Sunday, September 20, 2026
  • সম্পর্কিত
  • যোগাযোগ
  • শর্তাবলী
  • গোপনীয়তা নীতি
  • বিজ্ঞাপন দিন
  • Login
দৈনিক দেশের সংবাদ
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • বিশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশ
  • করোনাভাইরাস
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • বিভাগ সমূহ
    • ঢাকা বিভাগ
    • চট্টগ্রাম বিভাগ
    • সিলেট বিভাগ
    • খুলনা বিভাগ
    • রাজশাহী বিভাগ
    • বরিশাল বিভাগ
    • রংপুর বিভাগ
    • ময়মনসিংহ বিভাগ
  • চাকরি
  • খেলা ধুলা
  • বিনোদন
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
দৈনিক দেশের সংবাদ
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • বিশেষ সংবাদ
  • বাংলাদেশ
  • করোনাভাইরাস
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • বিভাগ সমূহ
    • ঢাকা বিভাগ
    • চট্টগ্রাম বিভাগ
    • সিলেট বিভাগ
    • খুলনা বিভাগ
    • রাজশাহী বিভাগ
    • বরিশাল বিভাগ
    • রংপুর বিভাগ
    • ময়মনসিংহ বিভাগ
  • চাকরি
  • খেলা ধুলা
  • বিনোদন
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
দৈনিক দেশের সংবাদ
No Result
View All Result
Home বাংলাদেশ

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ১০৭ বছর

admin by admin
April 13, 2026
in বাংলাদেশ, বিশেষ সংবাদ, মতামত
Reading Time: 2 mins read
1 0
A A
0
0
SHARES
10
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter

বল বীর-
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি,
নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রীর!

বল বীর –
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া,
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া
উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাত্রীর!
মম ললাটে রুদ্র-ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!

বল বীর –
আমি চির-উন্নত শির!
আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!

আমি দুর্ব্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃংখল!
আমি মানি নাকো কোনো আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম,

ভাসমান মাইন!
আমি ধূর্জ্জটী, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর!
আমি বিদ্রোহী আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-বিধাত্রীর!

বল বীর –
চির উন্নত মম শির!
আমি ঝঞ্ঝা, আমি ঘূর্ণী,
আমি পথ-সম্মুখে যাহা পাই যাই চূর্ণী!
আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ।
আমি হাম্বীর, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল,
আমি চল-চঞ্চল, ঠুমকি’ ছমকি’
পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’
ফিং দিয়া দিই তিন দোল্!
আমি চপলা-চপল হিন্দোল!

আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা’,
করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা,
আমি উন্মাদ, আমি ঝঞ্ঝা!
আমি মহামারী, আমি ভীতি এ ধরিত্রীর।
আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ণ চির-অধীর।

বল বীর –
আমি চির-উন্নত শির!
আমি চির-দুরন্ত-দুর্ম্মদ,
আমি দুর্দ্দম, মম প্রাণের পেয়ালা হর্দ্দম্ হ্যায়্ হর্দ্দম ভরপুর মদ।
আমি হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক, জমদগ্নি,
আমি যজ্ঞ, আমি পুরোহিত, আমি অগ্নি!
আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,
আমি অবসান, নিশাবসান।
আমি ইন্দ্রাণি-সূত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য্য,
মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।
আমি কৃষ্ণ-কন্ঠ, মন্থন-বিষ পিয়া ব্যথা বারিধির।
আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।

বল বীর –
চির উন্নত মম শির।
আমি সন্ন্যাসী, সুর-সৈনিক
আমি যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান গৈরিক!
আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনা ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!
আমি বজ্র, আমি ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার,
আমি ইস্ত্রাফিলের শিঙ্গার মহা-হুঙ্কার,
আমি পিনাক-পাণির ডমরু-ত্রিশূল, ধর্ম্মরাজের দন্ড,
আমি চক্র ও মহাশঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ-প্রচন্ড!
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা-বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব!
আমি প্রাণ-খোলা-হাসি উল্লাস, – আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস,
আমি মহা-প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু-গ্রাস!
আমি কভু প্রশান্ত, – কভু অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী,
আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্প-হারী!
আমি প্রভঞ্জনের উচ্ছাস, আমি বারিধির মহাকল্লোল,
আমি উজ্জ্বল আমি প্রোজ্জ্বল,
আমি উচ্ছল জল-ছল-ছল, চল-ঊর্মির হিন্দোল্ দোল!

আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণী, তন্বী-নয়নে বহ্নি,
আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম-উদ্দাম, আমি ধন্যি।
আমি উন্মন মন উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা-হুতাশ আমি হুতাশীর!
আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির-গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয়-লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের!
আমি অভিমানী চির-ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়,
চিত-চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম পরশ কুমারীর!

আমি গোপন প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল ক’রে দেখা অনুখন,
আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তা’র কাঁকন-চুড়ির কন্-কন্।
আমি চির-শিশু, চির-কিশোর,
আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচর কাঁচলি নিচোর!
আমি উত্তর-বায়ু, মলয়-অনিল, উদাসী পূরবী হাওয়া,
আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীনে গান গাওয়া!
আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র রবি,
আমি মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি! –
আমি তুরিয়ানন্দে ছুটে চলি এ কি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!
আমি উত্থান, আমি পতন, আমি অচেতন-চিতে চেতন,
আমি বিশ্ব-তোরণে বৈজয়ন্তী, মানব বিজয় কেতন!

ছুটি ঝড়ের মতন করতালি দিয়া স্বর্গ-মর্ত্ত্য করতলে,
তাজি বোরবাক্ আর উচ্চৈস্রবা বাহন আমার হিম্মত-হ্রেস্বা হেঁকে চলে!

