এম খান, নিজস্ব প্রতিবেদক
পেশায় একজন চোর ও মাদক কারবারি কিন্তু কোন জাদুমন্ত্রের বলে ২ দুই বছরে চোরাইয়া হোছেন এখন কোটিপতি আ.লীগ নেতা বনে গেলেন! চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর আনাচে কানাচে তার পোস্টার ব্যানার ও লিফলেট ফেসবুকে জুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। পেশা চুরি হলেও তার রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি এবং অঢেল টাকার সম্পদ। আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে তার ছবি। অনুসন্ধানে তথ্য মিলে, কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যার মৃত আহমদুর রহমান ছেলে হোছেন এর নেতৃত্বে রয়েছে একটি ‘ভিআইপি’ চোর চক্র। এই গ্রুপের ২০ সদস্যের ব্যাপারে তথ্য মেলে। সম্প্রতি, এই ভিআইপি চোর ও মাদক কারবারি হোসেন এর বিরুদ্ধে প্রশাসনেন বিভিন্ন দফতরে পড়া অভিযোগ তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশসহ বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর এলাকাধীন ও শহরের বিভিন্ন এলাকার ইমপোর্টার, ঠিকাদার ও ব্যবসায়িরা এসব অভিযোগ করেন। ব্যবসায়িরা জানান, দীর্ঘদিন যাবত তাঁরা দেশ-বিদেশে ব্যবসা করে আসতেছে। কিন্তু সম্প্রতি বন্দর কেন্দ্রীক চোরাকারবারীতে অতিষ্ঠ। বিদেশীদের কাছে দেশের সম্মান ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভাবেও ব্যসায়িরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
কেননা, বন্দর এলাকায় সক্রিয় রয়েছে বেশ কয়েকটি চোরাই চক্র সিন্ডিকেট। কিছুদিন আগেও পণ্যভর্তি দুই কন্টেইনার চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগেও তিনটি কন্টেইনার চুরির জন্য তিনটি ট্রেলর ঢোকানো হয় ইয়ার্ডে। এ চোরাই চক্রের মুলহোতাও কর্ণফুলীর হোছেন। বন্দরে ও জাহাজে সবকটি চুরির সাথে তার সরাসরি সম্পৃক্ত। যাকে বন্দরে চোরাই সিন্ডিকেটের গডফাদার বলে থাকেন। তার নিয়ন্ত্রণে চলে পুরো বন্দর এলাকার বিভিন্ন জোন ও জাহাজ থেকে পণ্য চুরির মহোৎসব।
এছাড়াও, ঢাকা থেকে বিদেশে রপ্তানিযোগ্য নানা পণ্য সড়ক দিয়ে চট্টগ্রামে আসার পথে ট্রাক ড্রাইভারকে আতাত করে চলে তার চোরাই ব্যবসা। কিন্তু বরাবরেই তিনি ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। ওর সাঙ্গপাঙ্গরা ধরা পড়লেও তিনি থাকেন সব সময় আড়ালে। টাকায় তিনি সবার মুখ বন্ধ রাখেন। দৃশ্যমান কোন ব্যবসা না থাকলেও তিনি এখন কোটিপতি চোর। দুদক এখনো যার নাগাল পায়নি। ভালো নাম মোহাম্মদ হোসেন। কিন্তু নিজ গ্রামের লোকজন ডাকেন চোরাইয়া হোছেন। এক সময় তিনি বন্দর জেটির লেবার বা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ছিলেন চায়ের দোকানের কারিগরও। কিন্তু হঠাৎ আঙুল ফুলে আজ কলা গাছ। দুই কোটি ব্যয়ে আলিশান বাড়ি করেন। নামে বেনামে তার বহু জমি। স্ত্রীর নামে এফডিআর। নিজের ভাইকে করে দিয়েছেন বাড়ি। এই কোটি কোটি টাকার উৎস কোথায়? ট্যাক্স ফাইল না থাকলেও তার রয়েছে আকবর নামে এক বিশ্বস্ত সোর্স। যাকে দিয়েই করান সব অপকর্ম।
চোরাই টাকায় ডান বাম হাতে দান করেন মানুষেরও বিয়েশাদিতে। যদিও এসব তার খোলস। গা বাঁচানোর ধান্ধা। বন্দর এলাকার আবার তার পরিচিতি গালকাটা হোছেন হিসেবেই। বড় বড় কন্টিনার চুরিতে তিনি বেশ দক্ষ। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তার রয়েছে একাধিক মামলাও। চুরি মালামাল ক্রয় করেও একাধিকবার সাজা কেটেছেন।
এরমধ্যে সিএমপি কর্ণফুলী থানার মামলা নং-৬৮/২৬০, তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১৯ইং, সিএমপি কর্ণফুলী থানার মামলা নং-৪৬/২০১০ইং, তারিখ ১৭ জুলাই ধারা ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, চট্টগ্রাম পটিয়া থানার মামলা নং-১৫, তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ইং। এসব মামলায় গ্রেপ্তারি পরওয়ানা থাকলেও এখনো তিনি ধরা পড়েনি। এসব অপকর্ম ডাকতে নতুন করে কর্ণফুলীর সৈন্যেরটেক এলাকার হোসেন ফুড এন্ড কনফেকশনারীর দোকান খুলে বসেছেন। যার মালিকও তিনি। এসবের আড়ালে তিনি নিজেই একটি চোর সিন্ডিকেট গড়ে তোলেছেন। অন্তত একযুগ ধরে তিনি জাহাজে পণ্য চুরি ও বন্দরে কন্টেইনার চুরি করে আসছিল এই চুরির টাকায় কাটে তার বিলাসী জীবনও। এই চোর থেকে মুক্তি পেতে আমরা ব্যবসায়িরা আপনার সহযোগিতা কামনা করছি।
অভিযুক্ত হোছেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র করতেছে কারণ আমি এখন তাদের গ্রুপ করি না। আমি এখন অন্য গ্রুপ করি তাই। আমি রাজনীতি করি চুরি করি না। আমাকে কখনো হাতেনাতে কেউ গ্রেপ্তার করেনি। চুরি ও মাদক মামলা দিছে শত্রুতা করে।’
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আ স ম মাহতাব উদ্দিন জানান, চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইমপোর্টার, ঠিকাদার ও ব্যবসায়িদের পক্ষে একটি অভিযোগ পড়েছে তা তদন্ত করছে পুলিশ। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।’







