আরবী জিয়ারত (زيارة) কথাটির অর্থ – পরিদর্শন (visit)। আপনি এই পরিদর্শন জিনিসটা চেনেন তো? আপনি চিড়িয়াখানা বা জাদুঘর দেখতে যান। ওটাকে পরিদর্শন বা জিয়ারত বলে।
এবার আপনার জন্য সহজ প্রশ্ন – চিড়িয়াখানায় কি গিয়ে পরিদর্শন করতে হবে? স্কুল থেকে হবে না?
এই প্রশ্নের কি উত্তর দিবেন? ওরে, গিয়ে দেখাকে পরিদর্শন বলে। ওখানে না গেলে, সেটা কেমন পরিদর্শন?
হ্যাঁ ; আপনার জন্য সেই একই উত্তর – গিয়ে কবর দেখাকে কবর জিয়ারত বলে। ওখানে না গেলে, সেটা কেমন জিয়ারত?
আপনার প্রশ্নের উত্তর হয়ে গেছে। তবে, এই ব্যাপারে আরো কিছু জানা দরকার।
- ইসলামে কবর জিয়ারত আছে কিনা। জিযারতের পদ্ধতি কি? এর লাভ/ক্ষতি কি?
প্রথম কথা হলো – আপনজনের কবর কবর দেখতে যাবার বিষয়টি প্রথমত আবেগ ও ভালবাসার ব্যাপার। করো কবরের কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকুন, স্মৃতিচরণ করুন, নীরবে চোখের জল ফেলুন। ইসলামে এসবে কোন বাধা নেই।
কিন্তু, শোক প্রকাশের নামে উন্মাদনা করা যাবে না। মৃত মানুষের কাছে কিছু চাওয়া যাবে না।
কবর জিয়ারত এর দুটি উপকার আছে। এক – আপনার উপকার। মৃত্যুর কথা স্মরণ হবে। দুই – কবরবাসীর উপকার। আপনি তার জন্য দোয়া করবেন।
মুখস্ত করুন – কবরে শুয়ে থাক ব্যক্তি আপনার কোন উপকার করতে পারে না। বরং, আল্লাহর কাছে দোয়া করে, সেই কবরবাসীর উপকার করতে পারেন।
কবর জিয়ারত (পরিদর্শন) করতে গিয়ে, ওই দুটি কাজ করে আসতে ভুলবেন না।
আজকে আমি মাটিতে দাড়িয়ে আছি। আল্লাহর ইচ্ছা হলে আমাকেও কবরে যেতে হবে। ভবিষ্যতে আমাকে কবরে যেতে হবেই। এভাবে মৃত্যুর কথা স্মরণ করুন।
কবরবাসীর পাপ ক্ষমা করার জন্য, আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। এভাবে বলুন – আল্লাহ, আপনি এই কবরবাসীকে কবরের আযাব ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। তাকে জান্নাত দান করুন।
সাবধান – কবরে গিয়ে নামাজের মতন অঙ্গভঙ্গি করবেন না। কবরে মোমবাতি জ্বালাবেন না। ফুল দেওয়াটাও কোন ভালো কাজ নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ – কবরবাসীর কাছে কিছু চাইবেন না। এই সামান্য কারনে, আপনি ইসলাম থেকে বহিষ্কার হয়ে যেতে পারেন !!