আমি বসুধা-বক্ষে আগ্নেয়াদ্রি, বাড়ব-বহ্নি, কালানল,
আমি পাতালে মাতাল অগ্নি-পাথর-কলরোল-কল-কোলাহল!
আমি তড়িতে চড়িয়া উড়ে চলি জোর তুড়ি দিয়া, দিয়া লম্ফ,
আমি ত্রাস সঞ্চারি ভুবনে সহসা, সঞ্চরি’ ভূমি-কম্প!
ধরি বাসুকির ফনা জাপটি’, –
ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি’!
আমি দেব-শিশু, আমি চঞ্চল,
আমি ধৃষ্ট আমি দাঁত দিয়া ছিঁড়ি বিশ্ব-মায়ের অঞ্চল!

আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
মহা-সিন্ধু উতলা ঘুম্-ঘুম্ ঘুম্ চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝ্ঝুম্
মম বাঁশরী তানে পাশরি’
আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী।
আমি রুষে উঠে’ যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া,
ভয়ে সপ্ত নরক হারিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া!
আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া!

আমি শ্রাবণ প্লাবন- বন্যা, কভু ধরণীরে করি বরণিয়া, কভু বিপুল ধ্বংস-ধন্যা –
আমি ছিনিয়া আনিব বিষ্ণু-বক্ষ হইতে যুগল কন্যা!
আমি অন্যায়, আমি উল্কা, আমি শনি,
আমি ধূমকেতু-জ্বালা, বিষধর কাল-ফণি!
আমি ছিন্নমস্তা চন্ডী, আমি রণদা সর্বনাশী,
আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!

আমি মৃণ্ময়, আমি চিন্ময়,
আমি অজর অমর অক্ষয়, আমি অব্যয়!
আমি মানব দানব দেবতার ভয়,
বিশ্বের আমি চির দুর্জ্জয়, জগদীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম সত্য,
আমি তাথিয়া তাথিয়া মথিয়া ফিরি এ স্বর্গ-পাতাল-মর্ত্ত্য
আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!!
আমি চিনেছি আমারে, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!!
আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার,
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
আমি হল বলরাম স্কন্ধে,
আমি উপাড়ি’ ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে।

মহা-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল, আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত!
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ-হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব-ভিন্ন!
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি চির-বিদ্রোহী বীর –
আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!

-(‘বিদ্রোহী’ – কাজী নজরুল ইসলাম)

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে পরাধীন অবিভক্ত ভারতবর্ষের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আলোচিত কুখ্যাত গণহত্যা জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের একশত সাত বছর পূর্ণ হয়েছে আজ।

১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল আলোড়ন সৃষ্টিকারী মর্মস্পর্শী ঘটনা হচ্ছে এই হত্যাকাণ্ড। এই দিনে ব্রিটিশ প্রশাসনের নির্দেশে অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসর শহরে জালিয়ানওয়ালাবাগের সমাবেশে কয়েকশ সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়।
তখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সবেমাত্র শেষ হয়েছে। ভারত থেকে হাজার হাজার সৈনিক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ব্রিটিশ সরকার যুদ্ধে অংশগ্রহণের বিনিময়ে ভারতকে স্বাধীনতা দেওয়ার মৌখিক প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়ে হাজার হাজার ভারতীয় প্রাণ দেয়। আহত হয় অসংখ্য মানুষ। একই সময়ে ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারতে রাউলাট অ্যাক্ট জারি করে। এই আইনের আওতায় রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করার অধিকার হারায় স্বাধীনতাকামী ভারতীয় জনগণ। অবিভক্ত ভারতবর্ষের প্রতিটি অঞ্চলে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম নতুন করে বৃহত্তর জনমনে আগুন লাগতে শুরু করে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও পাঞ্জাবের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে সংগ্রামের এ ধাক্কা প্রবলভাবে অনুভূত হয়। জালিয়ানওয়ালাবাগে রাউলাট অ্যাক্টবিরোধী প্রতিবাদে জড়িয়ে পড়ে সেই অঞ্চলের মানুষ।

১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগে সরকারের আদেশ অমান্য করে ছয় থেকে ১০ হাজার মানুষের একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের আদেশ অমান্য করে সে সভাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য ব্রিটিশ সেনানায়ক জেনারেল রেগিনাল্ড ডায়ার এই সভার ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। সেই দিনের গুলিতে, সরকারি ভাষ্যমতে, ৩৭৯ সাধারণ ব্যক্তি নিহত হন এবং আহত হন দুই হাজার ব্যক্তি। এই ঘটনাটি ইতিহাসে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত। এই হত্যাকাণ্ডের পরে পাঞ্জাবের অমৃতসর হয়ে উঠে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে চালিত স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাণকেন্দ্র।

কংগ্রেস সদস্য শশী থারুর তার ‘ইনগ্লোরিয়াস এম্পায়ার: হোয়াট দ্য ব্রিটিশ ডিড টু ইন্ডিয়া’ গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন, Jallianwala Bagh Massacre: General Dyer orders gurkha troops to shoot unarmed demonstrators in Amritsar, killing at least 379. Massacre convinces Gandhi that India must demand full independence from oppressive British rule.

