রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী নিয়ামতপুর-পোরশা ও সাপাহার নিয়ে গঠিত নওগাঁ-১ আসন। আসন্ন ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে এবার বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করে মাঠ গোছানোর কাজ শুরু করেছেন বিএনপির আদর্শিক ,নিবেদিতপ্রাণ, পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ সম্পন্ন, ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতৃত্ব মোস্তাফিজুর রহমান। নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে এবার পুরানো নেতৃত্ব পরিহার করে নতুন নেতৃত্ব মনোনয়ন দেয়ার দাবি করেছেন বিএনপির তৃণমুল।
জানা গেছে, নওগাঁ-১ আসন এক সময় ছিলো বিএনপির দুর্গ। তবে আওয়ামী লীগের ১৭ বছরে এখানে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপির হারানো গৌরব ফেরাতে ফের তৎপরতা শুরু করেন নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান।
এদিকে তরুণ ভোটারদের পাশাপাশি দলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ চাই নেতৃত্বের বিকাশ।ফলে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে এবার তারা পুরান নেতৃত্ব পরিহার করে নতুন নেতৃত্ব মনোনয়ন দেবার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে নওগাঁ-১ আসনে বিএনপির রাজনীতিতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। বিএনপির এই পুনর্জাগরণের কেন্দ্রে রয়েছেন নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান।
তৃণমুলের ভাষ্য, মোস্তাফিজুর রহমানের রাজনৈতিক দুরদর্শিতা, সাহসিকতা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় বিএনপি আবারো উজ্জীবিত হচ্ছে পোরশা-সাপাহার ও নিয়ামতপুর উপজেলায়।এদিকে তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক কর্মসূচি এবং জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করেন একজন আদর্শিক ও দক্ষ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ও বিজয়ী হবার সকল যোগ্যতা থাকার পরেও মনোনয়ন প্রাপ্তির অশুভ প্রতিযোগীতায় তিনি টিকতে না পেরে বার বার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্ত্ত কখানোই তিনি দলের বিপক্ষে অবস্থান নেননি। সব সময় দলীয় সিদ্ধান্ত মাথা পেতে মেনে নিয়েই রাজনীতি করে যাচ্ছেন। যা একজন আদর্শিক নেতার বৈশিষ্ট। তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েও প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নেতাকর্মীদের নিয়ে সক্রিয়ভাবে সরাসরি কাজ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান,বিগত ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মোস্তাফিজুর রহমানকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে অদৃশ্য কারণে তাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করে অন্যকে মনোনয়ন দেয়া হয়।এতে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।কিন্ত্ত মোস্তাফিজুর দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে সকল নেতাকর্মীকে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করার অনুরোধ করেন।
জানা গেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শত দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি অটল ছিলেন নেতাকর্মীদের পাশে। এমনকি ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলা,গণগ্রেফতার ও ধরপাকড় শুরু হয়। নওগাঁ জেলায় অন্যতম টার্গেটে ছিলো মোস্তাফিজুর রহমান।
দলীয় সূত্র জানায়, নিয়ামতপুর-পোরশা ও সাপাহারের তৃনমুলের হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা হয়। এসব মামলায় ব্যক্তিগত খরচে অনেককে আইনি সহায়তা দেন মোস্তাফিজুর রহমান, যা তাকে কর্মীদের কাছে আস্থা-বিশ্বাস,ভালবাসা ও ভরসার জায়গায় পরিণত করেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি কখানো মাঠের রাজনীতি থেকে পিছু হটেননি। বরং প্রতিটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিয়ামতপুরে অন্যতম সক্রিয় নেতা ছিলেন মোস্তাফিজুর। গত বছরের ৪ আগস্টে নিয়ামতপুর বাসস্ট্যান্ডের সমাবেশে তিনি নেতৃত্ব দেন এবং সরকার পতনের পর প্রশাসনিক শূন্যতা মোকাবিলায় নিজ উদ্যোগে দলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এদিকে নওগাঁ-১(নিয়ামতপুর- পোরশা-সাপাহার) বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলের এক জৈষ্ঠ নেতা বলেন,নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে নতুন নেতৃত্বের বিকল্প নাই।তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী দলীয় অবস্থান, ভোটারদের মানসিকতা ও নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেয়া হলে মোস্তাফিজুর রহমানের মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত।
বিএনপির তৃণমুল নেতাকর্মীদের বিশ্বাস মোস্তাফিজুর রহমানকে মনোনয়ন দেয়া হলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।#
Post Views: 258
Related