গোপাল চন্দ্র রায়, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমারে এক মানসিক প্রতিবন্ধী ভাতিজা ময়নুলের শেষ সম্বল বসতভিটা প্রতারণার মাধ্যমে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচা কছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ভিটেমাটি হারিয়ে বর্তমানে একটি জরাজীর্ণ টিনের চালার নিচে সাপ আর বৃষ্টির সাথে লড়াই করে অমানবিক এবং মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন অসহায় ময়নুল ইসলাম।
ঘটনাটি ঘটেছে ডোমার সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের হুজুর পাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী ময়নুল ইসলামের জীবন একসময় অত্যন্ত সাধারণ ছিল। কিন্তু বৈবাহিক জীবনের টানাপোড়েন এবং মায়ের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। ময়নুলের এই চরম অসহায়ত্বকে পুঁজি করে তার আপন চাচা কছির উদ্দিন ও তার ছেলে আব্দুস ছালাম প্রতারণার মাধ্যমে ময়নুলকে সুস্থ করার নাম করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যত্ন নেওয়ার অভিনয় করেন। এরপর কৌশলে তাকে ডোমার রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে টিপসই ও স্বাক্ষরের মাধ্যমে ময়নুলের নিজ নামীয় ১০ শতাংশ জমি নিজের নামে লিখিয়ে নেন কছির উদ্দিন। জমি লিখে নেয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ময়নুলের দীর্ঘদিনের পুরনো বসতঘরটি ভেঙে দখলে নেন। ঘর ভেঙে দেওয়ার পর ময়নুল বর্তমানে একটি জরাজীর্ণ টিনের চালার নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। ঝড় বৃষ্টির মধ্যে মাটিতে বিছানা পেতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ময়নুুল। তাকে এলাকা ছাড়া করতে কছির উদ্দিন ও তার ছেলে সেই চালার নিচে থাকা সামান্য বেড়া এবং বিছানাপত্রও কেড়ে নিয়ে গেছে। বর্তমানে চালার কোনো বেড়া না থাকায় ঝড়-বৃষ্টির পানি সরাসরি ময়নুলের শরীরে পড়ছে। কাদাপানিতে ভিজে একাকার হয়ে সেই চালার নিচেই মানবেতর রাত কাটাতে হচ্ছে তাকে। স্থানীয় যুবকরা পলিথিন দিয়ে তাকে রক্ষার চেষ্টা করলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তা কাজে আসছে না। এই জালিয়াতির ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে সম্প্রতি এক শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত কছির উদ্দিন প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিনুর ও ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ বলেন, “ময়নুলের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শালিস বৈঠকে প্রতারণার মাধ্যমে লিখে নেওয়া জমির মধ্যে তিন শতক জমি ফেরত দিতে চেয়েছিলেন কছির উদ্দিন। কিন্তু প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো জমি ফেরত দেননি।
এলাকাবাসী এখন প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে কামনা করেছেন। ময়নুল তার ভিটেমাটি ফিরে পায় এবং দোষীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কছির উদ্দিন ফায়ার সার্ভিসের বাবুর্চি এবং তার ছেলে আব্দুস ছালাম একজন কৃষি কর্মকর্তা। সরকারি চাকুরে হয়েও একজন অসহায় প্রতিবন্ধীর সাথে এমন প্রতারণা ও জালিয়াতি করায় অবিলম্বে বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শায়লা সাঈদ তন্বী জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত কছির উদ্দিন ও আব্দুস ছালামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করলেও তারা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।