হত্যাযজ্ঞে নির্দেশদানকারী জেনারেল রেগিনাল্ড ডায়ারকে নিয়ে নাইজেল কোলেট লিখেছেন ‘দ্য বুচার অব অমৃতসর: জেনারেল রেগিনাল্ড ডায়ার’ নামক গ্রন্থ, যেটি লন্ডন থেকে ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইটির শেষ অংশে লেখক মন্তব্য করেছেন, It became impossible for the British to leave India in 1947, with honor, with appreciation or respect of their subjects.’ ফলে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয় তা হলো জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ব্রিটিশদের নৈতিক দিককে আঘাত করে। অনেকের মতে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ভারতের রাজনীতিতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। অনেকাংশে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম নতুন উদ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

দিনটি ছিল রোববার। ১৯১৯ সালের এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ। পাঞ্জাবে যে সময় শিখদের নববর্ষ ও অন্যদের বৈশাখ উদযাপনের আয়োজন চলছে, সেই সময় রেগিনাল্ড ডায়ারকে দায়িত্ব দেওয়া হয় শহরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখার জন্য। সেই লক্ষ্যে ডায়ার ১৩ এপ্রিল অমৃতসরে আসেন। বিকাল ৪টায় ডায়ার জানতে পারেন জালিয়ানওয়ালাবাগ এলাকায় সাধারণ জনতা ব্রিটিশবিরোধী সমাবেশে জমায়েত হয়েছে। ডায়ার তার সহযোগী ক্যাপ্টেন এফসিসি ব্রিগস ও সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে, পুলিশের এসপিকে সঙ্গে করে কয়েকটি গাড়িবহরসহ জনসমাবেশের দিকে যাত্রা করেন। শহরের রেলসেতু অতিক্রম করে যে পথে ডায়ার অগ্রসর হচ্ছিলেন সেখানে দুইদিন আগে, অর্থাৎ ১০ এপ্রিল, তিন ইংরেজ ব্যাংকারকে হত্যা করা হয়, রানি এলিজাবেথের মূর্তি ভাঙা হয়। তখন বিকাল ৫টা। জালিয়ানওয়ালাবাগ ময়দানে প্রবেশপথ এত সংকীর্ণ ছিল যে ডায়ারের সশস্ত্র বাহিনী সেখানে গোলাবারুদ নিয়ে ঢুকতে পারছিল না। ঠিক সেই মুহূর্তে জমায়েতকারীদের মধ্যে কোনো এক ব্যক্তি ভাষণ দিচ্ছিলেন। ৫টা বাজার পাঁচ মিনিটের মাথায় ডায়ার উপস্থিত জনতাকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ার নির্দেশ দেন। ১০ মিনিটে নিরস্ত্র জনগণের ওপর এক হাজার ৬৫০টি গুলি খরচ করা হয়।

পটভূমি

১৮৫৭ সালে ভারতবর্ষ সম্পূর্ণরূপে ইংরেজ শাসনের অধীনে আসে। শাসনের এক পর্যায়ে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকেই ভারতের উদীয়মান ধনী এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধীনতার আকাঙ্খা জেগে উঠে। এই আকাঙ্খার সংহত রূপ প্রকাশ পায় ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। প্রথম দিকে এই রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য ছিল ইংরেজ শাসনাধীনে থেকেই ন্যায়বিচার এবং স্বায়ত্তশাসন লাভ। কিন্তু ইংরেজ সরকারের পক্ষ থেকে এ দাবী মেনে নেয়া হয়নি। ইংরেজদের যুক্তি ছিল ভারতবর্ষ অনুন্নত বিধায় স্বায়ত্তশাসনের উপযুক্ত নয়। কিন্তু ভারতে এ ধরনের চিন্তাধারার প্রসার ঘটতে থাকে। ধীরে ধীরে এদেশের অনেক স্থানেই রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়, এক সময় টেলিগ্রাফ তারও বসানো হয়। কিছু কিছু কল-কারখানাও স্থাপিত হয়, মূলত কাপড়ের কারখানা প্রাধান্য বিস্তার করেছিল। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রভাবও এখানে পরিলক্ষিত হয়। ১৯০৫ সালে রাশিয়ার মতো বৃহৎ শক্তি ক্ষুদ্র এশীয় শক্তি জাপানের কাছে রুশ-জাপান যুদ্ধে পরাজিত হয়। একই সময়ে রাশিয়ায় স্বৈরাচারী জারের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন দানা বেঁধে উঠে। ধনতান্ত্রিক দেশগুলোতে অর্থনৈতিক সংকট শুরু হওয়ায় এশিয়া এবং আফ্রিকার অনুন্নত দেশগুলো দখল করে নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেয়ার জন্য উন্নত দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এরই ফল ছিল ১৯১৪ সালে শুরু হওয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। এই যুদ্ধে জার্মানি ইংল্যান্ড তথা মিত্রবাহিনীর হাতে পরাস্ত হয়। যুদ্ধে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীও অংশ নিয়েছিলো। ইংরেজ সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যুদ্ধে অংশ নিলে পরাধীন দেশগুলোকে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হবে। এই কথায় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রদূত মহাত্মা গান্ধী সহ অনেকেই যুদ্ধে যোগ দেন এবং যুদ্ধে ভারতবাসীকে উৎসাহিত করেন।

১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর যুদ্ধ শেষ হয়। কিন্তু ইংরেজ সরকারের নীতিতে কোন রকম পরিবর্তন দেখা যায়নি। যেসব সৈন্য যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল এসময় তাদের বেকার করে নিজ নিজ গ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অর্থনৈতিক মন্দা এবং দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারিতে এক কোটির বেশি মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। ভারতবাসীর মনে সন্দেহ ঘনীভূত হতে থাকে। এই সন্দেহ থেকেই ক্ষোভ এবং ইংরেজ বিরোধী মনোভাবের সূচনা ঘটে। এসময় ইংরেজ সরকার একদিকে যেমন মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কার আইন করে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করে একই সাথে আবার রাওলাট আইন করে ইংরেজ সরকার বিরোধী সকল বিক্ষোভ কঠোর হাতে দমনের জন্য নির্যাতনমূলক আইন জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়। এই আইনের অধীনে বিনা কারণে গ্রেপ্তার, অন্তরীণ ও সংক্ষিপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণহীন বিচার ও বন্দীত্বের বেপরোয়া পদক্ষেপ গৃহীত হয়। মহাত্মা গান্ধী তখন অহিংস এবং সত্যাগ্রহ তথা রক্তপাতহীন আন্দোলনের মাধ্যমে এর প্রতিবাদের আয়োজন করেন। এই সালের এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে পাঞ্জাব যাওয়ার পথে গান্ধীজিকে গ্রেফতার করা হয়। এর প্রতিবাদে আহমেদাবাদের শিল্প শ্রমিক এবং পাঞ্জাবের সাধারণ জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। সরকার গান্ধীকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এরপরও বিক্ষোভ কমেনি। ধর্মঘটে এবং বিক্ষোভের লক্ষ্য হয়ে দাড়ায় সরকারী দপ্তর এবং যানবাহন। সাদা চামড়ার ইউরোপীয় কর্মকর্তা এবং অধিবাসীদের উপরও ভারতীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তাদের উপরও আক্রমণ করা হয়। এপ্রিলের ১৩ তারিখ দুজন রাজনৈতিক নেতাকে অমৃতসর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর পটভূমিতেই বলতে হয় হত্যাকাণ্ডের আবহ তৈরি হয়েছিল।

