নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক সংসদীয় সংস্থা আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়ন (IPU) বাংলাদেশে ছয় প্রাক্তন সংসদ সদস্যের গ্রেপ্তার, অমানবিক কারাবাস এবং ন্যায্য বিচার না পাওয়ার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
২৩ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আইপিইউয়ের গভার্নিং কাউন্সিলের ২১৬তম অধিবেশনে একটি প্রস্তাব অনুমোদন হয় বলে জানিয়েছে কানাডাভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা— গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্র্যাটিক গভার্নেন্স (জিসিডিজি)।
সংস্থাটি বিশেষভাবে চট্টগ্রামের রাউজানের সাবেক সাংসদ ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি ও আইপিইউ-এর সংসদীয় মানবাধিকার কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন এবং সাবেক সাংসদ কর্ণেল মুহাম্মদ ফারুক খান-এর অবস্থাকে অতি সংকটজনক বলে উল্লেখ করেছেন। এরমধ্যে মোশাররফ হোসেন সম্প্রতি কারামুক্ত।
আইপিইউ’র গভর্নিং কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার এই চার প্রাক্তন এমপির জীবন ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ দায়িত্বশীল। সংস্থা মানবিক কারণে জামিন, পছন্দের চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী হৃদরোগ, কিডনি ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং কারাগারে তার স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে। আসাদুজ্জামান নূরও গুরুতর শারীরিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, মামলা প্রায়শই রাজনৈতিকভাবে প্ররোচিত এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিবার পরিদর্শনের সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত।
আইপিইউ বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী, নির্বাহী ও বিচারিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। প্রতিনিধি দল কারাগার, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও সিভিল সোসাইটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করবে।
সংস্থা আশা প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি সহযোগিতা করবে এবং মানবিক কারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সংস্থা আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ প্রদান এবং অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আইপিইউ মনে করিয়ে দিয়েছে, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো স্বাধীন ও ন্যায্য নির্বাচন এবং ন্যায়বিচার।
ছয় প্রাক্তন সংসদ সদস্যের মধ্যে দুজন ইতিমধ্যে জামিনে মুক্ত হলেও চারজন এখনও কারাগারে রয়েছেন। সংস্থাটি তাঁদের অবস্থা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে। আইপিইউ-এর এ সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের গুরুত্ব নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
আন্তর্জাতিক সংসদীয় সংস্থা আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়ন (IPU) সাবেক এমপি আসাদুজ্জামান নূর, সদ্য জামিনে বের হওয়া সাবেক গণপূর্ত গৃহায়ণ মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, সাবেক কর্ণেল মোহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক এমপি হাবিবে মিল্লাত ও সাবেক এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী (জামিনে মুক্ত )অবৈধ আটক, অমানবিক কারাবাস ও ন্যায্য বিচার না পাওয়ার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশের সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্বকারী এই সংস্থা বলেছে, “গণতন্ত্রের মূল উপাদান হলো মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং ন্যায়বিচার।” এ সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।







