স্থানীয় সুত্রে জানা যায় ,খাকুরিয়া গ্রামের দাদন ব্যবসায়ী জুলু মন্ডলের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাদন নেন সিরাজুল ইসলাম। এ টাকার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল দাদন ব্যবসায়ী জুলু মন্ডল। শনিবার বিকাল ৪টার দিকে ওই টাকা আদায়ের জন্য সিরাজের বাড়িতে আসে জুলু মন্ডল। বাড়িতে এসেই সিরাজকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন দাদন ব্যবসায়ী। এক পর্যায় দরিদ্র সিরাজুল ইসলাম তার কাছে টাকা নেই বলে জানান। তার কোনো কথা শুনতে রাজি না, টাকা দিতে হবে বলে চাপ প্রয়োগ ও বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকেন দাদন ব্যবসায়ী জুলু। এ সময় সিরাজুল ইসলাম মাটিতে পড়ে গিয়েই ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় বিকেল ৫ টায় পুলিশ জুলুর স্ত্রী আছমা বেগম(৪০) ও ভাই মোফাজ্জল (৪৫) কে আটক এবং সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। স্ত্রী ও ভাইকে আটকের পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে জুলু। তবে দাদন ব্যবসায়ী জুলু সিরাজুল ইসলামকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছে বলে এলাকার কিছু লোক জানালেও নিহতের পরিবার এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজী হয়নি।
এদিকে শুক্রবার দোপাদহ গ্রামের আব্দুর রশিদের ছোট মেয়ে ইতি খাতুনের বিয়ে হয়। শনিবার দুপুরে প্রতিবেশী ইউনুসের বাড়ির রাস্তা দিয়ে নববিবাহিত মেয়ের বাড়িতে ভ্যান দিয়ে মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় ইউনুস বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়া ও হট্টগোল লেগে যায়। এ সময় প্রতি পক্ষের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে জ্ঞান হারান আব্দুর রশিদ। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। স্থানীয় কিছু মাতাব্বররা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। এ ঘটনায় দুপুর ৩ টায় ইউনুস আলী ও তার স্ত্রী রহিমা খাতুন এবং তার ছেলে রুবেল মিয়া (৩০) কে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তাদের আটকের পর থেকেই ২ পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যাক্তিরা ঘটনার সমঝোতার জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করেছে । এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছিল । ২ নিহতের ঘটনায় সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনী ব্যবস্থার জোর দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ।
সরিষাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ মহব্বত কবীর বলেন, ২ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







