রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: উত্তরাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য,
শিল্প-কারখানা ও কৃষিখাতের উন্নয়নে অবদান রাখতে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে শুভ
উদ্বোধন হতে পারে দৈনিক ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাস¤পন্ন দেশের বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ
প্রকল্প তিস্তা সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট। প্রকল্পটি চালু হলে এ অঞ্চলে ঘটবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
তিস্তা নদীর উপারে কুড়িগ্রামের উলিপুর আর এপারে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ এবং পাশেই রংপুরের
পীরগাছা উপজেলা। এ তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী সংযোগস্থলে দেশের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ
প্রকল্পটির অবস্থান। অতীতে যেখানে যেতে সাহস পেতেন না অনেকেই, ফলতো না কোনো ফসল
সেখানে যাতায়াতের জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি সড়ক। কাজের সুবিধার্থে ও প্রকল্পের তদারকির
জন্য ভিতরেও রয়েছে কয়েকটি ছোট ছোট রাস্তা। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে প্রায় ২
সহস্রাধিক লোকের। ইতোমধ্যেই জীবনমানে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে স্থানীয় অধিবাসীদের।
স্থাপিত হয়েছে মসজিদ ও মাদ্রাসা। এলাকার মৃত মানুষের সমাধিস্থ করার কোনো সুনির্দিষ্ট
জায়গা না থাকায় কর্তৃপক্ষের অনুদানে করা হয়েছে একটি কবর স্থান। এছাড়া অনুদানও দেওয়া
হয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায়। জানা যায়, ২০১৭ সালের দিকে নিজস্ব অর্থায়নে
প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি ব্যয়ে ওই দুর্গম চরের বালু রাশির পরিত্যক্ত প্রায় ৬০০ একর জায়গায়
তিস্তা পাওয়ার প্ল্যান্ট নামে দেশের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে
বেক্সিমকো পাওয়ার কো¤পানি লিমিটেড। সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে ৮৫টি
মাউন্টিং পাইলস যার উপরে বসানো হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ ৬০ হাজার সৌর প্যানেল। সারি সারি
সাজানো সৌর প্যানেলের সৌন্দর্য দৃষ্টি কেড়ে নেবে যে কারো। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এসব
সৌর প্যানেল থেকে ১২০ টি ইনভার্টারের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা
সম্ভব হবে। এ জন্য ২৮টি বক্স ট্রান্সমিশনে সংযোগ স্থাপন, সাবস্টেশনসহ ১২০ কেভিএ ট্রান্সমিশন
টাওয়ার নির্মাণ এবং জাতীয় গ্রীডে সংযুক্তির জন্য তিস্তা পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে রংপুর পর্যন্ত
তৈরি করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার লম্বা সঞ্চালন লাইন। এ লাইনের মাধ্যমেই সুন্দরগঞ্জের
কেন্দ্রটি থেকে রংপুর গ্রিড সাবস্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর
ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরের লাটশালা ও চরখোর্দ্দা গ্রামের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটির কাজ প্রায় শেষ
পর্যায়ে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে উদ্বোধনের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয়
গ্রীডে যুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তার আগে পরীক্ষামূলকভাবে
বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হবে বলেও জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। প্রকল্প এডমিন আলহাজ্ব মো. ইউনুছ
আলী বলেন, প্রকল্পটি উত্তরাঞ্চলের জন্য একটি মাইলফলক। এটি দেশের মধ্যে বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী,
লালমনিরহাট,পঞ্চগড়,দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহের
মাধ্যমে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা ও কৃষিখাতের উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ
অবদান রাখতে সক্ষম হবে। রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, রংপুর-১ এর সহকারী জেনারেল ম্যানেজার
প্রকৌশলী সিফাত আহমেদ চৌধুরী বলেন, তিস্তা পাওয়ার প্ল্যান্টের উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে
জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হবে। সেখান থেকে বিপিডিবি কিছু নিবেন তারপর হয়তো আমরাও কিছু
নিব। এতে প্রায় ১০ লক্ষ গ্রাহক উপকৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ
উন্নয়ন বোর্ড, রংপুর এর প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফ হোসেন বলেন, তিস্তা সোলার পাওয়ার
প্ল্যান্ট থেকে দৈনিক ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলে তা হবে রংপুর বিভাগের জন্য একটি
মাইলফলক। এটি রংপুর থেকেই জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হবে। তখন আমাদেরকে আর যমুনার ওইপার থেকে
বিদ্যুৎ আনতে হবে না। প্রকল্পটি চালু হলে বিদ্যুতের ঘাটতি দূর হওয়ার পাশাপাশি তা উত্তরাঞ্চলের
অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য
পলাশবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার এলাকায় চাঞ্চল্য মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সাবেক ইউপি...








