি






