মোঃ রাজিবুল ইসলাম বাবু
স্টাফ রিপোর্টঃ-
দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পরে ২৬ জুলাই ২০২২ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন।
প্রত্যাশার সম্মেলনকে ঘিরে চলছে নানা জ্বল্পনা কল্পনা। এরি মধ্যে স্থানীয় এমপিকে নৌকা বিরোধী মদদদাতা আক্ষা দেয়াসহ সম্মেলনের নামে নৌকা বিদ্রোহীদের মিলন মেলা দাবি করে প্রেস কনফারেন্স করে সম্মেলনে না আসার কথা জানিয়েছে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও সম্পাদক।
জানা যায়, ২৬ জুলাই মঙ্গলবার সকাল থেকে অনুষ্ঠিত হবে বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন। কে হচ্ছে সভাপতি সম্পাদক তা নিয়ে যেমন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। তেমনি সম্মেলনের বিপক্ষেও চলছে একাধিক সংবাদ সম্মেলন।
তৃনমুল আওয়ামী লীগের চাওয়া দলকে সুসংগঠিত করতে সম্মেলনের বিকল্প নাই। তেমনি সম্মেলনটি সবার কাছে যেনো গ্রহনযোগ্য হয় সে দিকেও দেওয়া হচ্ছে নজর। চিঠি, পোষ্টার, ফেষ্টুন মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষের মধ্যে রাত পোহালেই সম্মেলন ।
আর সেই সম্মেলন নিয়ে সকলকে ভাবাচ্ছে দলের মধ্যে বিভাজন। দলিয় সুত্রে জানা যায়, বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে ২০১৩ সালে। পরবর্তীতে ২০২২ সালে সম্মেলন করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসএম কামাল হোসেন জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে আলোচনা করে গত ২৭ মে এবং ২৭ জুন দুইবার তারিখ নির্ধারণ করে দিলেও বিভিন্ন কারণে সম্মেলন হয়নি।
সর্বশেষ রাজশাহী নগর ভবনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং এসএম কামাল হোসেন নাটোর জেলা আওয়ামী লীগ ও লালপুর-বাগাতিপাড়ার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে ২৬ জুলাই বাগাতিপাড়া সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে দেন।
সেই সম্মেলনে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে এসএম কামালসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা যায়।
আরও জানা যায়, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস ও সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান লিখিত ভাবে বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল সফল করার লক্ষ্যে ১৯ জুলাই বর্ধিত সভা করার নির্দেশ দেন।
সেই চিঠিতে নাটোর-১ (লালপুর- বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলকে উপস্থিত থাকার কথা বলেন।
এদিকে গত ১৮ জুলাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তমালতলা দলিয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেণ।
সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলকে দলের নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দলের প্রার্থীদের হারানোর অভিযোগ আনা হয়।
এছাড়া নির্বাচনে বিদ্রোহী হিসেবে ভোট করা প্রার্থীরা সম্মেলনের প্রথম সারিতে থাকার কথা উল্লেখ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলে অংশ গ্রহণ করবেন না বলে জানান।
পুনরায় ২৫ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে এমপিকে নৌকা বিরোধী মদদদাতা আক্ষা দিয়ে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের নামে নৌকা বিদ্রোহীদের মিলন মেলা বলে দাবি করে সম্মেলনে না আসার কথা জানান আ’লীগ সভাপতি আবুল হোসেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার রহমান বলেন, নৌকা বিরোধীদের সাথে সম্মেলন না করা এবং গোপন ব্যলোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের দাবি জানিয়ে দলের উপর মহলে আবেদন জানানো হয়েছে।
তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে কিছু না পেয়ে গত ২৪ জুলাই উপজেলার ইউনিয়ন ও পৌরসভার নেতাকর্মীদের নিয়ে আলোচনা করে সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, এই কাউন্সিলে নৌকা বিরোধীদের প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়াসহ নানা কারণে নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তে এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছে তিনি।
এবিষয়ে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, সম্মেলনের আয়োজন করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সম্মেলনে অংশ নেওয়া, না নেওয়ার বিষয়টি তাঁরা বলতে পারবেন।
নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলন করার জন্য রাজশাহীর দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
সেই মোতাবেক এই সম্মেলন হচ্ছে। যারা সম্মেলনে অংশ নিবেনা তাদের ব্যাপারে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে।







