কুমিল্লায় মুরাদনগরের একটি গ্রামে বসতঘরের দরজা ভেঙে এক নারীকে (২৫) ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা দেশজুড়ে ক্ষোভ, নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। এই জঘন্য অপরাধের নিন্দা এবং এর সুষ্ঠু বিচার চেয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল সোচ্চার হয়েছে।
এ ঘটনায় একটি ভিডিও গতকাল শনিবার রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তোলপাড়। নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে ধর্ষকদের বিচার দাবি করছেন।
এইস্যুতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কুমিল্লার মুরাদনগরে একজন নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন একান্তই লজ্জাজনক একটি ঘটনা।রোববার সকালে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি লিখেছেন, লম্পটদের যেকোনো মূল্যে পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং কঠোর শাস্তি দিতে হবে। খুঁটির জোর যাই হোক, তাকে কোনোভাবেই পাত্তা দেওয়া যাবে না।অন্যথায়, এই সমাজ আপাদমস্তক একটি জংলি সমাজে পরিণত হয়ে যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মুরাদনগরের ধর্ষণের ঘটনা ঘটে গত বৃহস্পতিবার। শনিবার রাতে ফেইসবুকে ভাইরাল হলো একটা ভিডিও। এরপর সবাই জানতে পারে ধর্ষণের কথা। এর আগে শুক্রবার দুপুরে থানায় ভুক্তভোগী নারী মামলা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার কারণে বিষয়টি সবার নজরে আসে। সকলেই ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়। এরপরই ধর্ষক ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া দুর্বৃত্তরা গ্রেপ্তার হয়েছে।
নেটিজেনরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীর যে অবস্থা দেখা গেছে, এটা অব্যাখ্যেয়। অসহায়ত্ব, বাঁচার আকুতি সব ছিল। কিন্তু ধর্ষক ও তার ভিডিও ধারণকারী দুর্বৃত্তদের থেকে ভুক্তভোগী নারী রক্ষা পাননি। ভিডিওটিতে ওই নারীকে মারধর করতেও দেখা যায়।
প্রতিবাদ জানাতে শোবিজ তারকারাও পিছিয়ে নেই। এমন বীভৎস একটা ঘটনার প্রতিবাদে তারাও সরব। বলা যায়, রীতিমত ফুঁসছে শোবিজ অঙ্গন। প্রতিবাদ জানিয়েছেন মিশা সওদাগর, নুসরাত ফারিয়া, তমা মির্জা, মৌসুমি হামিদ, জয় চৌধুরী, আরশ খান, প্রার্থনা ফারদিন দীঘিসহ আরো অনেক তারকা।
এদিকে, কুমিল্লার মুরাদনগরের একটি গ্রামে বসতঘরের দরজা ভেঙে এক নারীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে আজ ভোর পাঁচটার দিকে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই নারীকে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে। তারা হলেন মো. সুমন, রমজান আলী, মো. আরিফ ও মো. অনিক। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাড়ি মুরাদনগর উপজেলায়।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই নারী প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাবার বাড়ির পাশে পূজা হচ্ছিল। পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়েছিলেন; তিনি বাড়িতে একা ছিলেন। আনুমানিক ১০টার দিকে ফজর আলী (৩৮) নামের এক ব্যক্তি তার বাবার বাড়ি গিয়ে ঘরের দরজা খুলতে বলেন। এ সময় তিনি দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন।







