শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
রাজনীতির পিচ্ছিল পথ আর দীর্ঘ ১৮ বছরের বন্ধুর সময় পার করে আসা এক জননন্দিত নাম আবুল হাশেম বেপারী। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, ঢাকা জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ঢাকা জেলা বিএনপির রাজনীতির এক পরীক্ষিত ভ্যানগার্ড। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে দোহারের রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই নেতা। সংবাদ পত্র ও সংবাদ পত্র কর্মীদের তার রয়েছে আস্থা ও সহমর্মীতা। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি শুনিয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, ত্যাগ এবং আগামীর পরিকল্পনার কথা।
আবুল হাশেম বেপারীর রাজনৈতিক জীবন যেন সংগ্রামের এক জীবন্ত কাব্য। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর রাজপথে থেকেছেন অবিচল। তিনি বলেন, “গত ১৮ বছর আমরা প্রতিকূল অবস্থায় থেকে অভ্যস্ত। ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়ন আমাদের দমাতে পারেনি। রাজপথে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে নেমেছি, ডিবি অফিসে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি, দিনের পর দিন জেল খেটেছি—কিন্তু একদিনের জন্যও নেতাকর্মীদের ছেড়ে পালাইনি।” তাঁর মতে, এই দীর্ঘ লড়াই-ই তাঁর মনোবলকে পাহাড়ের মতো শক্ত করেছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও তা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন তিনি। আত্মবিশ্বাসের সাথে আবুল হাশেম বলেন, “আমি এই এলাকারই সন্তান। গত ৫০-৫২ বছর ধরে মানুষ আমাকে দেখছে। দলীয় প্রতীকের চেয়ে আমার অতীত সামাজিক আচরণ এবং মানুষের সাথে আমার সেতুবন্ধনই জনগণের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ এখন কাজ আর সততা দেখে সেবক বেছে নিতে চায়।” “জনগণ আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আমরা শূন্য। তাই রাজপথের সাহসিকতা আর ধৈর্যের মাধ্যমেই আমরা দেশকে আধুনিকতায় নিয়ে আসব।”
রাজনীতির পাশাপাশি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সংবাদকর্মীদের প্রতি আবুল হাশেম বেপারীর রয়েছে গভীর আস্থা ও সহমর্মিতা। তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজ পরিবর্তনে এবং স্বচ্ছ রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি বলেন, “সংবাদপত্র হলো সমাজের দর্পণ এবং সাংবাদিকরা হলেন জাতির বিবেক। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংবাদকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠতা আমাকে সাহস জুগিয়েছে। তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা সবসময় অটুট থাকবে।”
দলে অনুপ্রবেশকারী ও সুবিধাবাদীদের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন এই যুবদল নেতা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা বিগত সরকারের আমলে সুবিধাভোগী ছিল এবং বর্তমানে ভোল পাল্টে বিএনপিতে আসার সুযোগ খুঁজছে, তাদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
নির্বাচিত হলে দোহারের আমূল পরিবর্তনের এক ভিশন তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান তদারকি করে আগামীর দক্ষ নাগরিক গড়ে তোলা।
শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং তারেক রহমানের ৩১ দফার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যেন সমাজের কোনো ক্ষতি না হয়। জনগণের চাহিদা বোঝাই এখন রাজনীতির মূল কাজ।
সাক্ষাৎকারের শেষে তাঁর কণ্ঠে ফুটে ওঠে চরম বিনয়। তিনি নিজেকে জিয়াউর রহমানের আদর্শের একজন ‘নগণ্য কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দিতেই সবচেয়ে বেশি গর্ববোধ করেন। ব্যক্তিগত লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে জীবনের বাকি সময়টুকু দোহারের মানুষের সেবায় উৎসর্গ করতে চান এই জননেতা।
ঢাকা জেলা বিএনপির এই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এখন দোহারের মানুষের মাঝে নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিচ্ছেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আর জনগণের ভালোবাসার ওপর ভর করে আবুল হাশেম বেপারী কি পারবেন দোহারের সেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে? সময় আর জনরায়ই দেবে সেই উত্তর।







