পি কে হালদারের সহযোগী পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক খবির উদ্দিন নিজে ও তার পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে তার দুই মেয়ে শারমিন আহমেদ ও তানিয়া আহমেদের নামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন ৬৪ কোটি টাকা।
কানাডা যাওয়ার পথে বুধবার (২৪ আগস্ট) ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শারমিন আহমেদ (৪২) ও তানিয়া আহমেদ (৩৭) । তারা সম্পর্কে বোন ও তাদের বাবা খবির উদ্দিন পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক ছিলেন।
এদিকে, শারমিন এবং তানিয়া তাদের নিজেদের এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়ে মুক্ত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী মো. আবু তালেব।
তিনি জানান, আদালত ওই পরিবারের ১১ জনের পাসপোর্ট বা যাদের পাসপোর্ট নেই তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার শর্তে মুক্তির আদেশ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে বুধবার শারমিন আহমেদ ও তানিয়া আহমেদের পাসপোর্ট আদালতে দাখিল করা হয়। আর র্যাবের কাছে বুধবার রাতে চারজনের পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়। এরপর রাত সাড়ে ১১টায় দুই বোন র্যাবের হেফাজত থেকে মুক্ত হন। দু’জনের জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি আদালতে জানানোর পর আদালত বলেছেন, ১১ সদস্যের মধ্যে বাকি তিন সদস্য তাদের পরিবারের সদস্য কিনা কিংবা সদস্য হলে তাদের পাসপোর্ট আছে কিনা এবিষয়ে আগামী সোমবারের (২৯ আগস্ট) মধ্যে হলফনামা দিতে হবে।
এর আগে বুধবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, র্যাব জানতে পারে প্রতিষ্ঠানের দুজন ঋণ খেলাপি বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন। র্যাব এ ঋণ খেলাপিদের গ্রেফতার করতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ভোরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মঈন জানান, গ্রেফতার দুজন তাদের বাবা খবির উদ্দিনের মাধ্যমে ঋণ নেন। শারমিন ৩১ কোটি ও তানিয়া ৩৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। তারা গত ২৮ জুলাই কানাডা থেকে বাংলাদেশে আসেন এবং আজ গোপনে কানাডার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলেন। ধানমন্ডি ও শ্যামলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেশের আর্থিক খাতে আলোচিত নাম প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদার। তিনি দেশের আর্থিক খাতের শীর্ষ দখলদার ও খেলাপিদের মধ্যে অন্যতম একজন। গত ১৪ মে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে পলাতক পিকে হালদার ভারতে গ্রেফতার হয়েছেন।







