দিনাজপুর প্রতিনিধি
একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করছেন প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী, শ্যালিকা, ভাই, ভাতিজা
সবাই। প্রধান শিক্ষকের বন্ধু সভাপতি থাকার সময়ে বন্ধুর স্ত্রী, শ্যালিকা ও
ভাগিনাও চাকুরী পেয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানে। অথচ ওই প্রতিষ্ঠানে সহকারী
শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানে যেতে বাধা প্রদান করছেন, এমপিওভুক্তি করতেও সমস্যার
সৃষ্টি করছেন।
গতকাল রোববার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এই অভিযোগ করেছেন
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার হালুয়াঘাট আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের
সহকারী শিক্ষক (গণিত) আব্দুল মোত্তালেব।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেছেন, দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক
শিক্ষা বোর্ডের চিঠির পরও তার সাথে এমন আচরণ করা হচ্ছে। এ সময় তিনি
বলেন, অবৈধ অর্থ পাওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, তথ্য কুক্ষিগত এবং টাকা
আত্মসাৎ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন।
প্রধান শিক্ষক এবং তারা হীন চরিতার্থে আব্দুল মোত্তালেবের হাজিরা বহিতে
স্বাক্ষর না তোলা, পাঠদান করতে না দেয়া, ব্যানবেইসে তথ্য সংযুক্ত বা আপডেট না
করা, এমপিও আবেদন বিলম্ব করা, প্রতিষ্ঠানে যেতে বাধা সৃষ্টি করাসহ নানান
হয়রানী করছেন। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং প্রাণনাশের হুমকী দেয়া কথা জানান
তিনি। এ নিয়ে দূর্ণীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান
তিনি।
তিনি বলেন, পরিবারকেন্দ্রীক প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক তার স্ত্রী মোছা:
জান্নাতুন ফেরদৌসী বিউটিকে চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী অফিস সহায়ক পদে
নিয়োগ দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানে আয়া পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে প্রধান
শিক্ষকের শ্যালিকা মোছা: লাভলীকে। তার ভাই আলমগীর কবিরকে প্রতিষ্ঠানে নৈশ্য
প্রহরী পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তার ভাতিজা রাকিবকে নিরাপত্তা কর্মী পদে
চাকুরী করছেন। প্রধান শিক্ষকের বন্ধু আওয়ামীলীগ নেতা ফিরোজ কবির প্রিন্স ওই
প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন। তার স্ত্রী মোছা: আজমিরী কামাল ২০০৪ সালের ব্যাক
ডেটের তারিখ দেখিয়ে সহকারী শিক্ষিকা পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ব্যাক ডেটে
২০০৪ সালের তারিখ দেখিয়ে সভাপতির শ্যালিকা ইফফাত আরা কামালকে সহকারী
শিক্ষিকা ও ভাগিনা শহিদুল ইসলাম অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে
কর্মরত রয়েছে। ২০০৪ সালের ব্যাকডেটের তারিখ দেখিয়ে শামসুজ্জামান,
মোফাখখারুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ
দিয়েছেন। ব্যানবেইস ও হাজিরা বহিতে অবৈধভাবে তথ্য সংযোজন-বিয়োজন
আর বারবার স্টাফ পরিবর্তণে মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর আব্দুল মোত্তালেব সহকারী শিক্ষক (গণিত)’র
কাছে ২ লাখ টাকা গ্রহণ করেন প্রধান শিক্ষক। কিন্তু এমপিওভুক্ত না করেননি।
বিষয়ে জবাব চাইলে তাকে নানাভাবে হয়রানী করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, চাকুরীতে সমস্যা সৃষ্টি করা এবং এমপিওভুক্তি না হওয়ায় আমি
মানবেতর জীবন-যাপন করছি। তাই উক্ত বিষয়গুলো আমলে নিয়ে তার এবং শিক্ষাবিভাগ
দূর্ণীতিমুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
কথা হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, যারা চাকুরী করছেন
তারা নিজ যোগ্যতায় চাকুরী করছেন। তাদের সার্টিফিকেট দেখতে পারেন।
শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনার পর সহকারী শিক্ষক আব্দুল মোত্তালেবের যোগদানপত্র
নেয়া হয়েছে। কিন্তু এরপর থেকে তিনি আর বিদ্যালয়ে আসেন না। তিনি যেসব
অভিযোগ করছেন তা সম্পূর্ণ ভূয়া ও বানোয়াট।








