তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর পাকড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন ও তাঁর ভুমিদস্যু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোটি টাকা মুল্যের ৮ বিঘা জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ২৭ জুন মঙ্গলবার ভুক্তভোগী গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মাদারপুর মহল্লার নওশাদ আলী গোদাগাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম কাঁকনহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন চেয়ারম্যান জালাল উপরের নির্দেশে ওই জমি জবরদখল করে সড়ক করবেন বলে ঘোষণা দিয়ে, তিনটি ট্রাক্টর চালিয়ে জমিগুলির আইল ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়েছেন। এই জমি আবাদযোগ্য করতে কয়েক লাখ টাকা খরচ হবে।
অভিযোগে প্রকাশ, উপজেলার পাকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন ও তার নিয়ন্ত্রাধীন শক্তিশালী ভুমিদস্যু সিন্ডিকেট রয়েছে। সম্প্রতি নওশাদ আলী
তাঁর ছেলে আলমগীর হোসেন ও কণ্যা আয়েশা খাতুনের নামের ১০৮ নম্বর বাশৈল মৌজার ১২৯ ও ৫৯ নম্বর আরএস খতিয়ানভুক্ত ২২২, ২৭৯ ও ২৯৪ নম্বর দাগের ২ দশমিক ৬৭ একর জমি ক্রয় করেন। জমিগুলির বাজার দাম প্রায় কোটি টাকা। বৈধ কাগজপত্র যাচাই শেষে জমিগুলির মুল মালিকদের কাছ থেকে রেজিষ্ট্রি করে যথারীতি খারিজ সম্পন্ন করে খাজনা পরিশোধ করেছেন। চাষাবাদের সুবিধার্থে সম্প্রতি তিনি জমিগুলির আইল সংস্কার করেন কয়েক লাখ টাকা খরচ করে। আমন আবাদের জন্য আমিরুল ইসলাম নামের একজনকে বর্গা দেওয়া হয়েছিল। আমিরুল জমিগুলিতে আমন রোপনের জন্য প্রস্তুতি করছিলেন।
এদিকে গত ২৬ জুন মঙ্গলবার পাকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান, জালাল উদ্দিন, ৮ নম্বর ইউপি সদস্য দুলাল উদ্দিন, ইকবাল হোসেন , ডলার আলী, পিয়ারুল, বায়েজিদ বোস্তামি, মিজানুর রহমান, মানিক আলী, এনামুল হক, মোর্শেদ আলী, কামরুল, পলাশ উদ্দিন, সেলিম রেজা, আসলাম আলী, এনারুল, ইব্রাহিম হোসেন দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক তিনটি ট্রাক্টর ট্রাক্টর দিয়ে জমির আইল ভেঙ্গে তছনছ করে দেন। এসময় নওশাদ আলী ও তার বর্গাদার তাদেরকে বাধা দিতে গেলে জালাল চেয়ারম্যান তাদের প্রাণনাশের হুমকি ও সেখানেই পুঁতে রাখার ঘোষণা দিয়ে রাম-দা নিয়ে ধাওয়া করে। প্রাণ বাঁচাতে নওশাদ আলী ও তার সহযোগীরা পালাতে বাধ্য হন।
অভিযোগে আরও জানা যায়, জালাল চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে জমি দখলের সময় জমির মুল মালিক ও বিক্রেতারাও ঘটনাস্থলে গিয়ে কেন তাদের বিক্রয় করা এই জমি দখল নেওয়া হচ্ছে বলে জানতে চান। এ সময় জালাল চেয়ারম্যান তাদেরকে বলেন, এটা আমার এলাকা। এখানে বাহিরের কোন লোক জমি কিনে চাষাবাদ করতে পারবে না। আমি ওই জমির ওপর দিয়ে একটি রাস্তা করবো। উপর মহল আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
জমির মালিক আলমগীর হোসেন ও আয়েশা খাতুনের বর্গাদার আমিরুল ইসলাম অভিযোগে বলেন, জমি দখলে আমি বাধা দিতে গেলে জালাল চেয়ারম্যান আমাকে বলেন, আমি এমপির লোক। আমি যা বলব সেটাই হবে। এই জমি আমি পুরোটাই দখলে নিয়ে বড় করে সড়ক বানিয়ে দেব। পার্শ্ববর্তী জয়রামপুর স্কুলের জন্য একটি খেলার মাঠ বানিয়ে দেব। চেয়ারম্যান আমাকে অস্ত্র নিয়ে তাড়া করলে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জালাল আগে পাকড়ি ইউপির মেম্বার ছিলেন। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে সে চেয়ারম্যান হয়েছেন। এলাকার বাহিরের লোকজন জমি কিনলে সে সেখানে নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি করে টাকা পয়সা আদায়ের চেষ্টা করেন। জমি দখলের জন্য জালাল চেয়ারম্যানের একটি ভুমিদস্যু সিন্ডিকেট আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য (মেম্বার) বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের নানামুখী অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। তিনি এখন সাধারণ মানুষের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক। তার কারণে এলাকায় এমপি এবং আওয়ামী লীগের ইমেজ সংকট দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পাকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, ব্রিটিশ আমলের নকশাতে জমিগুলির ওপর দিয়ে একটি ডহর বা রাস্তা আছে। কিন্তু হাল বা আরএস সেটেলমেন্টে তা নেই। এলাকার লোকজন জমির ওপর দিয়ে একটি রাস্তা করার জন্য আমার কাছে অনুরোধ করেছিলেন। সে কারণে আমি সেদিন ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। জমি দখলের স্বপক্ষে ভুমি আইনে স্বীকৃত বৈধ কোন কাগজপত্র আপনার কাছে কিনা জানতে চাইলে জালাল স্বীকার করেন তার কাছে কোন বৈধ কাগজপত্র নাই। এবিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি কামরুল হাসান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাঁকনহাট ফাঁড়ির ইনচার্জকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।#
Post Views: 196
Related