বেঁচে থাকার জন্য শরীরে ৪ থেকে ৬ লিটার রক্ত প্রয়োজন। নিজের প্রয়োজন মতো রক্ত আমাদের শরীরে তৈরি হয়। কিন্তু কোনো অসুখ, অপারেশনে রক্তক্ষরণ বা দুর্ঘটনায় রক্তপাত হলে শরীরে যখন রক্ত কমে যায়, তখন বাইরে থেকে রক্ত দেয়ার প্রয়োজন হয়। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা চিন্তা করি পরিবারের লোকদের কাছ থেকে রক্ত নিলে সেটা হয়তো নিরাপদ হবে। কিন্তু আসলেই কি নিকট আত্মীয়ের থেকে রক্ত নিলে সেটা নিরাপদ? এমন প্রশ্ন হয়তো আপনার মাথায় আসেনি কখনো।
চলুন জেনে নেই আসলেই এটি নিরাপদ কিনা-
১. নিকট আত্মীয় অর্থাৎ মা–বাবা, সন্তান, ভাইবোনের রক্ত নিলে এক ধরনের গুরুতর প্রতিক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে। যাকে বলে ‘ট্রান্সফিউশন অ্যাসোসিয়েটেড গ্রাফট ভার্সাস হোস্ট ডিজিজ’। যদিও এই রোগ খুব বিরল, কিন্তু এই রোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর ঝুঁকি ৯০ শতাংশ।
২. বয়স্ক কিংবা হৃৎপিণ্ডের অস্ত্রোপচার হয়েছে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। তাদের ক্ষেত্রে নিকট আত্মীয়ের রক্তের সম্পূর্ণ অংশ (হোল ব্লাড) গ্রহণ করা হলে মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে।
৩. নিকটাত্মীয়ের রক্ত গ্রহণের দুই দিন থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে গ্রহীতার এই রোগ হতে পারে, যার ফলে ফুসকুড়ি, জ্বর বা ডায়রিয়া হয়। শরীরের ভেতরেও কিছু পরিবর্তন হতে পারে, যেমন যকৃৎ বড় হয়ে যেতে পারে, কমে যেত পারে রক্তের কোষ (লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা, অণুচক্রিকা)। এই রোগে পুরুষের মৃত্যুঝুঁকি বেশি।
৪. এই রোগে সাধারণত রক্তদাতা ও রক্তগ্রহীতার রক্তকণিকার ম্যাচিং বিন্যাস (এইচএলএ) এমন হয় যে গ্রহীতার রক্তের প্রতিরক্ষা প্রদানকারী কোষের কাছে রক্তদাতার কোষগুলোকে নিজের বলে প্রতীয়মান হয়। কিন্তু দাতার রক্তের প্রতিরক্ষা প্রদানকারী কোষের কাছে গ্রহীতার কোষগুলো শত্রু প্রতিপন্ন হয়। দাতার এই কোষগুলো গ্রহীতার শরীরে প্রবেশের পর সংখ্যা বৃদ্ধি করে গ্রহীতার কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়।
রক্ত নূন্যতম ২৪ ঘণ্টা ফ্রিজে থাকলে অনেক ব্যাক্টেরিয়া নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। তাই পরিবারের লোকদের থেকে রক্ত নিয়ে ঝুঁকি বাড়ানোর থেকে বাইরে থেকে পরিশুদ্ধ রক্ত নেয়া যায়।
এছাড়া অনেকেই মনে করেন রক্ত তৎক্ষণাত দিলে তা নিরাপদ কিন্তু তা মোটেই ঠিক না। রক্ত ১১/১৪ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। তথাকথিত ফ্রেশ ব্লাড পরিসঞ্চালন থেকে বিরত থাকাতে বলেন অনেক চিকিৎসক।
নিজেকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়ে নিকট আত্মীয়ের থেকে রক্ত নেয়া থেকে বিরত থাকুন। বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা মাধ্যম থেকে রক্ত নেয়াই শ্রেয়।








