রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: মানুষের মুখে হাঁসি আর চাহিদা মোতাবেক পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কৃষক হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে। ঈদুল ফিতর সমাগত হলেও উত্তরাঞ্চলের সেই কৃষকদের মনে নেই উৎসবের আনন্দ। আছে শুধু লোকসানের হিসাব আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘশ্বাস। মাঠজুড়ে কষ্টে ফলানো আলুর ন্যায্য দাম না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে হাজারো কৃষক। এক কেজি আলু উৎপাদন করতে কৃষকের ১৫-১৬ টাকা খরচ হলেও বাজারে এক কেজি আলুর দাম নেমে এসেছে ৯-১০ টাকায়, তাও মিলছে না ক্রেতা। তার ওপর হঠাৎ বৃষ্টিতে ১ হাজার ৭৩২ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠেছে। প্রায় ২৩ লক্ষ কৃষক পরিবার যখন চাষাবাদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ঈদের আনন্দ তাদের কাছে পরিণত হয়েছে নিঃশব্দ এক বিষাদে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের আগে প্রধানত রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার কৃষকদের আলু ও তামাক ঘরে উঠানো হয়। এসব ফসল বিক্রি করে ঈদের কেনাকাটা ও বোরো চাষ করেন কৃষকগণ। কিন্তু এবার ফসল ঘরে উঠলেও উৎপাদন খরচও ওঠার মতো দাম নেই। কম দামেও ক্রেতারও দেখা মিলছে না বলে কৃষকদের অভিযোগ। কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা যায়, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধায় ১ লক্ষ ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে আলু এবং ২১ হাজার ২৯৫ হেক্টরে তামাক চাষ হয়েছে। এসব ফসলের প্রায় ৬০ শতাংশ ঘরে তুলেছে কৃষক। তবে গত ১১ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টিতে ১ হাজার ৭৩২ হেক্টর জমির আলু, ভুট্টা, গম ও শাকসবজির ক্ষতি হয়। রংপুর অঞ্চলে ২৩ লক্ষ ৪২ হাজার ৭৫২টি কৃষক পরিবার কৃষি আয়ের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু উৎপাদিত পণ্যের দাম না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে তারা। রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জের পাকারপুল মাঠে বিষণ্ন মনে আলু ক্ষেতে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষক জহুরুল হক বলেন, কৃষকের ফির ঈদ আছে বাহে। কৃষক কি বেতন বোনাস পায়? কৃষক খালি পায় কষ্ট করি ফসল ফলার আর সেই ফসলোত লস খাবার। এই দুইটাই কৃষকের কাম। ঈদ তো দূরের কথা, ধার করি আলু নাগাছি, সেই টাকা শোধ কীভাবে করিব, সেই চিন্তায় আছি। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা। বর্তমান বাজারে ৯ থেকে ১০ টাকা কেজি। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজিতে লোকসান ৬ টাকা, তবু ক্রেতার দেখা মিলছে না। পীরগাছা উপজেলার কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, গত বছর আলুতে লোকসান হলেও এবারও তিনি এক একরে আলু চাষ করেন। লস হইলে কি জমি ফেলে রাখব কন? দাম হইবে সেই আশায় এবারও আলু লাগাছি। কিন্তু আলুর তো দাম নাই, লস করি আলু বেচাবো সেই পার্টিও নাই। আলু বেচে বউ-ছাওয়ার জন্য ঈদের কাপড় কিনার কথা ছিল। এখন উল্টা আলু তোলা টাকাই হওলাদ নিবার নাগছে। এবারে ঈদ মাটি। তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর পাইকার বাড়িত আসি আলু, তামাক কিনি নিয়া যায়। কায়ও কায়ও আগাম টাকাও দিছল। এবার পাইকার খুঁজে পাওয়া যাওছে না। টাকার অভাবে এল্যাও বেটির বাড়িত সেমাই-চিনি, কাপড় দিবার পারো নাই। নিয়াত করছু পাইকার পাইলে ১০ টাকাতে লস করি আলু ছাড়ি দেই। রংপুর কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ঈদ সামনে রেখে যখন শহরে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে, তখন উত্তরাঞ্চলের অনেক কৃষকের ঘরে চলছে হিসাব-নিকাশ আর দুশ্চিন্তার দিন। ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেলে ঈদের আনন্দ তাঁদের কাছে অধরাই থেকে যাবে। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা প্রয়োজন। রংপুর অঞ্চলে বৃষ্টিতে যেসব ফসলের ক্ষতি হয়েছে, তা খুব বেশি হবে না। ওই আলু কৃষকেরা বিক্রি করে দেবেন।
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সাবেক ইউপি...