হত্যাকাণ্ড

হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ১৯১৯ সালের ১৪ এপ্রিলে ডায়ারের নিজের ডেসপ্যাচ অনুসারে ১৩ এপ্রিল ১০০ জন গুর্খা সৈন্য আর ২টি সাজোয়া গাড়ি নিয়ে ডায়ারের নির্দেশে জালিয়ানওয়ালাবাগে ২০০০-এর মত “বিদ্রোহী”কে হতাহত করা হয়েছিল। আর এতে খরচ হয়েছিল ১৬৫০ রাউণ্ড গুলি। জালিয়ানওয়ালাবাগের মাঝখানে কুয়োতে পাথর ফেলে কিছু মানুষকে জীবন্ত প্রোথিত করা হয়।

প্রতিক্রিয়া

জালিয়ানওয়ালাবাগের ভয়ানক ও মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় ব্রিটিশ শাসনের প্রকৃত নগ্ন রূপের প্রকাশ হয়ে পড়ে। সরকার জেনারেল ডায়ারের কাজকে সমর্থন করে। কিন্তু এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় গোটা বিশ্ব শিহরিত হয়। দেশে-বিদেশে সর্বত্র সরকারের নগ্ন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকান্ডের ঘটনার প্রতিবাদে দেশের সর্বত্র ঘৃণা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন যে, “এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ভারতে যে মহাযুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দেয় তা উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়ে সবার হৃদয়কে আন্দোলিত করে।”

জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া “নাইট” উপাধি ত্যাগ করেন। দিল্লির হাকিম আজমল খান তাঁর ‘মসিহ-উল-মূলক’ উপাধি এবং প্রথম শ্রেণীর ‘কাইসার-ই-হিন্দ’ স্বর্ণ মেডেল ব্রিটিশ সরকারকে ফেরত দেন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এই ঘটনাকে তীব্র নিন্দা করে; কংগ্রেস নেতা সি.এফ.এন্ডুজ এই ঘটনাকে ‘কসাইখানার গণহত্যা’র সমতুল্য বলে নিন্দা করেছেন।

রবীন্দ্রনাথের নাইটহুড প্রত্যাখ্যান

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে রবীন্দ্রনাথ প্রচণ্ডভাবে মর্মাহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে তিনি তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড চেমসফোর্ডকে দীর্ঘ পত্র লেখেন। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সেই চিঠিতে তিনি ইংরেজ শাসন-শোষণের প্রতি তীব্র ধিক্কার প্রকাশ করেন। পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, The time has come when badges of honor make our shame glaring in the incongruous content of humiliation, and I for my part wish to stand, shorn, of all special distinctions, by side of those of my countrymen who, for their so-called insignificance, are liable to suffer degradation not fir for human beings. And these are the reasons which have compelled me to ask Your Excellency, with due deference and regret, to relieve me my title of knighthood which I had honor to accept from His Majesty the king at the hand of your predecessor, for whose nobleness of heart I still entertain great admiration. যদিও ব্রিটিশ সরকার রবীন্দ্রনাথের স্যার উপাধি বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি, সেখানে আকবর আলি খান লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথের নাইটহুড উপাধি ত্যাগের ফলে ব্রিটিশ সরকারের জন্য একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

রবীন্দ্র গবেষক সনৎকুমার সাহা মন্তব্য করেছেন, কবির তৃতীয় নয়নের তেজ ও বিবেকসিদ্ধ ক্রোধ ফুটে উঠতে দেখি জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের পর একক সিদ্ধান্তে নাইটহুড পরিত্যাগের প্রতিবাদলিপিতে। পৃথিবীর সেরা প্রতিবাদী সাহিত্যে এর তুল্য রচনা খুব বেশি নেই।

গুজরানওয়ালায় বিক্ষোভ

দুই দিন পরে ১৫ এপ্রিল গুজরানওয়ালায় বিক্ষোভ সংঘটিত হয় অমৃতসরের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও বিমান ব্যবহার করা হয়, এরফলে ১২ জন মারা যায় এবং ২৭ জন আহত হয়। ভারতে রয়েল এয়ার ফোর্স অফিসার কমান্ডিং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এন ডি কে ম্যাকুইন পরে বিবৃতি দিয়েছিলেন:
আমি মনে করি পরের দাঙ্গাগুলিতে বিশেষভাবে গুজরানওয়ালায় বিক্ষোভের সময় আমাদের ব্যাপকভাবে ব্যবহার করার কথা উল্লেখযোগ্যভাবে দাবি করতে পারি, যেখানে বিক্ষোভকারীরা বিপদজ্জনকভাবে তাকিয়ে ছিল এবং বোমা এবং লুইস বন্দুক ব্যবহার করা হয় তাদের বিক্ষোভের উপর।

