রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: গাইবান্ধায় পানির অভাবে পাট পচানো ও আমন ধানের চারা রোপণ করা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে কৃষকগণ। ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ছয় ঋতুর মধ্যে আষাঢ ও শ্রাবণ মাস হলো বর্ষাকাল। বর্ষাকালে খাল,বিল নদী নালায় পানি থৈ থৈ করে। কিন্তু সেই বর্ষাকালের শ্রাবণ মাসেও খাল-বিল, পুকুর,নদী-নালায় পানি নেই। পানি অভাবে গাইবান্ধার কৃষকগণ পাট পচাতে পারছে না। আমন ধানের চারা রোপণ করছে পারছে না। অনেকেই বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দিয়ে নিচু স্থান বা পুকুরে পাট পচাচ্ছে। এছাড়াও শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচ দিয়ে আমন ধানের চারা রোপণ করছেন। কৃষকদের অবস্থা এখন অনেকটাই তৃষ্ণার্ত চাতক পাথির মতো। আকাশের পানে তাকিয়ে আছেন পানির জন্য। পানির অভাবে জাগ (পানিতে ডুবিয়ে পচানো) দিতে না পেরে কেটে বাধ্য হয়ে জমিতে স্তুপ করে রেখেছেন। আবার কেউ কেউ পাট কাটছেন না। অপেক্ষা করছেন বৃষ্টির জন্য। গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান সরকার বলেন, তোষা পাটের ব্যাপক চাষ হয় গাইবান্ধার ১৬৫টি চরাঞ্চলে। কিন্তু এ বছর অনাবৃষ্টি, খরা ও তাপপ্রবাহের কারণে বিপাকে পড়েছে পাটচাষিরা। গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সাঘাটা, পলাশবাড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা সদর এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নালা, খাল-বিল, পুকুর-ডোবা ও জলাশয় শুকিয়ে গেছে। ভরা মৌসুমে পাট পচানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। পাটচাষি মহিউদ্দিন বলেন, বৃষ্টির আশায় পাট কেটে জমিতে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। দিনের পর দিন অপেক্ষা করছি। কিন্তু বন্যা বা বৃষ্টির দেখা নেই। বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে স্তুপ করে রাখা পাট শুকিয়ে যাচ্ছে। মূল্যবান এ পাট পচানোর ব্যবস্থা করতে পারছি না। অনেকে এলাকায় জলাশয়ে ও পুকুরে সেচ দিয়ে পাট পচানোর ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু জলাশয় ও পুকুরে সেচ দেয়া পানিও থাকছে না। দু-তিন দিনের মধ্যেই সেই পানিও শুকিয়ে যাচ্ছে। গাইবান্ধা জেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সাঘাটা উপজেলায় তিন হাজার দুই হেক্টর, গাইবান্ধা সদরে ৯৪৫ হেক্টর, সাদুল্লাপুরে ৪৮০ হেক্টর, গোবিন্দগঞ্জে ৬৪১ হেক্টর, ফুলছড়িতে চার হাজার ৩৯০ হেক্টর, পলাশবাড়িতে ২৯০ হেক্টর এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় চার হাজার ৫৬৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। ভরা মৌসুম হওয়ায় ইতোমধ্যে পাট কাটা শুরু হয়েছে। পাট পচানোর জন্য ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগে। প্রতি বিঘা জমিতে আট থেকে নয় মণ পাট উৎপাদন হয়। বর্তমান বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা করে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের পোড়ার চরের রেজা মেম্বার বলেন, ২০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। কিছু পাট তিস্তা নদীতে পচাতে দিয়েছেন। গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের শাহিন মিয়া বলেন, বাড়ির আশেপাশের পুকুরে পানি নেই। ১০ দিন হলো পাট কেটে জমিতে স্তুপ করে রেখেছেন। পানি না থাকায় পচানোর জন্য জাগ দিতে পারছেন না। ইতোমধ্যে জমিতে পাট শুকিয়ে গেছে। সেচ দিয়ে পানি ভর্তি করে পচানোর ব্যবস্থা করা হলেও পানি দিতে হচ্ছে প্রতিদিন। এতে করে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, তারপরও পাটের রঙ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। পাটের রঙ ভালো না হলে দাম ভালো হবে না। এমনকি খরচ উঠবে না। গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক বেলাল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন হয়েছে। পাট চাষিরা এখন অনেক লাভবান। কারণ পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠির দামও অনেক ভালো। তিনি আরও বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে জলাশয়সমূহ শুকিয়ে গেছে। অনেকে সেচের মাধ্যমে জিলাশয়ে পানি দিয়ে এবং ব্যক্তিগত পুকুরে পাট পচানোর ব্যবস্থা করছেন।
অপ্রতিমের হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
কুমিল্লা: অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার...








