ঠাকুরগাঁও: পৌষের শেষে রাজধানীসহ দেশের ১৩টি জেলায় জেঁকে বসেছে শীত। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় কাহিল জনজীবন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মানুষ বেশি কষ্ট পাচ্ছে শীতে। সেই সাথে হাসপাতালগুলোতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও। কনকনে শীতে গেল মাসেই শুধু ঠাকুরগাঁও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হায়ায় ১৭ শিশু।
প্রচন্ড ঠান্ডা আর কুয়াশায় ঠাকুরগাঁওয়ের হাসপাতালে ডাইরিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বরসহ শীত জনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শিশু ওয়ার্ডের শয্যাগুলোর মধ্যে একটিও ফাঁকা নেই। জায়গা না হওয়ায় অনেক শিশুকে মেঝেতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। ঠান্ডাজনিত রোগে শিশুরা ব্যাপক হারে আক্রান্ত হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেজ্ঞ ডা. সাজ্জাদ হায়দার শাহীন জানান, শীতের এ সময়ে ভাইরাসের প্রবণতা বেড়ে যায়। যার ফলে শিশুরা ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কম বলে তারা সহজে আক্রান্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এসব রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে শিশুদের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা রাখার পাশাপাশি ধুলোবালি এড়িয়ে চলতে হবে। আর প্রয়োজনীয় সব টিকা দিতে হবে। সেই সঙ্গে শিশুর শরীর ঘামলে তা মুছিয়ে দেওয়া এবং যাতে ঠান্ডা না লাগে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানে শিশু ওয়ার্ডে শয্যার সংখ্যা ৪৫টি। বর্তমানে শিশু বিভাগে ভর্তি রয়েছে ১৮৫টি শিশু। তাদের মধ্যে অন্তত ৭১ শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়া গেল মাসে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে প্রি-ম্যাচিউরড বা ওজনে কম থাকা নবজাতক ১৩টি, ঠান্ডা জনিত রোগে দুই শিশু, হার্টের সমস্যা ও জ্বর নিয়ে দুটি শিশু মারা যায়।







