রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: চৈত্রের দাবদাহের মতো বৈশাখের গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। এখন বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির ছন্দে স্বস্তিতে ফেরার প্রার্থনা সবার। সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রকৃতি পুড়ছে গ্রীষ্মের তাপদাহে। মৃদু তাপপ্রবাহে হাঁপিয়ে উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষ। দেশের অন্যান্য জেলার মতো রংপুরও পুড়ছে তাপপ্রবাহে। অসহনীয় গরম আর তাপদাহে বিমর্ষ প্রাণ প্রকৃতি। প্রায় ১০ দিন ধরে এ অবস্থা বিরাজ করছে। স্মরণকালের এমন গরমে মানুষসহ হাঁসফাঁস করছে পশু পাখি। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না অনেকেই। একদিকে খরতাপে হাঁসফাঁস, আরেকদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং। রমজান মাসে এমন অসহ্য দাবদাহে অস্বস্তি সবার মনে। আবহাওয়া অফিস সুত্রে জানা যায়, এ পরিস্থিতি থাকবে আরও কয়েকদিন। যদিও কোথাও কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সুত্রে জানা যায়, লোডশেডিং নয় বরং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের চলমান লাইন নির্মাণ/পুনর্বাসন কাজ এবং গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তনের জন্য বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকছে। রংপুর শহরবাসী বিদ্যুৎ বিভাগের কথা গ্রহণযোগ্য নয় দাবি করে বলেন, যদি তাই হলে গভীর রাতে বিদ্যুৎ থাকে কেন? গত ১৫ এপ্রিল শনিবার দুপুরে রংপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিনও একই তাপমাত্রা ছিল, যা এ মৌসুমে রংপুর জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। গত সাত দিন ধরে রংপুরে তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ এর মধ্যে উঠানামা করছে। মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ি বাজারের ভ্যানচালক জহুর আলী বলেন, ব্যাটারি চালিত চার্জার ভ্যান চালাতে কষ্ট নেই। কষ্ট এ রোদে যাত্রী পরিবহন করতে। বেশি তাপের কারণে মানুষ বের হয় না, এ জন্য আয় রোজগার কমে গেছে। নাভিশ্বাস উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষের। চলার পথে একটুখানি ছায়া পেলে জিরিয়ে নিচ্ছে কেউ কেউ। এছাড়াও ঈদের কেনাকাটা করতে বের হওয়া মানুষও নাকাল হচ্ছে গরমে। প্রচন্ড গরমে অস্থির নগরবাসী। বৃষ্টির প্রতীক্ষায় দিন কাটছে তাদের। অনেকেই বাড়ীর ছাদে পানি দিচ্ছেন একটু স্বস্তির আশায়। অসহনীয় গরম আর তাপপ্রবাহের মাত্রা বাড়তে থাকার সঙ্গে ঈদের কেনাকাটা করতে রংপুর নগরীর সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় বড় শপিংমল, বিপণী বিতান ও মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। অসহ্য ভ্যাপসা গরমে কষ্ট হলেও ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা। শ্রমিক, দিনমজুরসহ কর্মজীবী মানুষ গরম উপেক্ষা করে বের হলেও অনেকেই হাঁসফাঁস করছে। নগরীর স্টেশন রোডে মাথার উপর ছাতা থাকার পরও গরমের চোটে হাঁপিয়ে উঠা রিক্সা চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, গরমে বাড়ির বাইরোত ব্যারে মনে হওছে জানটা চলি যাইবে। রোইদোত বাইরোত গাড়ি নিয়্যা ব্যারেয়া মোর অবস্থা খারাপ। কিন্তু হামার মতো রিক্সা এ্যালার কোনো উপায় নাই। গাড়ি না চালাইলে খামো কি? নগরীর আবুল কালাম বলেন, এতো ক্যানে গরম বাহে? ঘরোত থাকাও দায়। ফ্যানের বাতাসও গরম। শরীর থাকি খালি ঘাম ঝরোছে। নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে সোহেল ফার্মেসিতে ঔষধ ক্রয় করতে আসা মাসুমা আক্তার বলেন, দুই দিন থেকে বাড়িতে বাচ্চাসহ চারজন অসুস্থ। প্রচন্ড রোদ-গরমে জ্বর ও ব্যথায় সবাই কাবু। প্রাথমিক চিকিৎসা করেও জ্বর-সর্দি কমছে না। এ কারণে ঔষথ নিতে বাধ্য হলাম। ঋতু পরিবর্তনের কারণে রংপুরে বেড়ে জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। চিকিৎসকগণ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছে বিপাকে। সংসার চালাতে বাধ্য হয়েই কাজে যাচ্ছে তারা। অনেকেই আবার গরম সইতে না পেরে অসুস্থও হয়ে পড়ছে। রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৩৪-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠানামা করছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়াই ভালো। বিশেষ করে এ সময়ে শিশু-কিশোর ও বয়স্কদের আরও সতর্কভাবে চলাফেরা করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশি বেশি করে তরল জাতীয় শরবত, ডাবের পানি পান করা উচিত। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রচন্ড গরমের কারণে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগিসহ জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ৭ দিনে ৩৫-৪০ জন রোগি হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময় সাবধানে চলাফেরা করা উচিত। রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেণ, গত শনিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন শুক্রবার রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে রংপুর অঞ্চলে অস্বাভাবিক আবহাওয়া বিরাজ করছে। মৃদু তাপপ্রবাহ ও গরম বাতাসে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সূর্যকিরণ লম্বালম্বিভাবে আসায় গরম তীব্র অনুভব হচ্ছে। বিশেষ করে গরম বাতাস স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি আরও ২/৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
অপ্রতিমের হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
কুমিল্লা: অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার...