স্মৃতিস্তম্ভসমূহ ও উত্তরাধিকার

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কর্তৃক একটি রেজোলিউশন পাস হওয়ার পর ১৯২০ সালে একটি ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠিত হয় একটি স্মারক নির্মাণের জন্য। ১৯২৩ সালে ট্রাস্ট এই প্রকল্পের জন্য জমি কিনে নেয়। আমেরিকার স্থপতি বেঞ্জামিন পোলক দ্বারা পরিকল্পিত একটি স্মারক, ওই স্থানে নির্মিত হয়েছিল এবং ১৯৬১ সালের ১৩ই এপ্রিল ভারতের রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ উদ্বোধন করেন জওহরলাল নেহেরু ও অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে। পরে একটি শিখা স্থানটিতে যোগ করা হয়েছিল।
বুলেট বা গুলির চিহ্ন দেয়ালের এবং পাশের বাড়ী থেকে আজও দেখা যায়। বেশিরভাগ মানুষ বুলেট থেকে নিজেকে বাঁচাতে চেষ্টা করে যাচ্ছিল।
শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটি গঠনের
হত্যাকাণ্ডের অল্প কিছুদিন পরে, অমৃতসরের হরমন্দির সাহিব (স্বর্ণমন্দির) সরকারী শিখ সম্প্রদায়ের কর্ণেল ডায়ার শিরোপা (শিখ ধর্মের প্রতি সম্মানিত পরিচয়ের চিহ্ন বা সাধারনত মানবতা) দ্বারা শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে আন্দোলন প্রেরণ করা হয়। ১৯২০ সালের ১২ অক্টোবর মহাশ্বেতা খালসা কলেজের ছাত্র ও অনুষদ মহোদয়ের নিয়ন্ত্রণ থেকে গুরুদ্বার অবিলম্বে অপসারণের দাবিতে একটি সভা আহ্বান করে। ফলস্বরূপ ১৯২০ সালের ১৫ নভেম্বর শিখ মন্দিরের সংস্কার ও সংস্কারের জন্য শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটির গঠন করা হয়ে ছিল।

দুঃখ প্রকাশ

যদিও ১৯৬১ ও ১৯৮৩ সালে তার রাজ্যের পরিদর্শনে রাণী এলিজাবেথ এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি, তবুও তিনি ১৯৯৭ সালের ১৩ অক্টোবর সালে ভারতে রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় ঘটনাগুলি সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন:
এটা আমাদের গোপন কিছু বিষয় নয়, এটা অতীতের কিছু জঘন্য ঘটনার কথা – জালিয়ানওয়ালাবাগ, যা আমি আগামীকাল পরিদর্শন করব, এটি একটি দুঃশ্চিন্তার উদাহরণ। কিন্তু ইতিহাস পুনর্বিবেচনা করা যায় না, তবে আমরা কখনও কখনও অন্যথায় উপকৃত হতে পারি। এটা বিষাদের মুহূর্ত, সেইসাথে খুশিও আছে। আমাদের দুঃখ থেকে শিখতে হবে এবং আনন্দে গড়ে তুলতে হবে।

১৯৯৭ সালের ১৪ অক্টোবর রাণী এলিজাবেথ দ্বিতীয়বার জালিয়ানওয়ালাবাগ পরিদর্শন করেন এবং ৩০-সেকেন্ডের নীরবতার মুহূর্তের সাথে তার সম্মান প্রদান করেন। পরিদর্শনকালে, তিনি গোলাপী জাফরান বা কেওরা বর্ণের একটি পোশাক পরেন, যা শিখদের ধর্মীয় গুরুত্বের বার্তা ছিল। স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শনের সময় তিনি তার জুতা খুলে ফেলেছিলেন এবং স্মৃতিস্তম্ভে একটি জয়মাল্য পরিয়ে দিয়েছিলেন।
যদিও কিছু ভারতীয় বিবৃতিতে দুঃখ ও দুঃখ প্রকাশের জন্য স্বাগত জানায়, অন্যেরা ক্ষমা না চাওয়ার কারণে সমালোচনা করেছিল। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্র কুমার গুজরাল রানীর সম্পর্কে বলেছিলেন যে, রাণী নিজেও ঘটনার সময় জন্মগ্রহণ করেনি এবং তাকে ক্ষমা করার প্রয়োজন নেই।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে পরাধীন অবিভক্ত ভারতবর্ষের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আলোচিত কুখ্যাত গণহত্যা জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড, সেই শহীদদের স্মরণে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা—

“জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড”

বৈশাখ আসে আজও, আগুনরাঙা রোদে
কিন্তু সেই বিকেলের কথা কে ভোলে কভু?
অমৃতসরের বুকে, ইতিহাসের ক্ষত,
জালিয়ানওয়ালাবাগ—রক্তলিখা রূপকথা নহে,
এ যে নির্মম সত্য, মানুষের আর্তনাদে ভেজা।

সেদিনও ছিল উৎসব, বৈশাখী আনন্দ,
শিখদের নববর্ষ, মানুষের মিলনমেলা,
হাসির ঢেউ উঠেছিল সরু গলির পথে,
শিশুরা খেলছিল, মায়েরা গল্পে মগ্ন,
কেউ জানত না মৃত্যু ওত পেতে আছে।

আকাশ ছিল নীল, রোদ ছিল নির্মল,
হঠাৎ ইতিহাস নামল লোহার বুট পরে—
ডায়ার এলো, সাথে বন্দুকধারী সৈন্য,
মানবতা তখন বন্দী, নীরব পৃথিবী,
আদেশ এল—“গুলি চালাও, থামবে না কেউ!”

