বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অসুস্থ দেখানো বিএনপির পরিকল্পনার অংশ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
রোববার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি-বাচসাস নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাচসাস সভাপতি রাজু আলীম, সাধারণ সম্পাদক রিমন মাহফুজ, সহ সভাপতি অনজন রহমান, সহ সাধারণ সম্পাদক রাহাত সাইফুল, অর্থ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল আলম মিলন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ এইস মুরাদ, নির্বাহী সদস্য মাঈনুল হক ভূঁইয়া, রাশেদ আনিস, রুহুল সাখাওয়াত প্রমুখ।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় বিএনপির পরিকল্পনার অংশ হচ্ছে খালেদা জিয়াকে অসুস্থ দেখানো। কারণ খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন। কিছু দিন আগে বিএনপি নেতারা বলছিল যে, খালেদা জিয়াকে যদি বিদেশে নেওয়া না হয় তাহলে তার জীবন শঙ্কা আছে। সেটি বলার মধ্যেই আমরা দেখতে পেলাম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়ে চলে যাচ্ছেন এবং বলেছেন যে, তিনি খুব ভালো আছেন।
‘বিএনপির আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে খালেদা জিয়াকে অসুস্থ বানিয়ে রাখা ও অসুস্থ দেখানো। রাজনৈতিক ফায়দা লাভের উদ্দেশ্যে বিএনপি সেটা সব সময় করে আসছে’- যোগ করেন তিনি।
বিএনপির অভিযোগ আওয়ামী লীগ নির্বাচন-গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় গেছে। আমরা জনগণের শক্তিতে, জনগণের রায়ে বিশ্বাস করি। বিএনপি বরং নির্বাচনে বিশ্বাস করে না, সেই জন্য তারা নির্বাচন বর্জন করছে। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নির্বাচন পর্যন্ত বর্জন করেছে। তার মানেটা কী? তারা নির্বাচনে বিশ্বাস করে না। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছে, প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে তারা অংশগ্রহণ করেছিল।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কী করবে না সেটা তাদেরই সিদ্ধান্তের ব্যাপার। আমি মনে করি, গণমানুষের সংগঠন যদি ক্রমাগতভাবে নির্বাচন বিমুখ থাকে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে সেই সংগঠন আর গণমানুষের সংগঠন থাকে না। সেই সংগঠন কর্মী নির্ভর একটি কোটারি স্বার্থ রক্ষার করার সংগঠনে দাঁড়ায়।
হাছান মাহমুদ বলেন, আসলে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চান, দলটি তার একটি লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে থাক। বিএনপি তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে থাক; সেই কারণে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিতে চান না বিএনপিকে। এখন বিএনপিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে—সাত সমুদ্র, তেরো নদীর ওপাড়ে বসে থাকা কারও লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হবে নাকি বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে।







