র প্ল্যানের দুটো ভার্শন আছে একটা পিওর মতাদর্শগত আরেকটা স্ট্র্যাটেজিক, প্রথম অর্থাৎ মতাদর্শগত ভার্শন টার উৎপত্তি ইসলামী আগ্রাসনবাদ থেকে, যেটাকে সামনে রেখে পাক আর বাংলাদেশ (বর্তমানে) পশ্চিমবঙ্গ কে (সম্ভব হলে পুরো ভারত কে) দার-উল-ইসলাম এ পরিণত করতে চায়, ক্ষমতা নেই, সেটা আলাদা প্রসঙ্গ।
দ্বিতীয় ভার্শন টা purely strategic, mostly propagated by the US. চিনের বিরুদ্ধে একটা পার্মানেন্ট বেসের প্রয়োজন আমেরিকার আজ থেকে নয়, ইনফ্যাক্ট 1960s এ প্রথমে ইয়াহিয়া খানের কাছে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য, পরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর 1971 এর পরে, মুজিবের সাথেও এই নিয়ে কথা বলে আমেরিকা, কিন্তু খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি, সবশেষে বছর দুয়েক আগে শেখ হাসিনার এদের মুখের ওপর না করে দেওয়া আর তার ফল কারুরই অজানা নয়।
পরবর্তীকালে তারা বুঝতে পারে যে বঙ্গোপসাগরে একটা সিকিওর বেসের জন্য বাংলাদেশের ভূমি যথেষ্ট নয়, বিশেষ করে Russian ally ভারতের নাকের ডগায়, ঠিক এই জন্যেই পশ্চিমবঙ্গের ভূমির প্রয়োজন আছে তাদের, আর তাই পশ্চিমবঙ্গ কে ভারত থেকে আলাদা করা আমেরিকার জন্যে লাভজনক।
বর্তমানে এই দুটো ফোর্স, ইসলামী মতাদর্শগত + মার্কিং স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়াতেই পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে এই সকল দলের এত উদগ্র আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আর সেই উদ্দেশ্যে কাজ ও শুরু হয়ে গেছিলঃ
1. Uncontrolled influx of Bangladeshi & Rohingya Muslims.
2. এদের অধিকাংশ ই পশ্চিমবঙ্গে মিশে যাওয়ার সাথে সাথে শিলিগুড়ি করিডোরে ছোট ছোট ত্রিপল টাঙ্গানো ঘর দিয়ে শুরু করে ক্রমশ পার্মানেন্ট পাকাবাড়ি দাঁড় করিয়ে সেখানে থেকে যাওয়া। এতে এই চিকেন নেক এর জনবিন্যাসের দ্রুত পরিবর্তন করে প্রয়োজনে সেখানে human blockade লাগিয়ে (যাতে ফোর্স এগোতে না পারে) অল্প সময়ের জন্যেও একে ভারতের মেইনল্যান্ড থেকে বিছিন্ন করা সম্ভব (উমর খালিদ যে কথাটা বলেছিল)।
3. কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত entry/exit এ মসজিদ/মাদ্রাসা নির্মান করে সেখানে অস্ত্র মজুদ রাখা। 99% ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে আগত হিজবুত তেহরির, আন্সারুল্লা বাংলা, আলকা-য়দা, JMB র অপারেটিভ রা এই সমস্ত যায়গায় প্রাথমিকভাবে আশ্রয় নেয় ভারতের অন্যান্য জায়গায় ইনফিল্ট্রেট করার জন্য।
আবার একইসাথে ক্রাইসিসের সময়ে এই মাদ্রাসা গুলোই শহর/রাজ্যের এন্ট্রি এক্সিট choke point গুলোয় ইন্ডিয়ান আর্মির বিরুদ্ধে মানবঢাল বানিয়ে ব্লকেড দেওায় কাজে আসবে, সেই ভেবেই এই দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যান।
4. Uncontrolled Islamization through school level textbooks, 2017 এ তৃনমূল সরকারের সিদ্ধান্তে স্কুলপাঠ্য টেক্সটে রামধনু হয়ে যায় রংধনু, আকাশী হয়ে যায় আসমানী এবং একইভাবে দেদার মুসলিম নাম ঢুকে পড়ে এই নতুন ডেমোগ্রাফি কে “normalize” করার জন্য। ক্রমাগত ব্যবহারে এই নতুন প্রতিবেশীদের ভাষা, আচার ব্যবহারে ধীরে ধীরে বাংলার আদি হিন্দু বাঙ্গাালিকে অভ্যস্ত করার জন্য।
গল্প এখানেও শেষ হতে পারত, কিন্তু মার্কিন প্ল্যানিং অশিক্ষিত পাক/ পুর্ব পাকিস্তানি হুজুর বা তৃনমূলী দের চেয়ে অনেকটাই এফেক্টিভ, তাই সেটা পশ্চিমবঙ্গ কে ভারত থেকে আলাদা করার বাসনাতেই থেমে থাকছেনা, নর্থ ইস্টের একটা বিস্তৃত অংশে একটা খ্রিস্টান মোভমেন্ট উস্কে ‘কুকিল্যান্ড’ নামে একটা নতুন Christian state এর আয়ডিয়া টার ওপরেও কাজ চালানো শুরু হয়, ক্রমে আগুন লাগে মণিপুর, মিজোরামে।
সাম্প্রতিক কালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর পরই US Secretary of State মার্কো রুবিওর আগমন ও অনেকটা একই কারণে, আর এটাই প্রথম নয়, May 2012, দীর্ঘ বামশাসনের পর পালাবদলের এক বছরের মাথায় তৎকালীন মার্কিন Secretary of State হিলারি ক্লিন্টন কলকাতা আসেন ও তৎকালীন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে মিটিং ও করেন, বলেছিলেন কলকাতায় মার্কিন ইনভেস্টমেন্টের প্রসঙ্গে যদিও সেই কথিত শিল্পায়ন/ইনভেস্টমেন্ট পরে আর দেখা যায়নি, তাহলে ওনার আসার কারণ কি ছিল?
