পাসপোর্টের বারকোড অংশ স্ক্যান করার সঙ্গে সঙ্গেই খুলে যায় প্রথম গেট। এরপর পাসপোর্টধারীর মুখের ছবি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে স্ক্যান করা মাত্রই খুলে যায় দ্বিতীয় গেট। সব মিলিয়ে সময় লাগে মাত্র ২০ থেকে ২৫ সেকেন্ড। এ অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয় ইমিগ্রেশন।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন চিত্র এটি। ই-পাসপোর্টধারীদের এমন সুবিধা দিতে সম্প্রতি এ বিমানবন্দরে চালু হয়েছে ছয়টি ই-পাসপোর্ট গেট। অত্যাধুনিক এ গেটের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
জানা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই প্রথম এ ধরনের গেট স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিমানবন্দর এ সুবিধার আওতায় আসবে। ই-গেট চালুর মাধ্যমে নতুন এক সূচনা করেছে দেশের অন্যতম এ বিমানবন্দর। প্রথম ধাপে বিদেশ ফেরতদের জন্য তিনটি ও বিদেশগামীদের জন্য তিনটিসহ মোট ছয়টি গেট স্থাপন করা হয়েছে এখানে।
২০২০ সালে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ, যা দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম। এ পাসপোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। এখন থেকে আন্তর্জাতিক যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাগরিকদের ভোগান্তিহীন যাতায়াত নিশ্চিত হবে।
বর্তমানে দেশের স্থল ও বিমানবন্দরের মধ্যে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে মোট ৩৮টি ই-গেট স্থাপন করা হয়েছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরো ১২টি ই-গেটের কাজ।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক আবু সাঈদ বলেন, বিভিন্ন দেশের ভিসা পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় যারা দেশের বাইরে যাবেন সেসব যাত্রীকে প্রথমে ম্যানুয়ালি কিছু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে ই-পাসপোর্টধারী যেসব প্রবাসী দেশে ফিরবেন তারা খুব সহজেই ইমিগ্রেশন পার হতে পারবেন।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার তাসলিম বলেন, আমাদের দেশের যাত্রীদের পাশাপাশি বিদেশি যাত্রীরাও ই-গেট ব্যবহার করবেন। ফলে উন্নত দেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার সঙ্গে আমাদের অগ্রগতির বিষয়টি উঠে আসবে।
১৯৪০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর। যাত্রা শুরুর সাত দশক পর ২০১৩ সালে মেলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বীকৃতি। এরপর থেকে দূর গন্তব্যে ডানা মেলতে শুরু করে ফ্লাইট।
প্রতিষ্ঠার আট দশক পর এবার অবকাঠামোগত সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে দেশের অন্যতম এ বিমানবন্দর। ২০২৩ সালের জুন মাসের আগেই শেষ হবে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। এরই মধ্যে যার ছোঁয়া লেগেছে বিমানবন্দরের রাজস্ব আয়ে। প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরের বিমানবন্দর হিসেবে শত কোটি টাকা আয় করেছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্যমতে, গত অর্থবছরে তাদের রাজস্ব আয় ছিল এক হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। যার মধ্যে ১০৬ কোটি টাকা আয় করে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।







