বায়েজীদ গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধ :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের বানেশ্বর বাহারুল উলুম নোমানিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভুয়া ম্যানেজিং
কমিটির বোর্ড অনুমোদন নিতে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠান প্রধান,
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে একাডেমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সীল স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অনলাইনে শিক্ষাবোর্ডে দাখিলের বিষয়টি সুপারিনটেনডেন্ট
অস্বীকার করলে বিষয়টি নজর কেড়েছে উপজেলাবাসীর। মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট ও ম্যানেজিং কমিটির সম্পাদক মো. আব্দুল
ওহাব গত ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড রেজিস্ট্রার বরাবর ২৩ নভেম্বরের অনুমোদিত ভুয়া ম্যানেজিং কমিটি
বাতিল ও নতুন বৈধ কমিটি অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক ড্রাফট ও কাগজপত্র সহ আবেদন করলেও তা অনুমোদন না
হওয়ায় ধারাবাহিক আন্দোলনে রয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ সহ অভিভাবকরা।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, যে ৭জন নির্বাচিত হয়েছে তাদের কে বাদ দিয়ে একটি পক্ষ তফশিল ও নির্বাচনি
কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কমিটি অনুমোদন করে আনে। যেখানে কাগজপত্রে ব্যপক গড়মিল রয়েছে।
নির্বাচনে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বপালনকারী উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার ফিরোজ আলম জানান, অনুমোদিত
কমিটির ব্যক্তিরা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করেছেন। তাদেরকে বিজয়ী করে আমি কোনো ফলাফল প্রকাশ
করিনি।
ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিন প্রামানিক বলেন,
প্রতিষ্ঠানের সুপার নিজেই জাল-জালিয়াতি করে ভুয়া কমিটি অনুমোদন করিয়েছে। তিনি এর আগেও একাধিকবার এভাবে কমিটি
পাশ করিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। ২০০৮ সালে আমার কাছ থেকে সভাপতি বানানোর জন্য ৫ লাখ টাকা নিলেও তিনি
অন্যজনকে সভাপতি বানান। তিনি সুপারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী সাইজার রহমান জানান,
ভুয়া কমিটি অনুমোদন করার পর থেকে সুপার সাহেব প্রতিষ্ঠানে আসেন না। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্নস্থানে থেকে আমাকে
ডেকে নিয়ে কাগজপত্রে সহি-স্বাক্ষর করেন।
নির্বাচনে বিজয়ী মো. মিজানুর রহমান আন্টু বলেন,
প্রতিষ্ঠানটির সুপার বিধিমতে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষে গত ৭ আগস্ট ২০২২ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর
আবেদন করেন। আবেদন সূত্রে ৮ আগস্ট প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ সহ যথানিয়মে নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে মনোনীত করা হয়। প্রিজাইডিং অফিসার ২২ আগস্ট নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করে।
যেখানে ২৮, ২৯ ও ৩০ আগস্ট মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমাদান, যাচাই ১ সেপ্টেম্বর, প্রত্যাহার ৪ সেপ্টেম্বর ও নির্বাচন ১৬
সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়। এসব কাগজপত্র জাল-জালিয়াতি করে নির্বাচনে বিজয়ীদের পাশ কাটিয়ে সুপারের পছন্দমত লোকদের
বিজয়ী দেখিয়ে কমিটির বোর্ড অনুমোদন নেয়।
অনুমোদিত ভুয়া কমিটির অভিভাবক সদস্য রুবেল মিয়া, সাধারণ শিক্ষক সদস্য আল আমিন, আব্দুল জলিল এবং সংরক্ষিত
মহিলা শিক্ষক সদস্য আরেফিন জাহান, জানান আমরা তো মনোনয়ন পত্র ক্রয় করিনি তাহলে আমরা কি ভাবে সদস্য হলাম।
প্রতিষ্ঠানের সুপার মো. আব্দুল ওহাব জানান, গত ৪ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, বকশী বাজার, ঢাকায়
স্বশরীরে রেজিস্ট্রার বরাবর মৌখিক এবং অভিযোগ ফি দুই হাজার টাকা জমা করে অভিযোগ করেছি। এছাড়া ভুয়া কমিটি বাতিল
করে বৈধ কমিটি অনুমোদনের জন্য একহাজার টাকা ফি জমা সাপেক্ষে কাগজপত্র দাখিল করেছি।
তিনি আরও জানান, গত ২৩ নভেম্বর বোর্ড কর্তৃক যে মানেজিং কমিটি অনুমোদন হয়েছে তাহা সম্পুর্ণ অবৈধ এবং ভুয়া কমিটি
বটে। কে বা কাহারা আমার নাম, পদবী, মোবাইল ব্যবহার করে কমিটি দাখিল করে। আমি এই ভুয়া কমিটি দাখিল করি নাই। এই
ভুয়া এবং অবৈধ কমিটি বাতিলকরণের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ ঘটনায় ভুয়া এবং অবৈধ কমিটি দ্বারা বিল বেতনভাতা উত্তোলন এবং কার্যক্রম চলানোয় প্রতিষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে
স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
আবু হানিফ মো বায়েজীদ