দশ মিনিট—কিন্তু যেন যুগের সমান,
এক হাজার ছয়শ পঞ্চাশ গুলির ঝড়,
নিরস্ত্র জনতা, কোথায় যাবে তারা?
চারদিক দেয়াল, সংকীর্ণ সব পথ,
মৃত্যু দাঁড়িয়ে ছিল প্রতিটি দরজায়।

কেউ লুটিয়ে পড়ে, কেউ ছুটে বাঁচতে চায়,
কেউ ঝাঁপ দেয় কূপে, বাঁচার শেষ চেষ্টায়,
কূপ ভরে ওঠে মানুষের দেহে—
জীবন সেখানে থেমে যায় নিঃশব্দে,
ইতিহাস কেঁপে ওঠে, কাঁদে মানবতা।

সরকার বলে—তিনশ ঊনআশি মৃত,
কিন্তু রক্তের হিসাব কি সংখ্যায় মাপে?
মায়ের কান্না, শিশুর স্তব্ধ চাহনি,
সেই দিনের ব্যথা আজও জেগে থাকে
প্রতিটি স্বাধীন নিশ্বাসের ভেতর।

রাউলাট আইনের শৃঙ্খল ভাঙতে গিয়ে
মানুষ চেয়েছিল শুধু কথা বলার অধিকার,
সত্যাগ্রহের পথে গান্ধীর আহ্বান—
অহিংসার শক্তি, মানুষের জাগরণ,
কিন্তু জবাব এল বন্দুকের ভাষায়।

ডায়ার ভাবেনি ইতিহাস তাকে দেখবে,
ভাবেনি একদিন তার নাম হবে ঘৃণার প্রতীক,
“বুচার অব অমৃতসর”—লেখা হলো শেষে,
মানুষের রক্তে লেখা বিচারপত্রে
তার নিষ্ঠুরতা অমোচনীয় দাগ হয়ে রইল।

রবীন্দ্রনাথ তখন কলম তুলে নিলেন,
সম্মানের মুকুট ছুড়ে দিলেন দূরে—
“নাইটহুড” তার কাছে লজ্জার প্রতীক,
তিনি দাঁড়ালেন নিঃস্ব মানুষের পাশে,
অপমানের বিরুদ্ধে উচ্চারিত প্রতিবাদে।

দেশ জুড়ে আগুন জ্বলে উঠল তখন,
পাঞ্জাব থেকে বাংলার গ্রাম পর্যন্ত,
স্বাধীনতার স্বপ্ন পেল নতুন ডানা,
জালিয়ানওয়ালাবাগ হয়ে উঠল শপথ—
আর নয় দাসত্ব, আর নয় নীরবতা।

সুরেন্দ্রনাথ বললেন—এ আগুন ছড়াবে,
উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিমে সমান,
মানুষের হৃদয়ে জাগবে বিদ্রোহ,
শৃঙ্খল ভাঙার অদম্য আকাঙ্ক্ষায়
ভারত জেগে উঠবে নতুন সূর্যোদয়ে।

রক্তের সেই দাগ মুছে যায়নি আজও,
দেয়ালে আজও গুলির চিহ্ন কথা বলে,
নীরব স্মৃতিস্তম্ভে জ্বলে অমর শিখা,
যারা প্রাণ দিল, তারা হারায়নি কভু—
তারা আছে প্রতিটি স্বাধীন পতাকায়।

১৯৪৭ এল, স্বাধীনতার ভোর,
কিন্তু সে ভোরের রঙে ছিল রক্তের ঋণ,
জালিয়ানওয়ালাবাগ সেই ঋণের স্মারক,
যেখানে মানুষ শিখেছিল—
স্বাধীনতা বিনা মূল্যে আসে না।

আজ শতবর্ষ পেরিয়ে আরও বছর,
তবু প্রশ্ন জাগে—মানুষ কি শিখেছে?
ক্ষমতার নেশা কি থেমেছে কোথাও?
নাকি ইতিহাস বারবার ফিরে আসে
নতুন নামে, নতুন মুখোশ পরে?

তবু আমরা স্মরণ করি মাথা নত করে,
শহীদদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা,
তাদের রক্তে লেখা স্বাধীনতার গান
আমাদের পথ দেখায় আজও নির্ভয়ে—
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেয়।

বৈশাখের রোদে যখন আলো ঝরে,
আমরা শুনি সেই দিনের প্রতিধ্বনি,
“ভুলো না, ভুলো না”—ডাকে ইতিহাস,
মানুষের অধিকার, মানুষের মর্যাদা
রক্ষার শপথে জাগো প্রতিদিন।

জালিয়ানওয়ালাবাগ কেবল একটি স্থান নয়,
এ এক চিরন্তন সতর্কবার্তা—
শাসনের নামে যেন না হয় হত্যাযজ্ঞ,
মানুষের কণ্ঠ যেন না হয় রুদ্ধ,
স্বাধীনতা যেন থাকে সকলের জন্য।

রক্তে ভেজা সেই বিকেল আজও জেগে,
আমাদের চেতনার গভীরতম প্রান্তে,
শহীদদের আত্মত্যাগে গড়া ইতিহাস
আমাদের শেখায়—
মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সত্য,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারণই ধর্ম।

সালাম সেই সকল নামহীন প্রাণে,
যারা ইতিহাস লিখেছে নিজের রক্তে,
জালিয়ানওয়ালাবাগ—তোমার অশ্রু
চিরকাল থাকবে আমাদের অন্তরে,
স্বাধীনতার প্রতিটি নিশ্বাসে, প্রতিটি কবিতায়।
—(জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড,—সৈয়দ আমিরুজ্জামান)

ব্রিটিশ বিরোধী ভারতবর্ষের স্বাধীনতার লড়াই সংগ্রামে জালিয়ানওয়ালাবাগের সমাবেশে নির্বিচারে গুলিবর্ষণে শহীদদের আমরা ভুলবোনা কোনদিন। সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও অভিবাদন!!

