কবি,কে,এম,তোফাজ্জেল হোসেন জুয়েল খান
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়া থেকে:-
কুষ্টিয়া, ৩০ নভেম্বর:
কুষ্টিয়া শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া রেললাইন দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের জন্য দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। প্রতিদিন কয়েকবার ট্রেন চলাচলের সময় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ব্যারিয়ার নামানো হয়, ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট, সময় অপচয় ও জরুরি সেবায় বিঘ্ন ঘটে। এসব কারণে রেললাইন শহরের বাইরে স্থানান্তরের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে কুষ্টিয়াবাসীর মাঝে।
যানজট এখন নিত্যদিনের সমস্যা
শহরের কোর্ট স্টেশন থেকে বড় স্টেশন পর্যন্ত পুরো রেলপথটি ব্যস্ত সড়কের মাঝ দিয়ে গেছে। স্কুল-কলেজের সময়, অফিস সময় অথবা বিকেলের বাজার— যে সময়ই হোক না কেন, ব্যারিয়ার নামার সঙ্গে সঙ্গেই উভয় পাশে লম্বা যানজট তৈরি হয়।
এক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান,
“একটা মালবাহী ট্রেন ঢুকতে ১০–১৫ মিনিট লাগে; কিন্তু যানজট কাটতে অনেক সময় আধা ঘণ্টার বেশি লেগে যায়। এতে ব্যবসা, কাজ—সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
সময় অপচয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ
প্রতিদিন হাজারো মানুষ রেললাইন সংলগ্ন সড়কে আটকে পড়ে। বিশেষ করে স্কুল–কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রায়ই দেরি করে ক্লাসে পৌঁছায়। চাকরিজীবীরা নিয়মিত অফিসে দেরি হওয়ার অভিযোগ জানান।
শহরের এক অভিভাবক বলেন,
“সকাল ৮টার দিকে ট্রেন ঢুকলে তো সর্বনাশ। বাচ্চাদের নিয়ে ৫–১০ মিনিটের পথ ৪০ মিনিট লাগে।”
রেললাইন শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার জোর দাবি
শহরের নাগরিকরা মনে করছেন, পুরনো পরিকল্পনা অনুযায়ী রেললাইন শহরের দক্ষিণ-পূর্ব বা উত্তর সীমানা দিয়ে সরানো হলে অনেকাংশে সমস্যার সমাধান হবে। এতে

যানজট কমবে

শহরের ভেতরের সড়ক হবে চলাচলযোগ্য

জরুরি রোগী পরিবহন সহজ হবে

অগ্নিকাণ্ড–দুর্যোগে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পৌঁছাতে পারবে

ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরবে
এক নাগরিক আন্দোলনের সদস্য বলেন,
“শহরের মাঝ বরাবর রেললাইন রাখা কোনোভাবেই আধুনিক নগর পরিকল্পনার সাথে যায় না। আমরা চাই রেলমন্ত্রী ও রেলওয়ের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত হোক।”
বর্তমান পদক্ষেপে আংশিক স্বস্তি, মূল সমাধান চায় জনগণ
কোর্ট স্টেশনের জায়গা সংকট থাকায় সেখানে সংস্কার সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়। বড় স্টেশন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হলেও, নাগরিকরা মনে করছেন— এটি কেবল আংশিক সমাধান। শহরের মূল সমস্যার মূলে আছে রেলপথের অবস্থান।
কুষ্টিয়াবাসীর দাবি—
“স্টেশন সংস্কার নয়, রেললাইন পুরোপুরি শহরের বাইরে স্থানান্তর করতে হবে।”
সবার চোখ এখন রেলওয়ের সিদ্ধান্তে
রেল উপদেষ্টা ফওজুল কবীর খান-এর সাম্প্রতিক আশ্বাসে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও, কুষ্টিয়ার মানুষ এখন রেল অধিদপ্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। শহরের ভবিষ্যৎ যোগাযোগব্যবস্থা ও যানজট নিরসনে রেললাইন স্থানান্তরকেই তারা দেখছেন একমাত্র স্থায়ী সমাধান হিসেবে।
নীচে আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করে দিলাম— সাংবাদিকতা ভাষা, কাঠামো ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে।
**কুষ্টিয়া শহর রেললাইন সংস্কার ও স্থানান্তর বিষয়ক অগ্রগতি
— রেল উপদেষ্টার সাথে বৈঠকে আশার আলো**
কুষ্টিয়া, ২৯ নভেম্বর:
কুষ্টিয়া শহর কেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের রেললাইন দুর্ভোগ নিরসনে নতুন উদ্যোগের সূচনা হয়েছে। গত ২৫ তারিখ রেল উপদেষ্টা ফওজুল কবীর খান-এর সাথে কুষ্টিয়ার নাগরিক প্রতিনিধি দলের বৈঠকে স্টেশন এলাকায় জনদুর্ভোগ, চলাচলে ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপদেষ্টা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি রেলওয়ের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে ফরওয়ার্ড করেন।
জায়গার অভাব ও সড়কজট— কোোর্ট স্টেশনের সংস্কার সম্ভব নয়
রেল মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জানান, কোর্ট স্টেশন এলাকায় পর্যাপ্ত জায়গার অভাব, সড়কজট ও লজিস্টিক সমস্যার কারণে সেখানে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “এলাকাটির ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ও যানজট সমস্যার কারণে সেখানে স্থায়ী সংস্কার কাঠামো নির্মাণ করা যাবে না।”
চালু হবে কুষ্টিয়া বড় স্টেশন— দ্রুতই শুরু হচ্ছে কাজ
বিকল্প হিসেবে রেল মন্ত্রণালয় কুষ্টিয়া বড় স্টেশনকে আধুনিকায়ন ও পুনরায় চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। রেলওয়ের ডিজি বৈঠকে জানান, বড় স্টেশন সংস্কার প্রকল্পের টেন্ডারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুতই সম্পন্ন করা হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করা হবে।
স্টেশনের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গ
বৈঠকে উপদেষ্টা ফওজুল কবীর খান স্টেশনের নাম পরিবর্তনের আগ্রহ প্রকাশ করলেও, কুষ্টিয়ায় ইতোমধ্যেই একই নামে একটি স্টেডিয়াম থাকায় প্রতিনিধিরা আপাতত কোনো সরকারি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নাকচ করেন।
কুষ্টিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিতে অগ্রগতি
রেললাইনের দুরবস্থা ও স্টেশনসংশ্লিষ্ট সমস্যার কারণে প্রতিদিন শহরের মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। নতুন এই উদ্যোগ কুষ্টিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে এক বাস্তব অগ্রগতি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
Post Views: 176
Related