রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন বই চলতি বছর নভেম্বর মাসের মধ্যেই উপজেলায় পৌঁছে যাবে। গতকাল রবিবার দুপুরে রংপুর আরডিআরএস মিলনায়তনে প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা মানসম্মতকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভা ও অবকাঠামো উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব ফরিদ আহাম্মদ একথা বলেন। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত, বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মীর আব্দুস সাহিদ, বিভাগীয় এলজিইডি অতিরিক্ত কে এম জুলফিকার আলী, বিভাগীয় পরিচালক মোজাহিদুল ইসলাম বুলেট প্রমুখ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব ফরিদ বলেন, চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। যেকোনো মূল্যে নভেম্বরের মধ্যে প্রতি উপজেলায় প্রাথমিকের সব বই পৌঁছে দেওয়া হবে। যাতে আগামী পহেলা জানুয়ারি বাচ্চাদের হাতে বই পৌঁছাতে পারি। তিনি আরও বলেন, যেহেতু এবার ক্লাস টু ও থ্রির নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে দিবো। এটা আমাদের জন্য বেশি চ্যালেঞ্জিং। আমাদের নতুন পান্ডুলিপি প্রণয়ন হয়ে গেছে। টেন্ডার থেকে শুরু করে যে যে প্রক্রিয়ায় যেখানে যতটুক সময়ের মধ্যে যতটুক কাজ দরকার, সেটা নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। যাতে আগামী বছর পহেলা জানুয়ারি একসাথে সব বই কোমলমতি শিশুদের হাতে পৌঁছায়।
রংপুরে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিট নির্মাণে ধীরগতি
রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি: উত্তরের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রংপুরে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশ্বমানের ৪৬০ শয্যা বিশিষ্ট সমন্বিত ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিট। রংপুর অঞ্চলের ২ কোটি মানুষের জন্য এটি হবে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র। রংপুর বিভাগের মধ্যে এটি হবে বিশ্বমানের প্রথম ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিট। গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যা¤পাসে ১ একর ৩৭ শতক জমির উপর অত্যাধুনিক এ ইউনিটের নির্মাণকাজ চলছে। স্থাপত্য অধিদপ্তরের নকশার আলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। দুটি বুনিয়াদি ভিত্তি (ভবনের ভূগর্ভস্থ অংশ) এবং ১৫ তলা ভবন বিশিষ্ট এ ইউনিটে ক্যানসারের জন্য ১৮০টি, কিডনির জন্য ১৬৫ এবং হৃদরোগের জন্য ১১৫টি শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় ৯২ কোটি ৭৩ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫৩৬ টাকা। বঙ্গ বিল্ডার্স লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৮৩ কোটি ৪৬ লক্ষ ১৪ হাজার ৫৮২ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ চলছে। এ প্রকল্পটি ২৪ মাস সময়সীমা নির্ধারণ করে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২১ সালের ৩০ মে। জানা যায়, নির্মাণাধীন জমিতে পানির স্তর উচ্চ হওয়ায় ৪০ ফিট মাটি কেটে কাজটি করাসহ মাঝে বৈশ্বিক করোনা অতিমারীর কারণে প্রকল্পের কাজ অনেকটা বিলম্বিত হয়। প্রায় ২ বছর পর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আবারও নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর আগে ২০২২ সালে ৯ জানুয়ারি এ সমন্বিত ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিটটির ভার্চুয়ালি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথমে এটি ১০০ শয্যার অনুমোদিত হলেও পরবর্তিতে ৪৬০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। রংপুর বিভাগের মানুষের একমাত্র উন্নত চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অথচ সেখানে প্রায়ই নেফ্রোলজি বিভাগে কিডনি ডায়ালাইসিসে যন্ত্র ত্রুটির কারণে ভুগতে হয় রোগিদের। সরকারি হাসপাতাল হলেও বেশি রোগি সেখানে ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালটির হৃদরোগ বিভাগেও রয়েছে চিকিৎসক সংকটসহ নানা অব্যবস্থাপনা। মুমূর্ষু অবস্থায় এ বিভাগের প্রতিটি রোগিকে ভর্তি করানো হয়। একদিকে নির্ধারিত বেডের চাইতে রোগির সংখ্যা বেশি, অপরদিকে চিকিৎসক সংকটের জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসকসহ সেবিকাগণও সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগিরা পাচ্ছেনা প্রযোজনীয় চিকিৎসা সেবা। দরিদ্র আর নিম্নবিত্ত রোগিদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। এ পরিস্থিতিতে নির্মাণাধীন ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিটটি ঘিরে আশার আলো দেখছে রংপুর অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বঙ্গ বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রকল্প প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষায়িত ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিটের নির্মাণকাজ দেড় বছর আগে শুরু হয়েছে। কাজের শুরুতে এখানকার মাটি এবং পানির চাপের কারণে ব্যঘাত ঘটে। পরে মাটি আটকানোর জন্য পাইল করা হয়। মাটি নিয়ন্ত্রণ করার পর পানির চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, করোনার সংক্রমণে সবকিছু যখন স্থবির ছিল, তখন কিছুই করতে পারিনি। সবমিলিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করতে লম্বা সময় বিলম্ব হয়। তবে এখন কাজ পুরোদমে চলছে। যত দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষে ভবনটি হস্তান্তর করার চেষ্টা করব। গণপূর্ত অধিদপ্তর রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খন্দকার বলেন, ৪৬০ শয্যা বিশিষ্ট ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিট প্রকল্পের কাজটি গণপূর্ত বাস্তবায়ন করছে। নির্মাণ কাজ এখনো চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪০ ভাগ কাজ স¤পন্ন হয়েছে। বড় ধরণের কোনো দুর্যোগ, মহামারি বা সংকট দেখা না দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করা সম্ভব হবে। রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. বিমল চন্দ্র রায় বলেন, রংপুরে নির্মাণাধীন ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ ইউনিটটি হবে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ব্যবস্থাপনা ইউনিট। এখানকার যন্ত্রপাতিসহ সব ব্যবস্থাপনা থাকবে অত্যাধুনিক। বিশ্বে যেভাবে চিকিৎসা হয় এখানেও সেভাবে হবে।