পরিশেষে শেষ করছি, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আরেকটি কবিতা দিয়ে।

‘সাম্যবাদী’
– কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান
যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্‌লিম-ক্রীশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!
কে তুমি?- পার্সী? জৈন? ইহুদী? সাঁওতাল, ভীল, গারো?
কন্‌ফুসিয়াস্‌? চার্বআখ চেলা? ব’লে যাও, বলো আরো!
বন্ধু, যা-খুশি হও,
পেটে পিঠে কাঁধে মগজে যা-খুশি পুঁথি ও কেতাব বও,
কোরান-পুরাণ-বেদ-বেদান্ত-বাইবেল-ত্রিপিটক-
জেন্দাবেস্তা-গ্রন্থসাহেব প’ড়ে যাও, যত সখ-
কিন্তু, কেন এ পন্ডশ্রম, মগজে হানিছ শূল?
দোকানে কেন এ দর কষাকষি? -পথে ফুটে তাজা ফুল!
তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব সকল কালের জ্ঞান,
সকল শাস্র খুঁজে পাবে সখা, খুলে দেখ নিজ প্রাণ!
তোমাতে রয়েছে সকল ধর্ম, সকল যুগাবতার,
তোমার হৃষয় বিশ্ব-দেউল সকল দেবতার।
কেন খুঁজে ফের’ দেবতা ঠাকুর মৃত পুঁথি -কঙ্কালে?
হাসিছেন তিনি অমৃত-হিয়ার নিভৃত অন্তরালে!

বন্ধু, বলিনি ঝুট,
এইখানে এসে লুটাইয়া পড়ে সকল রাজমুকুট।
এই হৃদ্য়ই সে নীলাচল, কাশী, মথুরা, বৃন্দাবন,
বুদ্ধ-গয়া এ, জেরুজালেম্‌ এ, মদিনা, কাবা-ভবন,
মস্‌জিদ এই, মন্দির এই, গির্জা এই হৃদয়,
এইখানে ব’সে ঈসা মুসা পেল সত্যের পরিচয়।
এই রণ-ভূমে বাঁশীর কিশোর গাহিলেন মহা-গীতা,
এই মাঠে হ’ল মেষের রাখাল নবীরা খোদার মিতা।
এই হৃদয়ের ধ্যান-গুহা-মাঝে বসিয়া শাক্যমুনি
ত্যজিল রাজ্য মানবের মহা-বেদনার ডাক শুনি’।
এই কন্দরে আরব-দুলাল শুনিতেন আহবান,
এইখানে বসি’ গাহিলেন তিনি কোরানের সাম-গান!
মিথ্যা শুনিনি ভাই,
এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই।

লেখক: সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Post Views: 142

Share this:

  • Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
  • Share on X (Opens in new window) X
  • Email a link to a friend (Opens in new window) Email
  • Print (Opens in new window) Print

Like this:

Like Loading…

Related

admin

admin

সম্পর্কিত পোস্ট

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

by admin
September 20, 2026
0
7

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ...

অপ্রতিমের হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

অপ্রতিমের হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

by admin
September 20, 2026
0
15

কুমিল্লা: অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার...

অপ্রতিম হত্যার রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত, দাবি পুলিশের

অপ্রতিম হত্যার রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত, দাবি পুলিশের

by admin
September 20, 2026
0
60

কুমিল্লা: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত হয়েছে বলে...

অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন

অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন

by admin
September 20, 2026
0
13

কুমিল্লা: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার...

কোন গ্রেডে বেতন কত শতাংশ বাড়ল

কোন গ্রেডে বেতন কত শতাংশ বাড়ল

by admin
September 19, 2026
0
88

অবশেষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পেস্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ...

পাবনায় ১০ বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডব

পাবনায় ১০ বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডব

by admin
September 19, 2026
0
17

পাবনা সদর উপজেলায় ১০ বছর বয়সী শিশু কামরুন্নাহার কলিকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।...

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমাদের বিভাগ সমূহ

সাম্প্রতিক পোস্ট

  • জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান September 20, 2026
  • রিয়াদে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা September 20, 2026
  • ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ২৬ বিমান অভিযান, দাবি হুথিদের September 20, 2026
  • অপ্রতিমের হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ September 20, 2026
  • অপ্রতিম হত্যার রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত, দাবি পুলিশের September 20, 2026
  • অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন September 20, 2026
  • বিরোধীদলের লং মার্চ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: পানিসম্পদ মন্ত্রী September 19, 2026
  • কোন গ্রেডে বেতন কত শতাংশ বাড়ল September 19, 2026
  • দাবি না মানলে ৮ দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে: জামায়াত আমির September 19, 2026
  • পাবনায় ১০ বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা: প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার তাণ্ডব September 19, 2026
  • রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ কোনো ইনডোর গেম নয়, এই দল বৈশাখী ঝড়ে ভেসে আসা দল নয় – আবদুস সবুর September 19, 2026
  • বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বন্ধের ঘটনায় আসিফ নজরুলের বিচারের দাবি-এম এ আলীম সরকার-এর September 19, 2026
  • মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হাজী আঃ রব প্রয়াণে জেএসএফ-বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এর শোক প্রকাশ September 19, 2026
  • সন্দ্বীপের পণ্ডিতের হাটে শ্রমিক দলের নেতাকে গুলি September 19, 2026
  • নলডাঙ্গা থানার নবাগত ওসির শুভেচ্ছা বার্তা September 19, 2026
  • ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ বনপাড়ার ব্যবসায়ী মাহাবুল আলম! September 19, 2026
  • নবীনগরে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান September 19, 2026
  • পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য September 19, 2026
  • গাইবান্ধায় সদর উপজেলায় জনগণের উদ্যোগে ঝিনিয়ার বিলে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন September 19, 2026
  • সীরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিশ্বনাথে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত September 19, 2026
  • নলডাঙ্গায় ভ্রাম্যমান আদালতে দুই জনকে কারাদণ্ড প্রদান September 19, 2026
  • নলডাঙ্গায় যুবদলের উদ্যোগে মশক নিধন অভিযান September 19, 2026
  • নরসিংদীতে নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধ মহিলাকে কুপিয়ে হত্যা গ্রেফতার ৩ September 19, 2026
  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার মান উন্নয়নে আরও দায়িত্ব নিতে হবে September 19, 2026
  • গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ৫নং বল্লমঝাড় ইউনিয়নের আয়োজনে ‘আন্তঃগ্রাম ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ এর শুভ উদ্বোধন September 18, 2026
  • নবীনগর পশ্চিমাঞ্চল প্রেসক্লাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু September 18, 2026
  • গুইমারা রামসু বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী September 17, 2026
  • রামগড় বিজিবির অভিযানে কয়লারমুখ সীমান্তে ভারতীয় গরু জব্দ September 17, 2026
  • মশা মারতে অনিয়মের অভিযোগ, ডিএসসিসিতে দুদকের অভিযান September 17, 2026
  • র‍্যাব আর র‍্যাব নয়, এখন এসআরবি September 17, 2026

