চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় ছাত্রলীগের এক নেতার মরদেহ উদ্ধার নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরির চেষ্টা চলছে, তা আমাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। যেখানে সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রাথমিক পুলিশি তদন্ত স্পষ্টভাবে বিষয়টিকে পারিবারিক কলহজনিত আ()ত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে, সেখানে একটি মহল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একে ‘রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার মিশনে নেমেছে।
গুজব ছড়ানোর কারিগররা ভুলে যায় যে আমরা প্রযুক্তির যুগে বাস করি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বিএসআরএম-এর নৈশপ্রহরী এবং ছাত্রলীগের ওই নেতা একা একাই ফ্লাইওভারে উঠে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। এখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি বা ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তেও উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তির কথা। অথচ এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে পুঁজি করে অনলাইনে সহানুভূতির আড়ালে চলছে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা।
বাংলাদেশে ‘লাশের রাজনীতি’ নতুন কিছু নয়। বিরোধী পক্ষকে ফাঁসাতে বা জনমনে অস্থিরতা তৈরি করতে একটি মৃতদেহকে ‘রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করার এক নোংরা সংস্কৃতি এ দেশে জেঁকে বসেছে।
গুজব বনাম বাস্তবতা:** জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে পুঁজি করে যারা একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলছে, তারা আসলে জনগণের আবেগকে অপব্যবহার করতে চাচ্ছে।
ফায়দা লোটার কৌশল:** কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিএনপি-জামায়াতকে জড়িয়ে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তার লক্ষ্য একটাই—দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে জনমত গঠন করা।
যখন একটি দেশের রাজনীতি সুষ্ঠু ধারা হারিয়ে ‘লাশ গোনার’ প্রতিযোগিতায় নামে, তখন সত্য গৌণ হয়ে যায়। পারিবারিক বিবাদ বা ব্যক্তিগত হতাশার মতো গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো চাপা পড়ে যায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নিচে।
> **আমাদের দেশের মানুষ বিরোধী পক্ষকে ফাঁসানোর জন্য কতটা ‘এক্সপার্ট’, তা বর্তমান ডিজিটাল অপপ্রচারের বহর দেখলেই বোঝা যায়। এই সংস্কৃতি শুধু রাজনীতিকে নয়, সমাজকেও বিষাক্ত করছে।**
একটি আত্মহত্যার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে সেই মৃত্যুকে ব্যবহার করে যারা মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে, তারা আসলে ওই ব্যক্তির লাশের ওপর দাঁড়িয়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি চাইলে আমাদের আগে ‘গুজব’ এবং ‘নোংরা রাজনীতির’ কবল থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সত্য যখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার, তখন অন্ধের মতো রাজনৈতিক রঙ মেখে গুজব ছড়ানো কেবল দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করে।
পারিবারিক অশান্তি বা ব্যক্তিগত হতাশা কি কেবল একটি রাজনৈতিক তকমা দিলেই ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব? উত্তরটা সময়ের কাছে থাক।
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ...







