স্টাফ রিপোর্টার:
দিনাজপুর সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের রামডুবি মোড়ে অবস্থিত ফুলবন ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে তাঁর (অধ্যক্ষের) বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারপরও বহাল তবিয়তে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ বলে জানালেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
৫ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন—আহ্বায়ক (অভিভাবক সদস্য) মো. আনোয়ার হোচাইন, সদস্য সচিব (অভিভাবক সদস্য) মো. একরামুল হক, সদস্যরা (শিক্ষক প্রতিনিধি) মো. ইব্রাহিম, (শিক্ষক প্রতিনিধি) মো. আব্দুর রশীদ, (বিদ্যোৎসাহী সদস্য) মোঃ মোনায়েম খান।
গেল বছরের ৩০ এপ্রিল পেশকৃত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, মাদ্রাসার গভর্ণিং বডির সভাপতি জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিলকৃত রিপোর্ট এর বিষয়ে সদয় অবগতি ও সুপারিশের আলোকে বিধিমত নির্দেশনা দানের জন্য আবেদন করেছেন তদন্ত কমিটি। এতে বলা হয়েছে, অত্র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক মাদ্রাসায় নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেই কোন প্রকার নিয়ম—নীতির তোয়াক্কা না করেই মাদ্রাসার নামীয় ব্যাংক একাউন্টে গচ্ছিত টাকা বিধি বহির্ভূত উত্তোলন করেন এবং তা আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি বিগত গভর্নিং বডির নজরে এলে গেল ২০২৪ সালের ২১ জানুয়ারী গভনিং বডির সিদ্ধান্ত মতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট অডিট কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটি অডিটকালে অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক এর বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক দূর্নীতির প্রমাণ পায়। তাছাড়া মিথ্যা ভাউচার প্রদর্শন ও ডবল ভাউচার প্রদর্শনেরও মত অনৈতিক কার্যকলাপ পাওয়া গেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার নিয়োগে স্বেচ্ছাচারিতা এবং প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকারও বেশী ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন মর্মে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে মাদ্রাসার আর্থিক ও লেখাপড়ার মানসহ সম্পূর্ণ পরিবেশ হুমকির সম্মুখিন বলে দাবী করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। তারা গভর্ণিং বডির সভাপতি বরাবরে দালিখকৃত অডিট রিপোর্ট এর ভিত্তিতে ও রিপোর্টে সুপারিশের আলোকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিধিমত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদানের জন্য আবেদন করেছেন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও সদ্য সাবেক গভণিং বডির বিদ্যুৎসাহী সদস্য মো. আনোয়ার হোচাইন বলেছেন, আমাদের একমাত্র দ্বীনি প্রতিষ্ঠান এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষের আর্থিক দানে পরিচালিত হয়ে আসছে ফুলবন ফাযিল মাদ্রাসাটি। এই মাদ্রাসাটির আর্থিক দুর্নীতির কবল হতে মুক্তির জন্য ও মাদ্রাসাটির সার্বিক কল্যাণে জেলা প্রশাসক ও মাদ্রাসা গভর্ণিং বডির সভাপতির হস্তক্ষেপসহ অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক এর দূর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কামনা করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে ফুলবন ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের একটা খরচ আছে। এছাড়াও তৎকালীন জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম পরিদর্শন দিতেন। তার জন্য একটা সম্মানী দিতে হয়। নিয়োগপ্রার্থীর কাছ থেকে যা নেওয়া হয়েছে খরচ করে বরং ঘাটতি আছে প্রায় ৪১ হাজার টাকা বলে জানান তিনি।