প্রশ্ন উঠছে কারণ, সাধারণত ডিপ্লোম্যাটিক ভিজিটে দিল্লী তে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে বিদেশী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ করা স্বাভাবিক, কিন্তু বিশেষ একটি স্টেটের প্রতি কোন দেশের বিশেষ আগ্রহ কখনোই নজর এড়ায়না, এক্ষেত্রেও এড়ায়নি। তবে এবারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেখা করেননি, যেটা প্রশংসার যোগ্য।
অতঃপর রুবিও কলকাতায় ভিজিট করলেন মাদার টেরেসার Missionaries of Charity এর অফিসে। এই সংস্থা টির ফরেন ফান্ড রিসিভ করার অনুমতি (FCRA status) একবার 2021 এ অল্প সময়ের জন্য রদ হয়, পরে চালু হলেও কিছু সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে এবং এই বছরে 31 December এই স্ট্যাটাস রিনিউ হওয়ার কথা, রুবিও সেটার ব্যাপারেও সরকারের কাছে দরবার করতে এসেছেন।
Missionaries of Charity যদি আনলিমিটেড বিদেশী ফান্ড তুলতে পারে, মণিপুর সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ‘কুকিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে’ মিশনারি কার্যকলাপ/ paid conversion to Christianity চালাতে সুবিধে হয়। এবং এই কুকিদের দিয়ে মায়ানমার সীমান্তে পপি চাষ, এবং সেই নার্কো-টেরর থেকে মায়ানমারের অভ্যন্তরে চিন সমর্থিত জান্টা সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন কার্যকলাপের ফান্ডিং আসে। এছাড়াও এই নর্থ ইস্টের করিডোর টা দীর্ঘমেয়াদে ওপেন রাখতে এই কনভার্টেড কুকি দের দিয়েই লোকাল হিন্দু পপুলেশনের সাথে ঝামেলা লাগিয়ে রাখলে ভারত সরকারের পক্ষে সেই দাঙ্গার আগুন নেভানো আর একইসাথে জলা-জঙ্গলে ভরা মায়ানমার সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো সম্ভব হবে না।
তাই 2023 এর পর থেকেই (এক্স্যাক্টলি মণিপুরে আগুন লাগার সাথে সাথে) সি আই এর অপারেটিভ রা এই র্যুট বেছে নিয়েছে,
Delhi — > Kolkata — > Mizoram — > সপ্তাহ খানেক কাটিয়ে রাতের অন্ধকারে জঙ্গল পেরিয়ে মায়ানমার।
এপ্রিলে ধৃত সি আই এ অপারেটিভ ম্যাথু ভান্ডাইক সহ ছয় ইউক্রেনীয় চরের র্যুট টাও ছিল এক্স্যাক্টলি তাই।
2023 এর পর ভারতে হঠাৎ করেই massive Ukrainian influx দেখেছিল ভারতের Bureau of Immigration, যেটা তাদের অবাক করে কারণ ভারত কোনদিনই ইউক্রেনীয় দের কাছে পছন্দের ট্র্যাভেল ডেস্টিনেশন ছিলো না।
এই তথ্য যখন তারা শেয়ার করে আইবির সাথে এবং ক্রমশ সেই ডেটা এসে পৌছয় R&AW র হাতে, তখন এই ইউক্রেনীয় ‘ট্যুরিস্ট’ দের ভারতে ফুটপ্রিন্ট ম্যাপ করে এই অদ্ভুত প্যাটার্ন টা ধরা পড়ে, এদের র্যুটে কলকাতা আর গুয়াহাটি থাকবেই, তখন বুঝতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয় ভারত ভাঙ্গার বিষয়ে CIA এর ডান হাত কে এবং কারা, এবং এই বিষয়ে সবচেয়ে বড় ইনপুট আসে রাশিয়ান ইন্টেলিজেন্স FSB র থেকে।
এই সুবিশাল দেশ আর তার হাজার বছরের সংস্কৃতি, যেটা ইতিহাসে অগুন্তিবার ইসলামী আগ্রাসনের শিকার হয়েও আজও নিজেদের আইডেন্টিটি ধরে রেখেছে, ইতিমধ্যেই একটা টুকরো এই invader দের নাতিপুতিদের মাগনায় গিফট করে দেওয়া হয়েছে যা থেকে, সেটা ভাঙ্গার এখনও কত বড় ষড়যন্ত্র চলছে আন্তর্জাতিক ভাবে কিন্তু এরা এটা ভুলে যায় যে our civilization is older than their existence , প্রাচ্যে আজও আব্রাহামী আগ্রাসনবাদের বিরুদ্ধে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যে সুপ্রাচীন সভ্যতা, হাজার বছর ধরে আছে, যখন আমাদের কিছু ছিল না তখনও ছিলাম, আজ তো ওয়ার্ল্ড অর্ডার ই পাল্টে গেছে, সেদিনই পারেনি এই সভ্যতা কে মুছে ফেলতে, আজ আর কি পারবে?
#বিষকন্যা
Photo: সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সাথে US Secretary of State হিলারি ক্লিন্টনের কলকাতা মিটিং (2012), reports regarding demographic change in Siliguri Corridor, Textbook modification by erstwhile govt to suit Islamic agenda, CIA operatives in Kolkata.







