নারীর যৌনতা, তার কাম বাসনা, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বহু দেশে একটি নিষিদ্ধ বিষয়। এই প্রসঙ্গে কথা বলা খুব মুশকিল। নারীর যৌন আকাঙ্ক্ষা থাকতে নেই- এমনটাই সামাজিকভাবে নারীকে শেখানো হয়।
নারীর যৌনতাকে করা হয়।
নারীর শরীর, যৌনতা তার নিজের জন্য নয়, বরং পুরুষের ভোগের বিষয়, সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়ার অংশ। নারী নিজেও এক সময় এভাবেই ভাবতে শুরু করে।
নারীর যৌনতা তার নিজের জন্য নয়।
বেশিরভাগ সমাজে নারীর যৌনতা যেন তার নিজের জন্য নয়, বরং পুরুষের ভোগের জন্য।
যৌনতার ইতিহাস সম্পর্কে পড়তে গিয়ে, বিভিন্ন সাহিত্যকর্মে এর উল্লেখ, যৌন পল্লী ও পর্নোগ্রাফির আবির্ভাব -এসব ক্ষেত্রে নারীর যৌন আকাঙ্ক্ষা একটি উপেক্ষিত বিষয়, যৌন সুখ শুধু পুরুষের জন্য এমনটাই মনে হয়।
এমনকি বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যেও যৌন মিলনে নারীর সম্মতিকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতার কথা শোনা যায় প্রায়শই।
বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণকে জাতিসংঘ ভয়াবহ ধরনের পারিবারিক সহিংসতা বলে মনে করে।
আবার যৌন চাহিদা সম্পর্কে নারীর পছন্দের বিষয়টিও আমলে নেয়া হয় না। ১৮ বছরের বৈবাহিক জীবনে নিয়মিত অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন।
প্রায়ই দেখা যায় আমি ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছাইতে পারি নাই। কিন্তু আমার স্বামীর শেষ হয়ে গেছে। সে কিছু ভাবেই না। উঠে চলে যায় অথবা ঘুমায়ে যায়। আমি এই বিষয়ে কিছু বলতেও পারি না, যতই অস্থির লাগুক না কেন, লজ্জা লাগে। ও কী মনে করবে, কী বলবে – ভয় লাগে। আবার আমার ইচ্ছা করতেছে না সে তাও চায়। আমার যাতে ইচ্ছা করে সেজন্য সে কোন চেষ্টাও করে না।”
এমন বিষয়ে কথা বলায় দ্বিধা থেকেই সমাজে নারীর যৌনতার ধারণা অনেকটাই স্পষ্ট হয়।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মেখলা সরকার বলছেন, এক পর্যায়ে যৌনতা নিয়ে নারীদের নিজেদেরও ফ্যান্টাসি বা আগ্রহ কমতে থাকে। মা হবার পর, বিশেষ করে সন্তান বড় হবার পর।
ডা. মেখলা সরকার বলছেন, এ বিষয় নিয়ে নারীরা পুরুষের আগ্রহেই চিকিৎসকের কাছে যান, নিজের আগ্রহে নয়।
যৌনতা নিয়ে নারীর উদ্বেগের কথা বলছিলেন তিনি, “অনেক নারীর এ ব্যাপারে একটা অ্যাংজাইটি থাকে তাই তারা উপভোগ করতে পারে না। তারপর যেহেতু বিষয়টা সম্পর্কে ধারণা কম, শিক্ষা কম, তাই তাদের অনেকের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করে।
নারীদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র শারীরিক না, আবেগের দিক থেকেও যদি ইনভলভমেন্ট না থাকে, বা সে ফিল করে যে আমাকে প্রায়োরিটি দিচ্ছে না, কিন্তু শুধু ওই সময়টায় তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তাহলে সেটাও সে এনজয় করবে না।”
ভালো লাগে জানাবেন।








