রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাবেক স্ত্রী আয়েশা আক্তার ওরফে ডালিয়ার ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়, বইছে মুখরুচোক নানা গুঞ্জন। সম্প্রতি ডালিয়ার ফেসবুক আইডি থেকে “কারো কোনো গুজবে কান দিবেন না, সময় কথা বলবে ইনশাল্লাহ” এমন স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছে, এই স্ট্যাটাস তিনি কাদের উদ্দেশ্যে দিয়েছেন বা কি বোঝাতে চাইছেন, আর গুজবের সজ্ঞা কি ? আসলে কেউ গুজব ছড়াচ্ছে না তিনি গুজব ছড়িয়ে আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সম্ভবনাময় ভোটের গোছানো মাঠ নষ্ট করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানে গিয়ে ছবি তুলে তা নির্বাচনী প্রচারণা বলে ফেসবুকে আপলোড দিচ্ছেন এটা কি গুজব নয় ? এছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নাই তিনি তাকে স্ত্রী হিসেবে শিকার করেন না। অথচ বিভিন্ন সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে ডালিয়ার সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা কি গুজব নয় এমন প্রশ্নও তুলেছে সাধারণ মানুষ।
এদিকে একটি অসমর্থিত সুত্র জানায়, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ট্রার্মকার্ড হিসেবে ডালিয়াকে মাঠে নামিয়েছেন। কারণ তার আশঙ্কা রাজশাহী-১ আসনে আওয়ামী লীগে এমপি ফারুক চৌধুরীর কোনো বিকল্প নাই। এবারো তিনি মনোনয়ন পাবেন ও বিজয়ী হবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। আর এবার বিজয়ী হলে তার পূর্ণমন্ত্রী হবার উজ্জ্বল সম্ভবনা রয়েছে। যদি সেটা হয় তবে তার কপাল পুড়তে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি ডালিয়াকে ট্রার্মকার্ড হিসেবে মাঠে নামিয়েছেন। নির্বাচন তার উদ্দেশ্যে নয়, যেকোনো মুল্য ফারুক চৌধুরীর বিজয় ঠেকানো আসল উদ্দেশ্যে। নইলে তিনি যাকে স্ত্রী বলে শিকার করেন না, উনি তখন তার স্ত্রীর পরিচয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচারণা করলে তিনি তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ করেন না। তিনি যদি সত্যিই তাকে মাঠে না নামান তাহলে তার বিরুদ্ধে মিডিয়াতে তার একটা শক্ত বক্তব্য দেয়া প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, ডালিয়া আসলে নির্বাচন করতে আসেনি নেপথ্যে দুরভিসন্ধি রয়েছে। তিনি যদি সত্যি মনোনয়ন প্রত্যাশী হন। তাহলে তিনি দলের সাংগঠনিক দায়িত্বশীল নেতাকর্মী এমনকি বর্তমান সাংসদের সঙ্গে একই মঞ্চে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরে নৌকার পক্ষে ভোট চাইবেন। মনোনয়ন দিবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী। তিনি যদি মনে করেন তিনি মনোনয়ন পাবেন তবে কি ভোট করতে তার সাংসদের প্রয়োজন
হবে না।
জানা গেছে, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) সংসদীয় আসন আয়তনের দিক থেকে দেশের ৮তম স্থানে রয়েছে। এখানে অনেক দুর্গম ও পল্লী এলাকা রয়েছে।ফলে একজন মানুষের পক্ষে এখানকার মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে গেলেও কমপক্ষে ১০ বছর সময় প্রয়োজন। অথচ এখানে হঠাৎ করেই আয়েশা আক্তার ডালিয়া নিজেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামেন। মাঝে মাঝেই নির্বাচনী এলাকার একপ্রান্ত হতে অপরপ্রান্তে তার বিচরণ। কিন্ত্ত একজন এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশীর যে ভাল গুন থাকলে এমন বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। ডালিয়া সেই গুনের অধিকারী নন। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল কোনো সাংগঠনিক নেতাকর্মী নাই। আবার যেকজন আছেন তারা সবাই বিপদগামী। এরা জাতীয় সংসদ, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সরাসরি নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অথচ ডালিয়া এসব বিপদগামীদের সঙ্গে ফটোসেশান করে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে
ফেসবুকে ফটো আপলোড দিচ্ছেন। আবার তিনি বলছেন তানোর-গোদাগাড়ী এলাকা উন্নয়ন বঞ্চিত, তিনি উন্নয়নের লক্ষ্য এই আসনে নৌকার মনোনয়নে নির্বাচন করতে চান। যা সরাসরি সবিরোধী কথা। তার মানে কি আওয়ামী লীগ সরকার তানোর-গোদাগাড়ী কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি। তাহলে ১৫ বছরেও যেখানে কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি, সেখানে ডালিয়া কিভাবে উন্নয়ন করবেন ? এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি মুঠোফোনে কল গ্রহন করেননি। অপরদিকে আয়েশা আক্তার ডালিয়ার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তারও কোনো বক্তব নেয়া সম্ভব হয়নি।#
Post Views: 324
Related