আলিফ হোসেন, তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অঙ্গনে একশ্রেণীর হঠাৎ আওয়ামী লীগ কুটুমেরা (নবীন) আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। এক কথায় কুটুমেরা আওয়ামী লীগে বাঁশের চেয়ে কঞ্চি মোটা হয়ে দেখা দিয়েছে।একশ্রেণীর অনুপ্রবেশকারী কুটুমদের দাপটে প্রবীণ-ত্যাগী, পরিক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এসব কুটুমেরা ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও, দলের দুর্দীনের পরিক্ষিত ত্যাগীরা কোনঠাসা হয়ে প্রায় গৃহবন্দী দশায় দিনযাপন করছেন বলে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা মনে করছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রাতারাতি উড়ে এসে জুড়ে বসা কুটুমদের (নবীন) বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ,চাকরি, ঠিকাদারী ব্যবসা, খাসপুকুর, গভীর নলকুপ অপারেটর ইত্যাদি লাভজনক পদে বসিয়ে মোটাতাজা করা হচ্ছে। অথচ ছিটকে পড়েছে আওয়ামী লীগের দুর্দীনের পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ ত্যাগী মুজিব সৈনিকেরা। যাদের ত্যাগ ও রক্ত ঘামে আওয়ামী লীগ আজ এ পর্যন্ত এসেছে এখন তাঁরাই বড় অসহায়।অধিকাংশক্ষেত্রে তাদের ঘরে খাবার নাই, ছেলেমেয়েদের চাকরি নাই, চিকিৎসা করানোর অর্থ নাই, নাই কোনো লাভজনক পদ সামনে শুধুই হাহাকার। বিপদে পড়লে কোনো নেতার সান্নিধ্যে এমনকি ফোনে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তাহলে এই মানুষগুলো কার কাছে যাবে, না কি আওয়ামী লীগ করায় তাদের অপরাধ, আজ সেই প্রশ্ন তাদের মনে বেদনার ঝড় তুলেছে। অথচ স্থানীয় সাংসদের অবৈধ অর্থল্পিসা নাই সেটা সবাই জানেন এবং এটা সর্বমহলে
স্বীকৃত।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব কুটুমদের নানা বির্তর্কিত কর্মকান্ডের কারণে হুমকির
মূখে পড়েছে দলের ভাবমূর্তি। তাদের অভিযোগ সাংসদ ও প্রথম সারির
নেতাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের
বারোটা বাজাচ্ছে এসব কুটুম। হঠাৎ আওয়ামী লীগ এসব কুটুম অধিকাংশ সময় আবার অনেকে কখোনই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন না। এমনকি যাদের রাজনৈতিক জীবনটাই পালাবদলের। তাদের দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছেন দলের ত্যাগী, প্রবীণ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সুত্র জানায়, আওয়ামী
সরকারের একটানা তিন মেয়াদের শেষ সময়ে দলে রাতারাতি এসব কুটুমদের ধুমকেতুর মতো আর্বিভাব ঘটে। আর আর্বিভাবেই বাজিমাত। প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার থেকে শুরু করে নিজস্ব লোকজন দিয়ে উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, নিয়োগ বাণিজ্যে, খাদ্যগুদামে খাদ্যশস্য সরবরাহ, টিআর-কাবিখা-কাবিটা ও গভীর নলকুপ অপারেটর নিয়োগ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রেই এসব কুটুমদের জয়জয়কার হলেও, বঞ্চিত রয়েছেন দলের ত্যাগী, প্রবীণ এবং নিবেদিতপ্রাণ নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ। কুটুমদের অদৃশ্য ক্ষমতার কাছে যেনো সবাই অসহায়। ফলে মাঠ পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড স্থবির ও দুর্বল হলেও সরাসরি এসব কুটুমদের কেউ কিছু বলতে পারছেন না। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এরাই হয়ে ওঠেন বিকল্প সাংসদ। অথচ যেখানে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরে জনসমর্থন বৃদ্ধি, তরুণ জনগোষ্ঠীকে আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়ে আশা, নেতাকর্মীদের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি করার কথা, সেখানে এসব কুটুমেরা নেতায়-নেতায় বিভক্তি, পৃথক বলয় সৃষ্টি ইত্যাদি করে সংগঠনের সর্বনাশ করেছে বলে মনে করছে তৃণমুল।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক,
স্থানীয় সাংসদের ব্যক্তি ইমেজ, জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক দুরদর্শিতা, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে এক ছাতার নিচে নিয়ে আশা ও আওয়ামী লীগের বিশাল কর্মী বাহিনীকে কাজে লাগাতে পারলে নৌকার বিজয় নিশ্চিত। কিন্ত্ত এসব কুটুমেরা সেটা করার পথে হাঁটছেন না। এসব বিবেচনায় এখানোই কুটুমদের গতিরোধ করে দলের পরিক্ষিত,ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার উদ্যোগ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মান-অভিমান, চাওয়া-পাওয়া না পাওয়া ইত্যাদি কারণে যেসব প্রবীণ-ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে নিস্ক্রীয় রয়েছে তাদের ঐক্যবদ্ধ করে সক্রিয় করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে এটা এসব কুটুমদের দ্বারা সম্ভব নয় বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের যেই বিশাল কর্মী বাহিনী ও জনপ্রিয়তা রয়েছে , তাতে দলের দুর্দীনের পরিক্ষিত, যারা নানা কারণে মান-অভিমান করে সাংগঠনিক কর্মকান্ড থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে, তাদের আবারো সক্রিয় করতে পারলে, নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে কোনো কুটুমের প্রয়োজন হবে না বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কারো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে নেয়া সম্ভব হয়নি।#
Post Views: 300
Related