বেরোবিপ্রতিনিধি
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলকর্মী সানজিদ সরকার (স্মরণ) ও সহ আরও ছয় জনের বিরুদ্ধে একই বিভাগের একজন নারী শিক্ষার্থীকে ক্লাসের কথা বলে ডেকে এনে র্যাগিং ও মানসিক হয়রানির ও অপমানের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সবাই লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী।
এদের মধ্যে ছাত্রদল কর্মী স্মরনের পক্ষ নিয়ে বেরোবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল আমিন একটি ফেইসবুক পোস্ট করেন । এছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব উল্লেখিত শাখা ছাত্রদলের অফিসিয়াল ফেইসবুকে এক বিবৃতিতে স্মরনের পক্ষ নেন শাখা ছাত্রদল।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংবাদ প্রকাশ হলে সেই ছাত্রদল কর্মী কে অভিনন্দন জানিয়েও স্ট্যাটাস দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহবায়ক আল আমিন ইসলাম।
অভিযোগকারী ওই শিক্ষার্থী বিভাগীয় প্রধান বরাবর দায়ের করা অভিযোগে জানান, ক্লাসের কথা বলে ঐ শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে দুই ঘণ্টা আটকে রেখে ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং ব্যাক্তিগত বিষয় টেনে এনে মানসিক হয়রানি ও অপমান করা হয়।এর আগেও র্যাগিং এর ভয়ে ক্যাম্পাস ছাড়তে ছেয়েছিলেন এই শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় গত ১০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) ওই শিক্ষার্থী বিভাগীয় প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ওই অভিযোগের একটি কপি সাংবাদিকদের হাতে এসেছে।
সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের ৮/১০ জন শিক্ষার্থী মিলে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও ডেইলি ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন কে মঙ্গলবার রাতে সাড়ে ৯টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবরুদ্ধ করে হুমকি ধামকি প্রদান করেন।
পরে এ কর্মরত অন্য সাংবাদিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা,প্রক্টর ও উপাচার্য আসলে ঘটনার সমাধান হয়ে যায়।
এক পর্যায়ে ছাত্রদলের আহবায়ক আল আমিন উপস্থিত থাকা সাংবাদিক কটাক্ষ এবং ছাত্র উপদেষ্টা কে কটাক্ষ করে কথা বলেন।
ঘটনার কিছুক্ষন পর ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক তার ফেইসবুক পোস্ট করে ওই অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে শুভকামনা জানান।তিনি পোস্টে লিখেন “স্মরণ শুধু ছাত্রদলের একজন কর্মী নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী কন্ঠস্বর।শিক্ষার্থীদের জন্য লড়াই করে অল্প সময়ে সে ব্যাচের বন্ধুমহল এবং জুনিয়রদের মধ্যে তার স্থান করে নিয়েছে। জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই।নোংরামি বন্ধ হোক। শুভ কামনা স্মরন”।
এ দিকে এই শিক্ষার্থীর অভিযোগের পর ছাত্রদল কর্মী স্মরনসহ বেশ কয়েকজন মিলে ঐ নারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়,তারা ওই নারী শিক্ষার্থীকে ত্রিশ মিনিটের জন্য মাঠে ডাকেন এবং মুক্ত আলোচনা করেন, পরবর্তীতে তারা শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা সাতটায় ম্যাচে পৌছে দেন। এ ঘটনায় তারা সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
এ বিষয়ে লোক প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো: মুজাহিদুল ইসলাম বলেন,জি আমরা একটা অভিযোগ পত্র পেয়েছি।সেখনে ১৭ব্যাচের এক মেয়ে ১৬ব্যাচের কয়েকজনের নামে অভিযোগ করেছে।এছাড়াও পরবর্তীতে ১৬ব্যাচের সকলে ওই মেয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।আমরা বিষয় টি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে শৃঙ্খলা বোর্ডে পাঠাবো সুষ্ঠু তদন্তের জন্য।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো শওকত আলী বলেন,আমরা এটা নিয়ে তদন্ত করব।যে অভিযুক্ত প্রমাণিত হবে তাকে আমরা এক সেমিস্টার হলেও বহিষ্কার করব।








