আলিফ হোসেন, তানোরঃ
রাজশাহীর তানোর উপজেলা প্রশাসনর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিয়ে একটি বিশেষ মহলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। যারা ইফতার আয়োজনের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়ে এমন জঘন্য-নিন্দীয় প্রচারণা করে তারা কারা ? সুত্র বলছে, এই চক্রের উদ্দশ্যে মানহানিকর মিথ্যা প্রচারণা করে উপজেলা পরিষদ-প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্য মতবিরোধ সৃষ্টির পাঁয়তারা। আবার যেই আয়োজনে তানোর-গোদাগাড়ীর লাখ লাখ মানুষের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি (সাংসদ) অংশগ্রহণ করেন। সেই আয়োজন নিয়ে মিথ্যাচার করা মানে এসব লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে মিথ্যাচার করা নয় কি ? এদিকে ইফতার মাহফিলের মতো পবিত্র অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর খবরে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। তানোর-গোদাগাড়ীর লাখ লাখ মানুষ জঘন্য মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল বৃহস্প্রতিবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে তানোর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় চত্ত্বরে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। এদিন স্মরণকালের সর্ববৃহত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব
ওমর ফারুক চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না। এছাড়াও উপজেলা পরিষদ-প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন
রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এদিন ইফতার মাহফিলে স্বত্ত্বঃস্ফুর্তভাবে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং সকলেই ইফতার আয়োজনের ভুয়সী প্রশংসা করেছেন। এদিকে ইফতার ও দোয়া মাহফিল আয়োজন সফল করতে স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিনিধিগণ স্বত্ত্বঃস্ফুর্তভাবে
আর্থিক অনুদান দিয়ে সহযোগীতা করেছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
অথচ জেলা আওয়ামী লীগের বিপদগামী সাবেক এক নেতা ও তার অনুগত তানোর উপজেলার কিছু বগী নেতার মদদে একটি বিশেষ মহল ইফতার ও দোয়া মাহ্ফিল আয়োজন ভুন্ডুল ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে প্রোপাগান্ডা শুরু করে। এদের মদদপুষ্ট একশ্রেণীর হলুদ ও কথিত সাংবাদিকদের (যাদের ভাষাজ্ঞান এখানো ঠিক হয়নি, সংবাদপত্র সম্পর্কে ধারণা নাই, কোমরে আইডি কার্ডের বান্ডিল) দিয়ে প্রচার করে তানোরে ইফতারের জন্য আনুঃপাতিক হারে চাঁদা তোলা হচ্ছে।এতে অংশ নেওয়ার জন্য চাঁদা চেয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষকে চিঠি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না সবকিছু সমন্বয় করছে বলে তারা গায়েবী ও মানহানিকর কথা প্রচার করিয়েছে।যা ডাহা মিথ্যা-ভিত্তিহীন-বানোয়াট, উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ও মানহানিকর।
অনুসন্ধান বলছে, কেবলমাত্র স্থানীয় সাংসদকে প্রধান অতিথি করায় বিশেষ মহল তাদের মদদপুষ্ট হলুদ ও কথিত সাংবাদিকদের দিয়ে এসব প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে, তাদের উদ্দেশ্যে যেকোনো ভাবেই হোক সাংসদের উপস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। তারা প্রচার করিয়েছে, ইউএনও সাহেব প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আনুঃপাতিক হারে চাঁদা দিতে বাধ্য করেছে, আসলে কি তাই ? বির্তকের খাতিরে যদি তাদের অভিযোগ সত্যি বলে বিবেচনা করি, বা ইউএনও সাহেব চাইলেই যদি তারা টাকা দিতে বাধ্য হয়,তাহলে তিনি দু’ এক হাজার কেনো দশ-বিশ হাজার টাকা নিবেন। কিন্ত্ত আসলে তো ঘটনা সেটা নয়, তাদের মুখ্য উদ্দেশ্যে সাংসদের উপস্থিতিকে
বির্তকিত করা। এছাড়া স্বত্ত্বঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ, আর্থিক অনুদান, সহযোগীতা আর চাঁদাবাজি কি ? এক বিষয়। নিদ্রিষ্ট অঙ্কের টাকা দাবি করে ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোরপুর্বক অর্থ
আদায় করাকে চাঁদাবাজি বলে। ইফতার আয়োজন নিয়ে এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ কি কেউ দিতে পারবেন ? পারবেন না, তাহলে তারা কিসের ভিত্তিতে চাঁদাবাজির মতো এমন মানহানিকর প্রচারণা করেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ভাষ্য বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, প্রশাসন, মসজিদ-মাদরাসা-শিশুসদন, পথ শিশুদের উদ্দেশ্যে এমনকি সাংবাদিক সংগঠনগুলো যে ইফতার আয়োজন করেন তারা কিভাবে করেন ? নিজের পকেটের পয়সায়, না বিভিন্ন ব্যক্তি বিশেষ বা প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতায় ? তাহলে বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে যে হলুদ কথিত সাংবাদিক ইফতার নিয়ে এমন মানহানিকর প্রচারণা করলেন তার কি এসব সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে। যদি না থাকে তাহলে সে কিসের সাংবাদিক ? ইফতার আয়োজন এমন মানহানিকর খবর প্রকাশ করে পুরো উপজেলার মানুষের অনুভুতিতে আঘাত করা হয়েছে বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ। অভিজ্ঞ মহলের ভাষ্য, উপজেলা পরিষদের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের বিরোধ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মহল বিশেষ এসব প্রোপাগান্ডা করে চলেছে। তানোরের চুনিয়াপাড়া হাজী একতার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম ও
মুণ্ডুমালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামিল মার্ডি বলেন, তাদের বরাদ দিয়ে তানোরে ইফতার আয়োজনে চাঁদাবাজির যে খবর প্রচার হয়েছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যা-ভিত্তিহীন-বানোয়াট ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত, তারা এই খবরের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।