Recent Comments

    দৈনিক দেশের সংবাদ

    02 ফেব্রুয়ারি 2012, আমি নির্ভীক, আমি ভয় পাই না, আমি দেশের কথা বলব, স্বাধীনতার কথা বলব, জনগণের কথা বলব। এর সাহসী সাংবাদিকতা, সমৃদ্ধ বিষয়বস্তু এবং অনন্য বিন্যাস এবং নকশা সহ উপস্থাপনার কারণে, দেশের সংবাদ দ্রুত মানুষের হৃদয় জয় করে, এমনকি সবচেয়ে পরিশীলিত এবং দূরদর্শী পাঠকদের আনুগত্য বাড়িয়ে তোলে।

    আমাদের অনুসরণ করো

    প্রশাসক

      [wps_visitor_counter]

      [wps_visitor_counter]

      বিষয়শ্রেণী দ্বারা ব্রাউজ করুন

      • /প্রবাসী খবর
      • অপরাধ
      • আইন/আদালত
      • আলোচিত নিউজ/ছবি
      • ইতিহাসের পাতায়
      • ইসলাম ধর্ম
      • কবিতা/ছড়া/সাহিত্য
      • করোনাভাইরাস
      • খুলনা বিভাগ
      • খেলা ধুলা
      • চট্টগ্রাম বিভাগ
      • চাকরি
      • জাতীয়
      • জেনেনিন আপনার রাশিফল
      • ঢাকা বিভাগ
      • তথ্যপ্রযুএি
      • নামাজের সূচি
      • নারী কর্মীরা প্রযুক্তিতে ন্যায্যতা
      • ন্তর্জাতিক
      • প্রশাসন
      • বরিশাল বিভাগ
      • বাণিজ্য
      • বাংলাদেশ
      • বাংলাদেশের সকল ক্যাম্পাস
      • বিনোদন
      • বিভাগ সমূহ
      • বিশেষ সংবাদ
      • বিশ্ব
      • ভারত/কলিকাতা
      • মতামত
      • ময়মনসিংহ বিভাগ
      • রংপুর বিভাগ
      • রাজধানী ঢাকা
      • রাজনীতি
      • রাজশাহী বিভাগ
      • রুপচচাৃ/বিউটি পার্লার
      • লাইফস্টাইল
      • শিক্ষা
      • স।রাদেশ
      • সর্বশেষ
      • সাংবাদিক/মিডিয়া
      • সিলেট বিভাগ
      • স্বাস্থ্য
      • হিন্দু সহ অন্যান্য
      • হোম
      জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

      জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

      September 20, 2026
      রিয়াদে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

      রিয়াদে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

      September 20, 2026
      ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ২৬ বিমান অভিযান, দাবি হুথিদের

      ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ২৬ বিমান অভিযান, দাবি হুথিদের

      September 20, 2026
      • সম্পর্কিত
      • যোগাযোগ
      • শর্তাবলী
      • গোপনীয়তা নীতি
      • বিজ্ঞাপন দিন

      © ২০১২ জহির হাওলাদার পরিচালিত দেশের সংবাদ >> কপিরাইট : বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে দেশের সংবাদ নিউজের সামগ্রীগুলির কোনও অননুমোদিত ব্যবহার বা পুনরুত্পাদন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং আইনী পদক্ষেপের জন্য দায়বদ্ধ কপিরাইট লঙ্ঘনকে গঠন করে। - Website Designer & SEO Specialist By Mr. Nirob

      Welcome Back!

      Login to your account below

      Forgotten Password?

      Retrieve your password

      Please enter your username or email address to reset your password.

      Log In
      No Result
      View All Result
      • হোম
      • সর্বশেষ
      • বিশেষ সংবাদ
      • বাংলাদেশ
      • করোনাভাইরাস
      • রাজনীতি
      • বিশ্ব
      • বাণিজ্য
      • বিভাগ সমূহ
        • ঢাকা বিভাগ
        • চট্টগ্রাম বিভাগ
        • সিলেট বিভাগ
        • খুলনা বিভাগ
        • রাজশাহী বিভাগ
        • বরিশাল বিভাগ
        • রংপুর বিভাগ
        • ময়মনসিংহ বিভাগ
      • চাকরি
      • খেলা ধুলা
      • বিনোদন
      • মতামত
      • লাইফস্টাইল

      © ২০১২ জহির হাওলাদার পরিচালিত দেশের সংবাদ >> কপিরাইট : বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে দেশের সংবাদ নিউজের সামগ্রীগুলির কোনও অননুমোদিত ব্যবহার বা পুনরুত্পাদন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং আইনী পদক্ষেপের জন্য দায়বদ্ধ কপিরাইট লঙ্ঘনকে গঠন করে। - Website Designer & SEO Specialist By Mr. Nirob

      %d