বিএনপির রাজনীতিতে তুলির আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা তুলনামূলক নতুন হলেও, দলের তৃণমূল ও তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি ইতিমধ্যে পরিচিত মুখ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের পছন্দের প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলিকে ফোন করে ঢাকা-১৪ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। সেই আলোকে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় তার নাম ঘোষণাও করে বিএনপি। তবে তুলির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী এস এ সাজুর কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় মিরপুর মাজার রোড এলাকা থেকে শুরু হওয়া মশাল মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিরপুর সনি সিনেমা হল এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সরাসরি অংশ নেওয়া ত্যাগী নেতাকে উপেক্ষা করে সানজিদা তুলিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তারা মনে করেন, যোগ্য প্রার্থী না দিলে ধানের শীষে বিজয় সুনিশ্চিত হবে না এবং আসনটি হারানোর ঝুঁকি বাড়বে।
বক্তারা অবিলম্বে সানজিদা ইসলাম তুলির মনোনয়ন বাতিল এবং নতুন প্রার্থী ঘোষণা করার দাবি জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করেন, দাবি মানা না হলে তারা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
তুলির নামের সঙ্গে গুম হওয়া বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের পরিবারের সংযোগ এবং মানবাধিকার আন্দোলনের সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে দলের তরুণ ও প্রতীকী প্রার্থী হিসেবে দেখা হলেও মনোনয়ন বিতর্কে দলের নেতাকর্মীরা সরব হয়েছেন।
যদিও মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় কর্মী-সমর্থকরা একাধিকবার বিক্ষোভ করার কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী সাজুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিএনপি। তার বিরুদ্ধে দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডসহ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাকে রাতে শনিবার (২২ নভেম্বর) ঢাকা উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএমএ রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এ নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, আপনার বিরুদ্ধে দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডসহ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কাজ করার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সুতরাং আপনার বিরুদ্ধে কেনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার যথাযথ কারণ দর্শিয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে একটি লিখিত জবাব নয়াপল্টনস্থ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে আনুরোধ করা হলো। বিষয়টি অতীত জরুরি।







