৬ বছর বয়সে প্রাথমিকে ভর্তি হতে গিয়ে পছন্দের স্কুলে সুযোগ পায়নি রায়ান (ছদ্মনাম)। এক বছর পর আবারও সে স্কুলে ভর্তির সুযোগ নিতে তার অভিভাবক নতুন করে জন্মনিবন্ধন করান।
২০১১ সালে জন্ম এক শিশুর। সে বছর জন্মনিবন্ধন না করে অভিভাবক ২০১৩ সালে তার জন্ম দেখিয়ে নিবন্ধন করেছেন। ২০১৮ সালে স্কুলে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ায় আরেকবার জন্মনিবন্ধন করেন নতুন করে।
জন্ম তারিখ একবার নিবন্ধিত হলে আর সুযোগ থাকে না বলা হলেও নানা কৌশলে সেই সুযোগ করে নিচ্ছেন অভিভাবকরা। নামের বানান পাল্টে, বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে জন্মের অবৈধ কাগজ বের করে তারা এ নিবন্ধন করাচ্ছেন।
জন্ম নিবন্ধন প্রকল্প শুরু হয়েছিল যাদের হাত ধরে তারা বলছেন, শুরুতে কড়াকড়ি থাকলেও পরে এমন এক শিশুর একাধিক নিবন্ধনের বিষয়টি ধরা পড়েছে।
২০০৪ সালে জন্মনিবন্ধন আইন করা হয়। কার্যকর হয় ২০০৬ সালে। পাসপোর্ট ইস্যু, বিবাহ নিবন্ধন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়া, জমি রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে জন্মনিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক।
শুরুতে হাতে লেখা সনদ দেওয়া হতো। এরপর ২০১০ সালের শেষ দিকে এসে তা ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিবিএসের অনুমিত হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন প্রায় ১৭ কোটি। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, ৬ মার্চ পর্যন্ত দেশে জন্মনিবন্ধনের পরিমাণ ১৯ কোটি ৩৫ লাখের বেশি।
বিবিএসের পরিসংখ্যানের চেয়ে জন্মনিবন্ধন বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, স্কুল পরিবর্তন বা পছন্দের স্কুলে ভর্তির জন্য অনেক অভিভাবক একাধিক জন্মনিবন্ধন সনদ নিয়েছেন।
২০১৪ সালে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক আ ক ম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী অনেকটা উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, কেউ যেন একাধিকবার জন্মনিবন্ধন করতে না পারেন সে জন্য যে কাজটা করতে গিয়েছিলাম তা হলো নিবন্ধনের সময় অভিভাবকের ন্যাশনাল আইডি দিতে হবে। যখনই ওই আইডি দিয়ে নিবন্ধন করবেন এবং সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করে যাচাই করবেন তখন আর সুযোগ থাকবে না ডুপ্লিকেট নিবন্ধন বের করার।
তিনি বলেন, ‘জন্মনিবন্ধনের দরকার কেন হয়? ১৮ বছরে গিয়ে সেটা অটোমেটিক্যালি ন্যাশনাল আইডি পাওয়ার যোগ্য হয়ে উঠবে সে জন্যই।’
নতুন করে আবারও ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম চালাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জন্মের পর পর নিবন্ধন করাতে বাধ্য করতে হবে। যদি যৌক্তিক কারণে দেরি হয়েই যায় তাহলে নিয়ম করতে হবে ডিসি বা ইউএনওর মাধ্যমে কাজটি করানোর। এটা একটু জটিল প্রক্রিয়া বলে অভিভাবকরা বাধ্য হবেন দ্রুত সহজ পদ্ধতিতেই করিয়ে নিতে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি. জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান বলেছেন, এখন আর সেই সুযোগ নেই। সবকিছু অনলাইনে হচ্ছে। এখন একাধিক নিবন্ধনের সুযোগ থাকার কারণ নেই। এমনকি অশুদ্ধ তথ্যের কথা যে বলা হয়, সেটিও সম্ভব নয়। কারণ, যার যার ফরম সেটি তারা নিজেরা পূরণ করেন।








