এম এ হোসেন, রংপুর মহানগর: নগরীর ফুটপাত কি কখনই পথচারীদের জন্য হবে না? বিতর্ক পুরনো হলেও রংপুরে ফুটপাতের অবৈধ দখল, ব্যবসা আর চাঁদাবাজি চলছে সমান তালে। আয়তনের দিক থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিটি কর্পোরেশন রংপুর। উন্নয়নের মহাসড়কে যখন এগিয়ে যাচ্ছে গোটা বাংলাদেশ তখন সিটি কর্পোরেশন হওয়ার এক দশকে এসেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বা দখলমুক্ত হয়নি রংপুর মহানগরের ফুটপাত। মাঝে মাঝে অভিযান হলেও ফলাফল শূন্য। ফুটপাত ব্যবহারের সুযোগ নেই সাধারণ মানুষের। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সিটি কর্পোরেশন ও সড়ক বিভাগের কিছু কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে দখলে মহানগরীর ফুটপাত, বাড়ছে যানজট, ঘটছে নানা অনাকাঙ্খিত ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর মহানগরীর প্রায় সব ফুটপাত স্থানভেদে দখলে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি, নামধারী কিছু রাজনৈতিক কর্মী ও সমাজসেবী। তারাই ম্যানেজ করেন সবকিছু। এসব ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে ভাসমান দোকান, হোটেলসহ নানা ব্যবসা। দিন বা মাস শেষে ম্যানেজ করা এসব ব্যক্তি এসে তুলে নেন দৈনিক বা মাসিক চাঁদা। নগরীর মেডিকেল মোড়, টার্মিনাল, কাচারি বাজার, সিটি বাজার, সুপার মার্কেট এলাকা, জাহাজ কোম্পানি মোড়, শাপলা চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত চলে গেছে দখলে। এদিকে ফুটপাত দখল করে থাকা ব্যবসায়ীরা অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করেই বলেন, আমরা অনেক কষ্টে এসব জায়গায় ব্যবসা করে খাই। দিনশেষে যা আয় হয় তার বেশিরভাগই চলে যায় অনেকের কাছে। আমরা ব্যবসা করে খাই, আমাদের কি দোষ। ফুটপাত দখল অবৈধ কি না? এমন প্রশ্ন করলে তারা বলেন, পেটের দায়ে ব্যবসা করি বৈধ-অবৈধ বুঝিনা। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশন হওয়ার পর থেকে দু’বার নির্বাচন হয়েছে, সময় এসেছে তৃতীয় মেয়াদের নির্বাচনের কিন্তু এখনও গড়ে উঠেনি পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন নগরী। ফুটপাত দখল করার ফলে বাড়ছে যানজট ও দূর্ঘটনা। এসব থেকে মুক্তি পেতে তারা সিটি কর্পোরেশন মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য অনুরোধ জানান। এদিকে এসব বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, অভিযানও পরিচালনা করছি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবো।








