আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহী-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর তৎপরতায় তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগে বইছে ঐক্যর হাওয়া, নেতা ও কর্মী -সমর্থকদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য। জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাংসদ ফারুক চৌধুরীর নেতৃত্বে ও তৎপরতায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে রাতারাতি হয়েছে নাটকিয় পরিবর্তন হয়েছে। তৃণমূলে নেতা ও কর্মীসমর্থকদের মাঝেও ফিরেছে দৃশ্যমান প্রাণচাঞ্চল্য। এতে প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এখানে এখানো সাংসদ ফারুক চৌধুরীর কোনো বিকল্প নাই। সাংসদের আহবানে সাড়া দিয়ে তৃণমূলের বহুধারায় বিভক্ত নেতা ও কর্মীসমর্থকগণ ঐক্যর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে দীর্ঘদিনের মান-অভিমান ভুলে একে-অপরকে কাছে টানছে। এতে তাদের মধ্য বিরাজমান ক্ষোভ-অসন্তোষের বরফ গলতে শুরু করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে, চাওয়া-পাওয়া এবং মান-অভিমানসহ নানা কারণে যেসব নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ এতোদিন নিস্ক্রীয় ছিলেন তারাও এমপির আহবানে সাড়া দিয়ে নবউদ্দ্যেমে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামুন এমপির বিরোধীতা করে পৃথক বলয় সৃস্টির লক্ষ্যে দায়িত্বশীল পদে থেকেও তারা সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কোনো ভুমিকা তো রাখেইনি বরং জামায়াত-বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সৃস্টি করেছিল দলীয়কোন্দল, সাংগঠনিক অবস্থা ছিল নাজুক, ভেঙ্গে পড়েছিল চেইন অব কমান্ড, বিরাজ করছিল হ-য-ব-র-ল অবস্থা। মাঠ পর্যায়ে আওয়ামী লীগের ব্যাপক জনসমর্থন থাকলেও এই দুই নেতার বেঈমানীর কারণে দলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ কখানোই ঐক্যবদ্ধ হতে পারছিলনা। তাদের সংগঠনবিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে তৃণমুলের দাবির মুখে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে গোলাম রাব্বানী ও
আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে সকলের মতামতের ভিত্তিতে মাইনুল ইসলাম স্বপনকে সভাপতি ও আবুল কালাম আজাদ প্রদিপ সরকারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠনের পর দলীয় কর্মকান্ড জোরদার হয়েছে। আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন (ইউপি) ও প্রতিটি
ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার, নিস্ক্রীয়দের সক্রীয় এবং সাংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পহেলা রমজান থেকে শুরু করে বছরব্যাপী ওযার্ড, ইউপি, পৌরসভা ও উপজেলা কমিটির নিয়মিত
বর্ধিত সভা, কর্মীসভা ও মিলন মেলাসহ নানা কর্মসুচি ঘোষণা করা হয়েছে।
ওদিকে রাব্বানী-মামুনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ায় দলের কোন্দল নিরসণ হয়েছে, বেড়েছে নেতৃত্বের প্রতিযোগীতা, গতিশীল হয়েছে, সাংগঠনিক কর্মকান্ড। ইতপুর্বে, তাদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের জনসভায় তেমন লোক সমাগম হতো না। অথচ এমপির নেতৃত্বে এখন ওয়ার্ড কমিটির কর্মীসভা জনসভায় রুপ নিচ্ছে সৃস্টি হয়েছে গণজোয়ার। এতেই প্রমাণ হয় আওয়ামী লীগে কোনো সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল না বরং রাব্বানী-মামুন নেতৃত্বে থেকেও বিরোধী পক্ষের কাছে থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে দলকে বিকিয়ে দিয়েছিল।
ওদিকে স্থানীয় সাংসদের নির্দেশনা নৌকা যার আমরা তার, নৌকা যার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার, নৌকা যার ভোট তার, নৌকা যার আওয়ামী লীগ তার। নৌকা প্রতিক ব্যতিত অন্য কেউ যদি নিজেকে আওয়ামী লীগ দাবি করে তবে তাকে বিতাড়িত করতে হবে। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগে কোনো মতবিরোধ নাই।
প্রার্থী যেই হোক ভোট চাই নৌকায় এই স্লোগান সামনে রেখে দলকে আরো বেশী শক্তিশালী ও সাংগঠনিক কর্মকান্ড গতিশীল করতে নানা কর্মসুচি হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। তানোরের দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের (ইউপি) নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের ভাষ্য, যেকোনো নির্বাচনে যে কেউ দলীয় মনোনয়ন চাইতেই পারে। তবে দলীয় মনোনয়ন নৌকা প্রতিক যাকেই দেয়া হবে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করবেন এক্ষেত্রে তারা চুল পরিমাণ ছাড় দিতেও নারাজ। ফলে দলীয় মনোনয়ন নয় এবার দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের পরিধি বৃদ্ধি করায় মুল লক্ষ্য, সেটা সামনে রেখেই এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্তের পর থেকে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় সকল সাংগঠনিক কর্মসুচি স্থগিত রেখেছিল আওয়ামী লীগ। তবে ২০২৩ সালের সালের শুরু থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই নানা কর্মসুচি আয়োজন করা হচ্ছে। সীমিত পরিসরে হলেও এসব কর্মসুচিতে সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর উপস্থিতি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। ফলে এসব
কর্মসুচিতে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ভাল উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রাণচান্চল্যর সৃস্টি হয়েছে। এদিকে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনকে ঘষেমেঝে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্য এসব কর্মসুচি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কর্মসুচির মধ্যে রয়েছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কমিটি, ইউনিয়ন কমিটি, পৌরসভা কমিটি ও উপজেলা কমিটির বিশেষ বর্ধিত সভা আয়োজন। এসব কর্মসুচিতে সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাইনুল ইসলাম স্বপন, সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রদিপ সরকার, উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক ও তরুণ শিল্পপতি আলহাজ্ব আবুল বাসার সুজন প্রমুখগণ উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামুলক বক্তব্য রাখছেন। এবিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাইনুল ইসলাম স্বপন বলেন,
এমপি মহোদয়ের নির্দেশে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার করতে ২০২৩ সালের প্রথম থেকে বছরব্যাপী কর্মসুচি ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন তাদের মুল লক্ষ্য দলকে সাংগঠনিক ভাবে আরো বেশী শক্তিশালী করার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনের চিত্র তুলে নৌকার ভোট ব্যাংক বৃদ্ধি করা।#
Post Views: 384
Related