রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে অসুস্থ মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখে গুলশানের বাসায় ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার পর তিনি গুলশান অ্যাভেনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে পৌঁছান। সেখানেই পরিবার নিয়ে অবস্থান করবেন তিনি। বাড়িটির পাশেই তাঁর মায়ের আবাস ‘ফিরোজা’।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরে দুপুরে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত গণসংবর্ধনায় অংশ নেন তারেক রহমান। সেখান থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করেন তিনি। এর আগে হাসপাতালে পৌঁছান তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জায়মা রহমান। তাঁদের আগমনকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ২৭ নভেম্বর তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে নেওয়া হয়।
গণসংবর্ধনায় দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে শান্তি বজায় রাখতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং কোনো উস্কানিতে পা দেওয়া যাবে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ৭১ সালে যেমন স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, ২০২৪ সালেও সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। একইভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার। তিনি বলেন, এ দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবাই বসবাস করে। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে পাহাড় ও সমতলের নারী, পুরুষ ও শিশু নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে পারবে।
সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাসে ওঠার আগে জুতা খুলে মাটিতে পা রাখেন তারেক রহমান এবং হাতে একমুঠো মাটি নেন। এ দৃশ্য উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জায়মা রহমানকে বিমানবন্দরে বরণ করে নেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য। বিমানবন্দর থেকে লাল-সবুজ রঙের বিশেষ বাসে করে তিনি পূর্বাচলের গণসংবর্ধনাস্থলে যান।







