মোঃ কামাল উদ্দিন লক্ষ্মীপুর জেলা সংবাদাতা ঃ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে নির্বাচনী হাওয়া। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন গ্রাম গঞ্জ পাড়া মহল্লায় অলিগলি চা স্টলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচার প্রচারণা শুরু হয়েছে। ভোটারদেরও সরব আলোচনা বি়ভিন্ন প্রার্থীর রাজনৈতিক সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক উৎস সর্বপরি জনসাধারণের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা জনপ্রিয়তাসহ দান অনুদান অবদান নিয়ে নানারকম আলোচনা পর্যলোচনা গুঞ্জন চুলচেরা বিশ্লেষণ করে চলেছেন উপকূল থেকে শুরু করে চরাঞ্চল বেষ্টিত এ জনপদ।
উল্লেখ্য, ২০০৬’ সালে নিকার বৈঠকে লক্ষ্মীপুরের বৃহত্তর রামগতি উপজেলা থেকে বিভাজন করে কমলনগর নামক নতুন উপজেলা গঠন করা হয়েছে। প্রায় ৯ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলায় ইতোমধ্যে তিনটি নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তিনজন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথমবারে জাসদ (জেএসডি)র নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা আবুল বারাকাত দুলাল,দ্বিতীয় বার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট সামছুল ইসলাম আর বর্তমানে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অঞ্চল ভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থীর আলোচনা ও প্রচারনা শুরু হয়েছে পুরোদমে।দেশের প্রধান বিরোধীদল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় স্থানীয় সরকার কাঠামোর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলটির অংশ নেয়া অনেকটা অনিশ্চিত ভেবে সরকার দলীয় নেতারা ভোটারদের মাঝে নিজেদের ভোট ব্যাঙ্ক সৃষ্টিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন, নিজেদের বলয় গড়তে অনুসারী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।ইতোমধ্যে উপকূলের হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন দান অনুদান প্রদানসহ জনগণের সুখে দুঃখে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন।
কমলনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁদের মধ্যে হচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পাটারির হাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ্যডভোকেট নুরুল আমিন রাজু,উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মনোহরপুর করইতলা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা হাজী মনোহর আলী কন্ট্রাক্টরের জেষ্ঠ্য পৃুত্র বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বাবুল মিয়া। বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বাপ্পি, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সাবেক চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ হিরন,আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহমান দিদার সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন রাজন প্রমুখ।
সম্ভাব্য প্রার্থীগণ উপজেলার হাজির হাট লরেঞ্চ করইতলা তোরাবগঞ্জ মুন্সির হাট মতির হাট চৌধুরী বাজার চরবসু ফজু মিয়ার হাট করুনানগর বাজারসহ মেঘনার উপকূল থেকে উপজেলার প্রায় সবকটি গ্রাম মহল্লায় প্রার্থীরা তাঁদের প্রার্থীতা জানান দিয়ে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নির্বাচনী উত্তাপ প্রচার প্রচারনা গণসংযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে চর লরেঞ্চ গ্রামের বেলাল হোসেন জানান, “নির্বাচনী আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিভিন্ন প্রার্থীরা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছার চেষ্টা করছেন।আমরা এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্লোভ নিরহংকার মাদকমুক্ত সন্ত্রাসমুক্ত দাঙ্গামুক্ত দখলবাজমুক্ত স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ নিষ্কুল নেতাকে নির্বাচিত করবো”। এই সূচকে সকল প্রার্থীর মধ্যে তিনি মোঃ বাবুল মিয়াকে অবিসংবাদিত ও সজ্জন উপযুক্ত মনে করেন বলেও দাবি করেন।
গণসংযোগ সম্পর্কে আরেক ভোটার তোরাবগঞ্জ গ্রামের আজাদ উদ্দিন জানান, আমরা পরিবর্তন চাই যিনি সকল বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে এলাকার প্রভূত উন্নতি ঘটাতে পারেন তাকে আমরা জয়যুক্ত করবো।আলোচনায় থাকা প্রার্থীগণের মধ্যে তিনি মনোহর আলী কন্ট্রাক্টরের ছেলে ও আওয়ামী লীগের নিবেদিত নেতা হিসেবে বাবুল মিয়াকে যোগ্য মনে করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন যেহেতু বিরোধীদল নির্বাচন থেকে বিরত থাকার সম্ভবনা দেখা দিচ্ছে আর সরকারদল প্রার্থীতা উম্মুক্ত রেখেছে সেহেতু আমরা দলীয় নেতাদের মধ্যে থেকে সৎ যোগ্য এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে পারেন এমন নেতাকে নির্বাচিত করবো সন্ত্রাসের মদদদাতা চাঁদাবাজ নৌদস্যু ভূমিদস্যুমুক্ত স্বচ্ছ ক্লিন ইমেজের প্রার্থী যাঁর কাছে সামাজিক- রাজনৈতিক সর্বস্তরের তৃণমূল ব্যক্তিবর্গের সম্মান মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে মনে করছি তাকেই সকল নেতাকর্মী নিয়ে জয়যুক্ত করবো।
উপজেলা আওয়ামী লীগের এক জন সম্পাদকীয় সদস্য জানান, দলীয় প্রতীক না দিলেও সংগঠন থেকে একজনকে নির্ধারিত করা হতে পারে সেক্ষেত্রে আমরা সংগঠনের নির্ধারিত মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার চেষ্টা করবো।।
মোঃ কামাল উদ্দিন লক্ষ্মীপুর জেলা সংবাদাতা
Post Views: 375
Related