আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির দাবি, এতে কয়েকটি মার্কিন বিমান ধ্বংস হয়েছে এবং আরও অনেক বিমান গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তারা ইরানের ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এতে কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। হামলা-পাল্টা হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির এসব দাবির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ‘যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে’ এবং ‘আরও অনেক বিমানের গুরুতর ক্ষতি করেছে।’
এ ছাড়া জর্ডানের নাগরিকদের তাদের দেশে অবস্থানরত ‘আগ্রাসী ও ইসলামবিরোধী আমেরিকানদের স্বার্থের বিরুদ্ধে’ হামলা চালানোর আহ্বানও জানিয়েছে আইআরজিসি।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানশাহরে ইরানি সেনাদের নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে সিরিয়ার আল-তানফে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টারেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এ বিষয়ে সিরিয়া সরকার বা মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, সিরিয়া, জর্ডান ও ইরাকের সীমান্তসংলগ্ন আল-তানফ ঘাঁটি থেকে তারা সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়া আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এড়াতে বরাবরই চেষ্টা করছে সিরিয়া। লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের লড়াই এবং ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন ও রকেট হামলার মধ্যেই এই অবস্থান নিয়েছে দেশটি।
এদিকে ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর এরবিল ও সুলাইমানিয়ায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অবশ্য ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চালায়। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠী কোমালা। এতে অন্তত ৯ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে অতীতে কোমালাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে দেশটি।
এছাড়া কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। কুয়েতে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মরুভূমিবেষ্টিত ছোট দেশটির জন্য এই স্থাপনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। এরপর থেকেই প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানে বিমান হামলার পরিধি বাড়িয়েছে। দেশটির বিভিন্ন সেতু, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের টাওয়ারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের চাপ কমাতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন। এসব হামলা সেই কৌশলেরই অংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর ও দ্বীপগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত রয়েছে। আহভাজ, কেশম, বুশেহর, দাশতি, বোস্তান, সিরিক এবং বন্দর-ই-লেঙ্গেহ শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আগের রাতগুলোর তুলনায় এসব হামলায় অবকাঠামোর বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বন্দর-ই-খামির শহরের কাছে তিনটি সেতুতে হামলা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দর আব্বাসের তাপেহ আল্লাহ আকবর এলাকায় এবং আরও কয়েকটি স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, হরমোজগান প্রদেশে সড়ক ও রেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।
ইরানশাহরে একটি বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে। এতে স্থাপনাটির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিশ দ্বীপেও বিমান হামলা হয়েছে। এতে কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
জর্ডান-কুয়েতের পর বাহরাইনেও হামলা ইরানের, অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত
![]()
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এখন পর্যন্ত বহু মানুষ নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। শুক্রবারের সর্বশেষ হামলাতেও নতুন করে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।







