পায়জামা-পাঞ্জাবি পড়ে গেছি মদের বার আর আবাসিক হোটেল রেইড দিতে। রাত তখন ১০ টার মতো বাজে। উপর তালায় বার আর তার ঠিক নিচেই আবাসিক হোটেল। এ ধরনের অভিযানে সাধারণত সাদা পোষাকে থাকলে আমিই আগে যাই, পোষাক পড়া পুলিশ পরে ঢুকে। আগে ঢুকেই একদম নিচ তলার কেচিগেইট লাগিয়ে দিলাম। তারপর সোজা উপরে উঠে আবাসিক হোটেলের সিড়ির করিডোরে গিয়ে দাড়ালাম। দুই মিনিটের মধ্যে শতাধিক নারী-পুরুষের মধ্যে রেইড আতংক ছড়িয়ে পরে। যে যার মতো দৌড়ে সিড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করছে।
এরমধ্যেই আবাসিক হোটেল থেকে চার পাচটি মেয়ে দৌড়ে বের হয়ে আসলো। এদের মধ্যে একজনের আবার আমাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে করুনা হলো। সে খেকিয়ে বললো এইখানে ছাগলের মতো দাড়ায়ে আছেন কেন, পুলিশ রেইড দিছে, পালান। আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে বললাম কোন দিকে পালাই, নিচে তো কেচিগেট বন্ধ। আমার প্রতি দয়া পরবশ হয়ে সে বললো, আসেন, আমার পিছে পিছে আসেন। যাহোক তার পিছনে পিছনে পালানোর যায়গা দেখার জন্য গেলাম।
হোটেলের নিচ তালায় একটা গার্মেন্টস। সেই গার্মেন্টসের সিড়ি করিডোরে অনেক বড় বড় ঝুটের বস্তা রাখা।করিডোরে লাইট না থাকায় জায়গাটায় গুমোট অন্ধকার। মেয়েগুলো সেই ঝুটের কাপড় বের করে দ্রুত বস্তার ভিতর ঢুকে গেল। আমাকে দায়িত্ব দেয়া হলো বস্তার উপর আবার ঝুটের কাপড় গুলো ঢুকিয়ে দেয়ার জন্য, যাতে বাইরে থেকে বুঝা না যায়। আমাকে বললো দ্রুত যে কোন একটা বস্তার চিপায় লুকিয়ে পড়ার জন্য, যে কোন সময় পুলিশ চলে আসতে পারে। যাহোক, দ্রুত বস্তার উপর কাপড় দিয়ে আমি এক কোনায় গিয়ে দাড়িয়ে পড়লাম।
কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের ফুল টিম উপরে উঠে আসে। আমিও টিমের সাথে হোটেলে তল্লাশী চালাই এবং বার থেকে অনেককে আটক করা হয়। ঘন্টা খানেক পরে সিড়ি দিয়ে নামার সময় ঝুটের বস্তাগুলোর দিকে তাকালে দেখলাম বস্তায় সূক্ষ নাড়াচাড়া হচ্ছে। বস্তার কাছে গিয়ে আস্তে করে বললাম, আপারা বের হয়ে আসেন। পুলিশ নিচে চলে গেছে। কিছুক্ষণ দ্বিধা করে পাচজন বের হলেন। আমি উনাদের নিয়ে লিফটে করে নিচে নামলাম।
মহিলা পুলিশ লিফটের সামনেই ছিলো। মহিলা পুলিশের হাতে মেয়েগুলোকে হ্যান্ডওভার করে বললাম হাতকড়া না পড়িয়ে গাড়িতে উঠাতে। মানুষ যখন বিস্মিত হয় তখন মুখ অনেকটা হা হয়ে যায়। মুখ ওরনা দিয়ে ঢাকা থাকায় বুঝতে পারলাম না মুখ হা হয়েছে নাকি হয়নি। তবে এটুকু বুঝলাম এতো বড় শক ওরা জীবনে কখনো খায়নি। একজন শুধু বললো, “আপনে পুলিশ?” আমি ওর কথার উওর না দিয়ে, সোজা কেচি গেটের দিকে হাটা দিলাম। আর মনে মনে ভাবলাম, মানবজাতির উপর থেকে নিশ্চিত ভাবেই ওদের বিশ্বাস উঠে গেল।








