আলাদা তবে এটাও জেনে রাখুন:
জাপানি সৈনিকদের জন্য কমফোর্ট উইমেন:
কোরিয়ান নারী কিম বলেন,
“আমি যখন ১৭ বছর বয়সী, তখন জাপানি সৈন্যরা ট্রাকে করে এসে আমাকে টেনে হিচরে তুলে নিয়ে যায়। আমাকে বলা হল, টেক্সটাইল ফ্যাক্টরিতে তোমাকে চাকরি দেয়া হবে আর প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারবে।
তবে প্রথম দিনই আমি ধর্ষিত হই যা বন্ধ হয়নি.. .তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জাপানী সৈন্যরা তাকে দিনে ৩০-৪০ বার ধর্ষন করত -বছরের প্রতিটি দিন।
তিনি আরও বলেন, আমি একজন নারী হয়ে জন্মেছি কিন্তু কখনো একজন নারী হিসেবে বেঁচে থাকিনি… আমি এখনও যখন কোন পুরুষের কাছাকাছি আসি তখন আমি অসুস্থ বোধ করি, শুধু জাপানি পুরুষদের নয়, সমস্ত পুরুষ-এমনকি আমার নিজের স্বামীও, যিনি আমাকে কমফোর্ট স্টেশন থেকে বাঁচিয়েছিলেন, তাকে দেখলেও কখনো কখনো আমি আতঙ্কিত হই। আমি যখনই জাপানের পতাকা দেখি তখনই কেঁপে উঠি… কেন আমি লজ্জিত হব? আমার লজ্জা বোধ করলে হবে না।”
কোরিয় মহিলা কিম কিছু কাল আগে এমন ভাবে বলে কমফোর্ট উইমেনদের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জাপানিরা জয় করা এলাকা থেকে মেয়েদেরকে অপহরণ করে নিয়ে সেই মেয়েদের যুদ্ধরত সৈন্যদের কমর্ফোট দিতে ব্যবহার করত।
জাপান এই বিষয়টি নিয়ে নিরব থাকলেও ফিলিপাইন, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি ইত্যাদি দেশে বেঁচে থাকা কমফোর্ট উইমেনরা বা তাদের ছেলেমেয়েরা সেই নির্মম অত্যাচারের কথা, লাঞ্ছনার কথা, বেদনার কথা আজও বিস্মৃত হয়নি। যুদ্ধরত সৈন্যদের আনন্দ দিতে জাপানি মিলিটারি পুলিশ বা ঠিকাদার অথবা তাদের নিয়োজিত দালাল কর্তৃক প্রায় 5 লক্ষ মেয়ে অপহৃত হয়েছিল। এদের মধ্যে অসংখ্য কিশোরী মেয়েও ছিল।
অপহরণের পর অনেক মেয়েকেই স্টেরিলাইজ করা হতো। দেখতে ভালো তরুণীদেরকে জাপানী সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসারদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হতো। বিজিত ইউরোপীয় এশিয়ান কলোনি থেকে কিছু ইউরোপীয় মেয়েও সংগ্রহ করা হয়েছিল। এমনকি জাপানের মূল ভূখন্ড থেকেও উচ্চ বেতনের চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে অনেক মেয়েকে আনা হয়েছিল।
এই সমস্ত মেয়েদের কমফোর্ট স্টেশনে রাখা হতো যেখানে সৈন্যরা তাদের ব্যবহার করতো। মেয়েদের পোশাক এবং খাদ্য ছাড়া আর কোন কিছু দেওয়া হতো না। নির্মম অত্যাচারের ফলে, কখনো সৈন্যদের গুলিতে বা অসুখে আক্রান্ত হয়ে কমফোর্ট স্টেশনে থাকা মেয়েদের অনেকেই মারা যেত। যুদ্ধশেষে যে মেয়েরা বেঁচে ছিল তারা শারীরিক এবং মানসিকভাবে এত বিপর্যস্ত ছিল যে তাদের বেশির ভাগ আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেনি।
কোরিয়ার জাপানি এম্বাসির সামনে এই সমস্ত কমপোর্ট মহিলাদের সম্মানে কিছু স্ট্যাচু স্থাপন করা হয়েছে তবে জাপানি কর্মকর্তারা প্রায়শ সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে থাকেন।
ছবি:
১) Chinese and Malayan girls forcibly taken from Penang by the Japanese to work as ‘comfort girls’ for the troops
২) A former South Korean “comfort woman” poses for photographs at the Seoul Comfort Women Memorial in Seoul.






