রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরের গোল্লাপাড়া হাটে ঘর বরাদ্দ নিয়ে স্মরণকালের সর্ববৃহত দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ চুরি হলে তাকে বলা হয় চুরি, তার থেকে বড় হলে সিঁধেল চুরি, তার বড় হলে পুকুর চুরি, তার বড় হলে নদী চুরি ও তার বড় হলে সাগর চুরি বলা হয়।কিন্ত্ত যে চুরির সীমাপরিসীমা নাই তাকে কি বলা হবে ? গোল্লাপাড়া হাটের ঘর বরাদ্দে এমনই চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ তুলেছে। উপজেলা ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার পলক কুমারের নেতৃত্বে আরো কয়েকজন মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে স্মরণকালের সর্ববৃহত দূর্ণীতি করায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং অভিযোগের অনুলিপি ভূমি মন্ত্রাণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ, তারা দীর্ঘদিন ধরেই তানোর গোল্লাপাড়া হাটে ব্যবসা করে আসছেন। ঘর বরাদ্দের জন্য ব্যবসায়ীরা আবেদন করলে ডিসিআর প্রদান করা হয়। হাটের নকশা অনুযায়ি ঘর হওয়ার কথা ছিল ১৫৯টি। কিন্তু গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ পর্যন্ত্য ২০০টির বেশি ডিসিআর প্রদান করা হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে অতিরিক্ত ডিসিআর কার স্বার্থে বা সুপারিশে কাটা হলো। ব্যবসায়ীরা বলছে, অতিরিক্ত ডিসিআর প্রতি ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা বাণিজ্যে করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছে, সার্ভেয়ার পলক কুমার গোল্লাপাড়া হাটের চান্দিনা ভিটা, তোহা বাজারেও মনগড়া নকশা তৈরি করে ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন। এসব জায়গা বরাদ্দের নিয়ম না থাকলেও সার্ভেয়ার পলক কুমার লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ডিসিআর প্রদান করছেন। অনেকে লটারিতে অন্তর্ভুক্ত না হয়েও সার্ভেয়ার পলক কুমারের সহায়তায় অনিয়মের মাধ্যমে ঘর বরাদ্দ পেয়েছে। এদের মধ্যে মেডিকেল ফার্মাসিস্ট ফরমান, ইকবাল, আনোয়ার হোসেন, নিতাই অন্যতম। এদের মধ্যে আলোচিত নাম ফরমান আলী। এর আগেও গোল্লাপাড়া বাজারে জোরপূর্বক ঘর দখল করার অভিযোগে ফরমান আলী সেই সময়ের নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানুর কাছে মুচলেকা দিয়ে সাজা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
অপরদিকে লটারিতে নাম উঠার পরেও রাকিবুল সরকার পাপলু, সাফিন, হাবিবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজনের নাম লটারিতে উঠলেও ঘর দেয়া হয়নি। বিশিষ্ট ধান গবেষক খরা সহিষ্ণু ধানের নতুন জাতের উদ্ভাবক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃষিবিদ ও ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদকে ঘর বরাদ্দ দেয়ার জন্য সুপারিশ করেন বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক। কিন্তু তাকেও দেয়া হয়নি ঘর। অন্যদিকে রশিদ, বাদশার একাধিক জায়গা হাটে থাকার পরেও তাদের জায়গা দেয়া হয়েছে। বাজারে পরিচিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বকুল ও প্রশান্তের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নেন সার্ভেয়ার পলক কুমার। এরপরেও তাদের ঘর দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে এসব ব্যবসায়ীরা সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন জানান, এসব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তানোর মিনি স্টেডিয়ামে তিনি খেলা শেখান। আমার একটি ঘরের আবেদন ছিল। আমি একটি ঘর বরাদ্দ পেয়েছি।অভিযোগের বিষয়ে তানোর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার পলক কুমার জানান, এসব অভিযোগ মিথ্যা। তিনি কোন মনগড়া নকশা তৈরি করে ঘর বরাদ্দ দেননি। তিনি এর বাইরে কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।#







