আমি অনার্স ২য় বর্ষে পড়ি। আমি যখন ক্লাস ৯-এ পড়ি, তখন থেকেই একটা ছেলে আমার পিছনে ঘুরত। আমার পরিবারও জানত। এলাকার সবাই জেনে যায় যে সে আমার জন্য আমাদের বাড়ির সামনে সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকে। ছেলেটাও আমাদের এলাকার। তখন আমি তাকে কোনো গুরুত্ব দিতাম না। আমি ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় বাড়ির বাইরে চলে যাই। ছেলেটাও পরে বাইরে চলে যায় এবং একই জায়গায় পড়াশোনা করত। করোনার সময় সব বন্ধ থাকায় সে মাঝে মাঝে আমাকে দেখার জন্য আসত। বিভিন্ন ই-শারা করত, আমি বুঝলেও গুরুত্ব দিতাম না। ইন্টার পড়ার সময় কয়েক মাস তার সাথে আমার দেখা হয়নি। পরে একদিন দেখা হলে সে কথা বলতে আসে। প্রথম দিনেই আমি বলি—“তোমার জন্য এলাকায় আমার নামে খারাপ কথা হচ্ছে।” সে রাগ করে চলে যায়।
কিছুদিন পর আবার আসে এবং আমার ফোন নম্বর চায়। আমি দেইনি। সে নিজের নম্বর কাগজে লিখে দেয়। বলে—“আমি জানি তুমিও আমাকে পছন্দ করো। তুমি কোনো চিন্তা করিও না, আমি নিজেই তোমার বাড়িতে গিয়ে সব বলব। আমি সবাইকে মানিয়ে নিব। আমি বলব আমরা দুইজন দুইজনকে ভালোবাসি এবং বিয়ে করতে চাই। তোমাকে কিছু করতে হবে না। আমি তখন কথাটা গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু পরে মনে হলো আমি তো তাকে কখনো গুরুত্ব দেইনি, হঠাৎ যদি সে বাড়িতে কিছু বলে বসে! তাই আমি ফোন দিয়ে তাকে মানা করি যেন আমার নামে কিছু না বলে। কিন্তু সে শোনেনি।
এরপর থেকে আমার জন্য তার পা-গলামি শুরু হয়। মাঝেমধ্যে ঝামেলা হতো, আবার ঠিকও হয়ে যেত। একসময় আমিও তাকে সময় দিতে শুরু করি। এর কারণে আমার নিজের সব স্বপ্ন নষ্ট হতে থাকে। আমার ইন্টারমিডিয়েটের রেজাল্ট খারাপ হয়। অথচ আমি পড়তে গিয়েছিলাম।
আমি বাসায় ফিরে আসার আগে থেকেই সে অন্য মেয়ের সাথে কথা বলত। আমি বাসায় আসার পর সে আমাকে ছেড়ে দেয় এবং অন্য কারো জন্য চলে যায়। আমাকে সব দোষ দিয়ে যায়—আমার নাকি ব্যবহার খারাপ। আমি অনেক কষ্ট পাই এবং নিজেকেও দোষ দিই। এরপর আমাদের ক্লাসের একটি ছেলে আমাকে পছন্দ করে এবং একদিন আমাকে মেসেজ দেয়। কিছুদিন কথা বলার পর আমি তাকে আমার অতীতের কথা বলি। সে আমাকে অনেক বুঝায় এবং আমার পাশে থাকে। ধীরে ধীরে আমারও তার প্রতি মায়া জন্মায়। আমি একদিন তাকে না জানিয়েই তার কথা বাড়িতে বলি। আমার আম্মা বলেন, সমস্যা নেই—এক বছর পর বিয়ে দেবেন, আগে পড়াশোনা ভালোভাবে করতে বলেন। আমিও তাকে বলি, “তুমি পড়াশোনা করো, জীবনে কিছু করো, তারপর বাকি বিষয় দেখা যাবে।” আমাদের সম্পর্ক চলতে থাকে। কিন্তু সে পড়াশোনা করত না।
আমি বললে শুনত, কিন্তু বাস্তবে পড়ত না। অল্পতেই রেগে যেত এবং আমাকে গা-লাগালি করত। আমাকে “কু-ত্তার বাচ্চা” বলেও গা-লি দিত। সে পরীক্ষা দিতেও চাইত না। আমি জোর করে তাকে পরীক্ষা দিতে বলেছিলাম, কিন্তু সে কোনোদিন বই হাতে নেয়নি। পরে ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় সে এলাকার কিছু ছেলের সাথে সিলেট চলে যায়। আমি মানা করলেও শোনেনি। আমি তাকে পরীক্ষার জন্য আসতে বলেছিলাম, কিন্তু সে আসেনি। পরে বলে, “আমি আসতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমার কাছে টাকা ছিল না।” আমি বলি, “আমাকে আগে বললে আমি টাকা দিতাম।” ট্রেনে আসতে ২০০ টাকার মতো লাগত। রেজাল্টে আমি ফার্স্ট ক্লাস পাই, কিন্তু সে প্রোমোটেড হতে পারেনি। এরপর সে বলে, তার ইচ্ছে ছিল বাইরে গিয়ে পড়ার, কিন্তু পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে পারেনি। তারপর থেকেই সে পুরোপুরি পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। এখন সে বেকার এবং আর পড়বে না।
এখন সে আমাকে ছাড়া থাকতে পারে না এবং বিয়ে করতে চায়। কিন্তু আমার পরিবার রাজি না। কারণ সে বেকার, রাগী, অল্পতেই গা-লি দেয় এবং দায়িত্বশীল না।
সে আমাকে সবকিছুর জন্য দোষ দেয়। বলে, “তোর জন্য আমার জীবন ধ্বং-স হয়ে গেছে, তোর জন্য আমার পড়াশোনা নষ্ট হয়েছে।” আমি যদি তার কোনো কথা না বুঝি, সে রেগে যায়। আমি তার মতো করে চলার চেষ্টা করি, কিন্তু আমি তাকে বুঝতে পারি না, সেও আমাকে বুঝে না। ঝামেলা হলেই সে আমাকে খারাপ ভাষায় গা-লি দেয়, এমনকি “বে-শ্যা” বলতেও তার বাধে না। আমি বললে কেন এমন ভাষা ব্যবহার করে, সে বলে—“আমার ব্যবহার নিয়ে কথা বলার তুই কে? আমি যখন বলি আমি পড়াশোনা করতে চাই, সে বলে আমাকে পড়তে দেবে না। আবার কিছু করতেও দেবে না। আমার পরিবার তাকে মেনে নিচ্ছে না, তাই সে আমাকে পরিবার ছেড়ে তার সাথে যেতে বলছে।
আমার পরিবার আমাকে অনেক কষ্ট করে বড় করেছে। আমার বাবা আমাকে নিজে হাতে পড়িয়েছে। তিনি চান আমি পড়াশোনা করে মানুষ হই। আমার বড় ভাই-বোন মারা গেছে, এজন্য আমার বাবা-মায়ের অনেক কষ্ট। আমার ভাই এখন অসুস্থ, বাঁচবে কিনা তাও নিশ্চিত না। এসব নিয়ে আমার মা সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকেন। অনেক ভালো ছেলে পেয়েও বিয়ে দেয়নি আমাকে শুধু আমি রাজি না বলে। বিয়ের পর ও পড়াবে বলেছে কিন্তু আমি করিনি কারণ ওকে ঠকাতে চায়নি। আমি পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু এই ছেলেটাকেও ভালোবাসি। আবার তার ব্যবহার, বেকারত্ব—এসব কারণে তাকে বিয়ে করতেও ভয় লাগে। সে আমাকে পড়তেও দিবেনা,কিছু করতেও দিবেনা। পরিবার মানছেনা বলে বাবা-মায়ের সঙ্গে পরিবারকে ছেড়ে দিতে বলে। আমি এখন মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছি। বুঝতে পারছি না আমার কী করা উচিত।
আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি, দয়া করে আমাকে বুঝিয়ে দিবেন।
পাঠিয়েছেন








